8.6 C
New York
Saturday, December 4, 2021

Buy now

spot_img

আফগানিস্তানে অভাবের তাড়নায় মেয়েকে বিক্রি করল বাবা

অনলইন ডেক্স: আফগানিস্তানের ধূসর চোখের ৯ বছরের শিশু পারওয়ানা মালিক। চার বছর ধরে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বাদগিস প্রদেশে বাস্তুচ্যুতদের জন্য নির্মিত অস্থায়ী শিবিরে পরিবারের সঙ্গে থাকে সে। ঘরের পাশে ধুলার মধ্যে বন্ধুদের সঙ্গে হাসি মুখে খেলাধুলা করে। কিন্তু ঘরে ফিরতেই তার হাসি মিলিয়ে যায়। সে জানতে পারে, ‘বাল্যবধূ’ হিসেবে অপরিচিত ব্যক্তির কাছে তাকে বিক্রি করে দিয়েছে তার পরিবার। এর কয়েক মাস আগে পারওয়ানার তিন বছরের বড় বোনকেও বিক্রি করা হয়।

গত ২২ অক্টোবর পারওয়ানা বলে, ওই ব্যক্তির বলেছে তার বয়স ৫৫ বছর। কিন্তু পারওয়ানার মনে হয়েছে, তিনি একজন ‘বৃদ্ধলোক’। তার চোখের পাতা ও দাড়ি পেকে গেছে। তার ঘরে স্ত্রী হয়ে গেলে মারধরের শিকার হওয়ার ভয়ে আছে পারওয়ানা। কিন্তু তার বাবা-মা বলেন, এছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই। খবর সিএনএনের

মানবিক সহায়তা ও অল্প রোজগারে নির্ভর করে বেঁচে আছে পারওয়ানার পরিবার। কিন্তু গত ১৫ আগস্ট তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসার পর তাদের জীবন কঠিন হয়ে ওঠে। কারণ তালেবান আসার পর আন্তর্জাতিক সহায়তা তলানিতে গিয়ে ঠেকে। দেশটির অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ধসে পড়ে। এতে প্রতিদিনকার খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খাচ্ছে তাদের মতো অনেক পরিবার।
সমবয়সীদের সঙ্গে দড়ির লাফ লেখছে পারওয়ানা -সিএনএন

গত ২৪ অক্টোবর কোরবান নামের ওই বয়স্ক লোক পারওয়ানার ঘরে আসে। তিনি ভেড়া, জমি ও অর্থ মিলিয়ে পারওয়ানার বাবাকে দুই লাখ আফগানি মুদ্রা দেন- যা মাত্র ২ হাজার ২০০ মার্কিন ডলারের সমান। এরপর তিনি পারওয়ানাকে নিয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িতে করে চলে যান।

পারওয়ানার বাবা আবদুল মালিক জানান, লজ্জা, অপরাধবোধ আর দুশ্চিন্তায় মন ভেঙে যাওয়ায় তিনি রাতে ঘুমাতে পারেন না। মেয়েকে বিক্রি না করার জন্য সব চেষ্টা করেছেন। অনেক জায়গায় কাজ খুঁজেও পাননি। আত্মীয়স্বজনের কাছে ধার করেছেন। তার স্ত্রী প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খাবার ভিক্ষা করেছেন। এত কিছু করেও পরিবারের জন্য খাবার জোগাতে পারছিলেন না।

তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিবারের আটজন সদস্যকে বাঁচাতে হলে মেয়েকে বিক্রি করতেই হতো।’

পারওয়ানাকে কিনলেও এটাকে বিয়ে বলতে চান না কোরবান। তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রী পারওয়ানাকে দেখাশোনা করবে। তাকে সে নিজের সন্তানের মতোই দেখে রাখবে। পারওয়ানার বাবার অর্থের প্রয়োজন। সে আমার বাসায় কাজ করবে। আমরা তাকে মারধর করব না। সে আমাদের পরিবারের একজন হয়েই থাকবে।’

সম্পর্কিত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সোস্যাল প্লাটফর্ম

27,000FansLike
15,000FollowersFollow
2,000SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ সংবাদ