8.6 C
New York
Saturday, December 4, 2021

Buy now

spot_img

দেশে দক্ষ মানবসম্পদের অভাব রয়েছে: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

অনলাইন ডেক্স: দেশে এখনও প্রয়োজনীয় দক্ষ মানবসম্পদের অভাব রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম।

রোববার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ এবং সেন্টার অন বাজেট এন্ড পলিসির যৌথ উদ্যোগে ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা: বাংলাদেশের অর্জন ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক আয়োজিত দিনব্যাপী এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শামসুল আলম বলেন, ‘শ্রীলঙ্কা, ভারত, পাকিস্তানের লোকেরা আমাদের এখানে কাজ করে ৬-৭ বিলিয়ন ডলার নিয়ে যায়। তাতে সমস্যা নেই। কেননা ৭ বিলিয়ন ডলার নিয়ে যেতে তাদের ১৪ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলারের উৎপাদন করতে হয়। কিন্তু আমরা চাই আমাদের নিজস্ব কর্মশক্তি গড়ে উঠুক।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। স্বাগত বক্তব্য দেন ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসির পরিচালক অধ্যাপক ড. এম আবু ইউসুফ।

সেমিনারে প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম বলেন, ‘শিক্ষার মান উন্নয়ন ঘটাতেই হবে। না হলে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব আমাদের জন্য দূরুহ হয়ে পড়বে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণা বৃদ্ধি ও শিল্পের সাথে শিক্ষার সমন্বয় ঘটাতে হবে। বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি সহায়ক হবে। আমরা সফলতার সাথে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যম এর লক্ষ্যমাত্রাগুলো পূরণে এগিয়ে যাচ্ছি। বাংলাদেশের উন্নয়ন দৃষ্টিভঙ্গি আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।’

এসময় তিন দক্ষ মানব সম্পদ সৃষ্টি এবং শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালনের জন্য শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘সহস্রাব্দের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আমাদের এই অর্জনের স্বীকৃতিও প্রদান করেছে। পরিকল্পিতভাবে দেশকে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পরিকল্পনা কমিশন গঠন করেছিলেন।’

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য আখতারুজ্জামান টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে সমন্বিত প্রচেষ্টা চালানোর উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার। তাই আধুনিক শিক্ষা, যুগোপযোগী গবেষণা, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও নেতৃত্বের গুণাবলী অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে এবং দেশের উন্নয়নে কাজ করতে হবে।’

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে তিনি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন ও সামাজিক সমতা নিশ্চিত করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন এবং সুস্থ পরিবেশ গড়ে তোলা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য জরুরি। এক্ষেত্রে অগ্রগতি সাধন করায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই ‘এসডিজি প্রোগ্রেস অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘জুয়েল ইন দ্যা ক্রাউন অফ দ্য ডে’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। এই অ্যাওয়ার্ড টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে আমাদের অনুপ্রাণিত করবে বলে উপাচার্য আশা প্রকাশ করেন।

সম্পর্কিত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সোস্যাল প্লাটফর্ম

27,000FansLike
15,000FollowersFollow
2,000SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ সংবাদ