চরমপন্থার হুমকি থেকে কেউ নিরাপদ নয়

Spread the love

অনলাইন ডেস্ক: বিশ্বায়নের যুগে চরমপন্থার হুমকি থেকে কেউ নিরাপদ নয়। গত বৃহস্পতিবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ‘সংঘাতময় চরমপন্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপত্তা-হুমকি এবং সরকার ও সুশীল সমাজের করণীয়’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। ইউরোপীয় বাংলাদেশ ফোরাম (ইবিএফ) এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ধর্মীয় মৌলবাদী চরমপন্থাসহ সব ধরনের জাতিগত দ্বন্দ্ব-সংঘাত আজ কেবল দক্ষিণ এশিয়া কিংবা একটি অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর ক্ষতিকর প্রভাবের সম্মুখীন ইউরোপসহ সব অঞ্চলের মানুষই। তাই সংঘাত ও চরমপন্থা প্রতিরোধে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

ইউরোপীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন ইবিএফ সহসভাপতি বিকাশ চৌধুরী বড়ুয়া। ইবিএফ সভাপতি আনসার আহমেদ উল্লাহর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট উন্নয়নকর্মী এবং মানবাধিকার কর্মী আসিফ মুনির। প্রথম অধিবেশনে ‘দক্ষিণ এশিয়ায় সংঘাতের রাজনৈতিক অর্থনীতি’ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জার্মানির হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া ইনস্টিটিউটের সহযোগী সদস্য ড. ভোলফগাঙ পেটারসিঙ্গেল। বক্তব্য দেন ব্রাসেলসভিত্তিক উইলফ্রিড মারটেন্স সেন্টার ফর ইউরোপিয়ান স্টাডিজের অতিথি গবেষক ড. থমাসোভিরগিল। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জার্মানির আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ডয়চে ভেলের এশিয়া বিভাগের প্রধান দেবারতি গুহ।

সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ইবিএফ উপদেষ্টা ড. আহমেদ জিয়াউদ্দীন। ‘বাংলাদেশে মৌলবাদ :পর্দা উন্মোচন’ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশের বন্ধু খেতাবপ্রাপ্ত ব্রিটিশ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্নেষক ক্রিস ব্ল্যাকবার্ন। বক্তব্য দেন নেদারল্যান্ডসের সংসদ সদস্য নিলস ফান ডেন বার্গ, ইতালি থেকে নির্বাচিত ইউরোপীয় সংসদ সদস্য ব্রান্দোবেনিফি, বেলজিয়ামে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব ফখরুদ্দীন আহমেদ, গ্লোবাল সলিডারিটি ফর পিসের বেলজিয়াম কো-অর্ডিনেটর এম এম মোর্শেদ, ড. ফারুক মির্জা, নেদারল্যান্ডসের আহমাদিয়া সম্প্রদায়ের নেতা কাওসার আহমেদ, সেক্যুলার ফোরাম সুইজারল্যান্ডের সভাপতি খলীলুর রহমান চৌধুরী, লেখক প্রিয়জিত দেব সরকার, বেলজিয়ামের কমিউনিটি নেতা বজলুর রশীদ বুলু এবং জার্মানির কমিউনিটি নেতা রোকেয়া সুলতানা রোথে এবং কামাল ভূঁইয়া।

বক্তারা ইউরোপ, এশিয়াসহ বিশ্বের সব অঞ্চলে চরমপন্থা প্রতিরোধে সমাজের প্রতিটি স্তরে বিশেষ করে তরুণ ও যুব সম্প্রদায়ের মাঝে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমাজের সঙ্গে একাত্মতা ও সম্মানজনক অবস্থানে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসূচি এবং পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।