8.6 C
New York
Saturday, December 4, 2021

Buy now

spot_img

পরের বিশ্বকাপের প্রস্তুতি!

অনলাইন ডেক্স: দেশের মানুষের প্রত্যাশা, মিডিয়ার একাগ্রতাকে শ্রদ্ধার চোখেই দেখেন রাসেল ডমিঙ্গো। বাংলাদেশের ক্রিকেট ক্রেজকে উপভোগও করেন। শুধু মেনে নিতে পারছেন না সমালোচনা। তার মতে, ম্যাচ না জিতলেও সুপার টুয়েলভে ভালো খেলেছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ খেলাকেই সামনে রাখছেন তিনি। এ দুই ম্যাচের হার দিয়ে ক্রিকেটারদের বিচার না করার অনুরোধ তার। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে টাইগার কোচ মেনেও নিলেন, ছোটখাটো ভুলের কারণে জেতা ম্যাচ হাতছাড়া হয়েছে। শেষ দুই ম্যাচে সুযোগ এলে ক্রিকেটাররা ভালোভাবেই কাজে লাগাবেন বলে বিশ্বাস তার।

শেষ দুই ম্যাচে মরিয়া হয়ে ভালো খেলতে চাওয়ার কারণও আছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজের আগে বিশ্বকাপ মঞ্চ থেকে কিছুটা আত্মবিশ্বাস নিয়ে যেতে চান। দেশে ফিরে বলার মতো কিছু অর্জন লাগবে। শেষ বেলায় এসে সেখানেই ফোকাস টাইগার কোচের, ‘বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে এখন পর্যন্ত একটি মাত্র জয়। সেখানে আর এক বা দুটি জয় যোগ করা গেলে ভালো হবে। শেষ দুই ম্যাচে সে চেষ্টা থাকবে।’ আসলে টি২০ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচ জেতেনি বাংলাদেশ। ২০০৭ সালে প্রথম টি২০ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুলরা। সেটি ছিল প্রথম রাউন্ডের ম্যাচ। সেবার সুপার এইটেও কোনো ম্যাচ জেতেনি। ২০১৪ সাল থেকে বাছাই পর্ব চালু হওয়ার পর থেকে সুপার টুয়েলভে হয় মূল বিশ্বকাপ। সেখানেও কোনো ম্যাচ জেতা হয়নি টাইগারদের।

মাহমুদউল্লাহরা সে বৃত্ত ভাঙতে চেয়েছিলেন এবার। বিধিবাম, সেই স্বপ্ন পূরণও কঠিন হয়ে পড়েছে। যদিও ডমিঙ্গোর বিশ্বাস, শেষ দুই ম্যাচের একটি হলেও জিততে পারবে দল- ‘আমরা প্রতিটি ম্যাচ জেতার জন্যই খেলি। দুঃখজনক হলেও সাবেক তিন চ্যাম্পিয়নের বিপক্ষে সেটা সম্ভব হয়নি। দুটি ম্যাচে খুবই ভালো ক্রিকেট খেলেছি। কিছু ভুলের কারণে জিততে পারিনি। কালও (আজ) জয়ের লক্ষ্য নিয়ে খেলব। নিজেদের সেরাটা খেলতে পারলে আশা করি, ভালো কিছু হবে।’

বিশ্বকাপের শুরুটাই ভালো হয়নি বাংলাদেশের। মাহমুদউল্লাহরা মানসিকভাবে পিছিয়ে পড়েছেন স্কটল্যান্ডের কাছে হেরে। ওমান ও পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে জিতলেও খুব ভালো খেলেনি। তারই প্রভাব পড়েছে সুপার টুয়েলভে। বাছাই পর্বে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে খেলা অন্য রকমও হতে পারত। অপেক্ষাকৃত কম শক্তির দলের সঙ্গে খেলতে পারতেন মাহমুদউল্লাহরা। টুর্নামেন্টের শুরুটা খারাপ করে নিজেদের পায়ে কুড়াল মেরেছেন নিজেরাই। টুর্নামেন্টে দল হিসেবেও ক্লিক করেনি। ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিংয়ে সমন্বিত পারফরম্যান্স হয়নি। নেতৃত্বের দুর্বলতাও চোখে পড়েছে। ওপেনিংয়ে জুটি না হওয়ায় পাওয়ার প্লে থেকে কাঙ্ক্ষিত রান পাওয়া যায়নি। শেষ ম্যাচ বাদ দিলে মনে রাখার মতো পারফরম্যান্স নেই লিটন কুমার দাসের। সুপার টুয়েলভে ম্লান ছিলেন তিন সিনিয়র। মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিক একটি করে হাফ সেঞ্চুরি পেলেও সাকিবের তাও নেই। সিনিয়র ত্রয়ীর ভালো না খেলাই কাল হয়েছে দলের। তারুণ্যের ক্রিকেটে তরুণরা সহজ ক্যাচ ফেলায় জিততে পারেনি বাংলাদেশ। রাসেল ডমিঙ্গোও মানছেন সেটা, ‘আমাদের এই দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড় তরুণ। তরুণদের এমন ভুল হতেই পারে। এখনও তারা শিখছে। আশা করি, সামনের বিশ্বকাপের আগেই সব ঠিক হয়ে যাবে।’

ওয়ানডের মতো টি২০-তেও বাংলাদেশের ভালো দল হয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখেন ডমিঙ্গো, ‘আট মাস আগেও বাংলাদেশ ১১ নম্বরে ছিল। সেখান থেকে এক লাফে ছয়ে উঠেছে। এটা সম্ভব করেছে এই ছেলেরাই। ওরা ভালো ক্রিকেট খেলে সিরিজ জিতেছে। বিশ্বকাপেও ভালো ক্রিকেট খেলেছে তারা। রাতারাতি সবকিছু হবে না। সময় দিলে সব দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ।’

টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে এসে দেখা যাচ্ছে, টাইগারদের কৌশলেও কিছু ভুল ছিল। নিয়মিত অনুশীলন হয়নি। ফিল্ডিং প্র্যাকটিসে হাই ক্যাচিং নিয়ে কম কাজ হয়েছে গত এক মাসে। ব্যাটসম্যানরা দিনের পর দিন ভুল করে গেলেও শুধরে নেওয়ার চেষ্টা ছিল সামান্যই। যেটার খেসারত দিতে হলো বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে।

সম্পর্কিত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সোস্যাল প্লাটফর্ম

27,000FansLike
15,000FollowersFollow
2,000SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ সংবাদ