”সিটিং সার্ভিসের নামে লোকাল বাসের ধান্দাবাজি”

Spread the love

বর্তমানে ঢাকার বিভিন্ন রুটের বাসগুলো এক অভিনব কৌশলে সাধারন জনগণ ও ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। আর সেই অভিনব কৌশলটির নাম হচ্ছে ”সিটিং সার্ভিস”।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত কয়েক মাস যাবত ঢাকার বিভিন্ন রুটে অনেক ফিটনেসবিহীন বাস শুধুমাত্র সিটিং সার্ভিস লেখা সম্বলিত স্টিকার লাগিয়েই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। এ বাসগুলোর মধ্যে অনেক বাসের সিট, জানালা ও ফ্যান কিছুই ঠিক নেই। এসব বাসের সিটে ঠিকমত বসা যায় না, জানালা ঠিক না থাকায় বৃষ্টির পানিতে যাত্রীদের গা ভিজে যায়, ফ্যান চলে না, আবার অনেক বাসে তো ফ্যানই নেই। এমতঅবস্থায় বাসগুলো তাহলে কিভাবে সিটিং ভাড়া আদায় করে ?

এইসব সিটিং বাসের অনিয়ম এখানেই শেষ নয়। তারা ছাত্রদের কাছ থেকে হাফ ভাড়া নেয়না। এমনকি অনেক সিটিং বাস ছাত্রদের গাড়িতেও উঠতে দেয় না। গভ. তিতুমীর কলেজের এক ছাত্র সজল খান ইমরান বলেন, ”এখন দেখি সব বাস নাকি সিটিং সার্ভিস। এগুলো স্টুডেন্টদের কাছ থেকে হাফ ভাড়া নেয় না। মহাখালী থেকে গুলিস্তান ও গাজীপুর থেকে যত বাস গুলিস্তান আসে একটাও হাফ ভাড়া নেয়না। যেমন আজমেরী।”

সিটিং সার্ভিস হওয়ার একটি অন্যতম শর্ত হচ্ছে দাড় করিয়ে যাত্রী নেয়া যাবেনা। কিন্তু সন্ধার পর খেয়াল করলে দেখা যায় অধিকাংশ সিটিং বাসই একদম ঠেসে ও দাড় করিয়ে যাত্রী নিচ্ছে। যাইহোক সন্ধায় ট্রাফিক জ্যামের কারনে গাড়ির তুলনায় যাত্রী বেশি থাকে। সবাই তাড়াতাড়ি বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় থাকে। আর তাই মানবতার খাতিরে বাসগুলো হয়তো যাত্রী দাড় করিয়ে নিতে পারে কিন্তু দাড়ানো যাত্রীদের কাছ থেকে তো তাহলে লোকাল ভাড়া নেয়ার কথা। কিন্তু না, এক্ষেত্রেও বাসাগুলো করছে ধান্দাবাজি। সবার কাছ থেকে ফুল ভাড়াই আদায় করছে।

এই বাসগুলোর আরেকটি ধান্দাবাজি হচ্ছে এগুলো নিজেদের ইচ্ছামত যেকোন সময় ডিরেক্ট গাড়ি হয়ে যায়। স্টামফোর্ড কলেজের ছাত্রী শাহানারা উর্মি বলেন, ” যখন জ্যামের কারনে বাস স্টপে গাড়ির তুলনায় যাত্রীর পরিমান বেশি থাকে তখন গুলিস্তান টু নারায়ণগঞ্জের গাড়িগুলো ডিরেক্ট গাড়ি হয়ে যায়। অর্থাৎ আপনি যেখানেই নামেন না কেন আপনাকে একদম শেষ স্টপেজের ভাড়া দিতে হবে। সেজন্য দেখা যায় ১০ টাকা ভাড়ার জায়গায় অনেক সময় ৫০ টাকা ভাড়া দিয়ে বাসায় যেতে হয়।”

বিভিন্ন রুটের বাস স্টপে বিভিন্ন যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা যায় যে, মোটামুটি সবাই এই তথাকথিত সিটিং সার্ভিসের শোষনে অতিষ্ট। সবাই এ সমস্যাগুলোর সমাধান চায়। তারা চায় যথাযথ কর্তৃপক্ষ সিটিং সার্ভিস নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করুক ও অনতিবিলম্বে তা কার্যকর করুক।

মো: ফয়েজ উল্লাহ্
প্রভাষক, ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা
স্টামফোর্ড কলেজ, ঢাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *