বাবার বিক্রি করা সন্তান ফিরে পেলেন মা….

Spread the love

ঋণের দায় হতে মুক্তি পেতে স্বীয় সন্তানকে বিক্রি করে দিয়েছিলেন বাবা। এরপর কেটে যায় দীর্ঘ তিনমাস। বুধবার দুপুরে বিক্রি হওয়া ছেলেটিকে তার মায়ের কোলে তুলে দেন রাউজান থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেপায়েত উল্লাহ ও নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শেখ জাবেদ মিয়া।

উদ্ধারকৃত ছেলেটির নাম মোহাম্মদ রাব্বি (৭)। সে মহেশখালীর ৪নং শাপলাপুর ইউনিয়নের মৃত বদিউল আলমের কন্যার নাছিমা আক্তার (২৮) ও কুমিল্লার লাঙ্গলকোট থানার ১ নং ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের মৃত হাজী আব্দুল মতিনের ছেলে আহাছান উল্লাহ বড় সন্তান।

জানা গেছে, গত জুলাই মাসের ২ তারিখ ছেলেটির বাবা আহাছান উল্লাহ ছেলেটি ৫২ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি চার সন্তানের জননীর কাছে বিক্রি করে দেন। গত ১লা অক্টোবর রাত ৮টার দিকে রহিম বিন হোসেন পরিচয়ে এক যুবক দৈনিক ইত্তেফাকের রাউজান (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতাকে ফোনের মাধ্যমে জানান, মহেশখালী একটি ছেলেকে তার বাবা নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কচুখাইন এলাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন। ছেলেটি উদ্ধারের জন্য তিনি সহায়তা কামনা করেন। রাত ১০ টার দিকে ছেলে বাবা, মা, নানী, মামা ও স্থানীয় গ্রাম পুলিশ রুহুল কাদেরকে সঙ্গে নিয়ে অটোরিকশা যোগে যুবকটি রাউজান উপজেলার পথেরহাটে আসেন। ২ অক্টোবর দুপুরে ছেলেটিকে তার মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আরো পড়ুন: পেঁয়াজ আসছে শত শত টন

জাগের হোসেন জানান, আহাছান উল্লাহ দীর্ঘদিন তার অধীনে দিনমজুরের কাজ করতো। একদিন সে আমাকে জানালেন তার পূর্বের পরিবারের সাত বছরের একটি ছেলে আছে। ছেলেটি মা মারা গেছে। তার সৎ মা তাকে নির্যাতনে করেন। সে তার মা মরা ছেলেটি বিক্রি করবেন। তখন তার নিকটাত্মীয় আবুধাবী প্রবাসী মোরশেদ খানের স্ত্রী চার কন্যা সন্তানের জননী বাচু আক্তারের জন্য ৫২ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেলেটিকে কিনে নেন। এখন ছেলেটির মা দাবি নিয়ে এসেছে। তাই আমরা ছেলেটি দিয়ে দিলাম। আমাদের কোন দাবি নেই।

ছেলেটির বাবা আহাছান উল্লাহ জানান, আমি বিভিন্ন সংস্থা হতে ঋণ নিয়ে ভ্যানগাড়ি করে তরকারি ফেরি করতাম। পরে ঋণের টাকা পরিশোধের চাপে পড়ে ছেলেটিকে বিক্রি করে দিয়েছিলাম।

ছেলের মা নাছিমা আক্তার বলেন, আজ হতে তিন মাস পূর্বে তার ছেলে বাবা তাদের মহেশখালী হতে নগরীর বহদ্দার হাটে নিয়ে এসে একটি আবাসিক হোটেলে উঠেন। এর একদিন পর সকালে আমার অগোচরে ছেলেটি হারিয়ে যায়। এই সময় আমার স্বামীকে ফোনে জানালে তিনি এসে কান্নাকাটি করে খুঁজতে থাকেন। আশেপাশে এলাকায় মাইকিং করেন। এবং বৈদ্য-কবিরাজের কাছে হাজিরা দেখেন। পরে জানতে পারি তার বাবা ছেলেটিকে বিক্রি করে দিয়েছে। এই বিষয়ে আমার প্রতিবেশী ভাই রহিম বিন হোসেন জানালে সে কৌশলে আমার স্বামীকে শহর হতে মহেশখালীতে এসে ছেলে বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করে তাকে নিয়ে রাউজানে আসেন। এখন আমি আমার ছেলেকে ফিরে পেয়েছি।

রহিম বিন হোসেন দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন রাউজান থানা পুলিশ ও রাউজানের ইত্তেফাক সংবাদদাতার সহায়তায় আমরা আমার প্রতিবেশী বোনের ছেলেকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হই। এজন্য নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শেখ জাবেদ মিয়া ও ইত্তেফাক প্রতিনিধির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

এ বিষয়ে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেপায়েত উল্লাহ দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, গত মঙ্গলবার রাতে মহেশখালী হতে কিছু লোক থানায় এসে জানান একটি ছেলেকে তার বাবা রাউজানে বিক্রি করে দিয়েছে। পরে রাতে নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ছেলেটিকে উদ্ধার করে দেন। আমরা ছেলেটিকে তার মায়ের কোলে তুলে দিয়েছি।