কানাডার সিবিসি চ্যানেলে কবি আসাদ চৌধুরী অভিনিত মর্মস্পর্শী ‘মাদার টাং’

Spread the love

২১ সেপ্টেম্বর শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় কানাডার জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যম কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন অর্থাৎ সিবিসি টেলিভিশনে প্রচারিত হলো বাংলাদেশি-কানাডিয়ান নির্মাতা নাদিম ইকবালের প্রামাণ্যচিত্র ‘মাদার টাং’। যাতে অভিনয় করেছেন কবি আসাদ চৌধুরী এবং তার নাতনি রাইদা ফাইরোজ মিষ্টি।

ইতিপূর্বে নাদিম তার মাত্র ১১ মিনিটের হৃদয় নাড়িয়ে দেওয়া প্রামাণ্যচিত্র ‘মাদার টাং’ আমেরিকা, কানাডা, ডেনমার্ক, স্পেন, জার্মানি, ইতালি, বেলজিয়াম, রুমানিয়া, মেক্সিকো এবং পর্তুগাল থেকে ৪টি পুরস্কার এবং ২৫টি সম্মাননা অর্জন করে সকলের দৃষ্টি কেড়েছেন। আলোচিত প্রামাণ্যচিত্রটি হলিউডের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইনডিপেন্ডেন্ট অ্যাওয়ার্ড’, ফেমাস ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ‘প্লাটিনাম অ্যাওয়ার্ড’, কলকাতার সিআইসিএফএফ থেকে ‘আউট সাইড এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে।

প্রামাণ্যচিত্রটির কাহিনী এরকম, প্রবাসী বাংলাদেশি মিষ্টি নামের মিষ্টি মেয়েটি ধীরে ধীরে কানাডিয়ান ইংরেজি সংস্কৃতির মধ্যে নিমজ্জিত হয়ে পড়ছে। বাংলা সংস্কৃতির মধ্যে তার শেকড় আর বিকাশ ও বেড়ে উঠা অন্য এক ভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে। এই দ্রবীভূত মাল্টিকালচারের মধ্যে তৈরি হয় গভীর এক অন্তর্দ্বন্দ্ব। বাহান্নের ভাষা আদোলনের বাংলা ভাষার খ্যাতিমান এক কবি যার লালিত স্বপ্ন বাংলা ভাষা ও বাংলা সংস্কৃতিকে পরম সৌন্দর্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এ লক্ষ্যে নানা গভীর ভালোবাসায় তার নাতি-নাতনীদের নিয়ে বসেন তার লেখাগুলো শোনানোর জন্য। তিনি জানাতে চান তাদের বাংলা ভাষার ইতিহাস, বাংলাদেশের ইতিহাস। কিন্তু দেখা যায়, খুব সহজ বাংলা শব্দ তাদের কাছে অজানা এমনকি ইতিহাসের গল্পের প্রতিও তাদের মনোযোগের অভাব।

মাদার টাং প্রসঙ্গে নাদিম ইত্তেফাককে বলেন, ‘বাঙালিরা ভাষার জন্য লড়েছে, রক্ত দিয়েছে এবং জাতী সংঘ থেকে বাংলা ভাষা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি পেয়েছে। কাছেই মাদার টাং’এর সঙ্গে বাংলা ভাষার নিবিড় বেদনা আছে, এবং তা একই সূত্রে গাঁথা।’

উল্লেখ্য, কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন মাদার টাং ছাড়াও বিভিন্ন দেশের ওপর নির্মিত আরও চারটি অভিবাসী সংক্রান্ত প্রামাণ্যচিত্র প্রচার করে।