ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পারাপার হতে চাঁদা দিতে হয়

Spread the love

মাসুদ পারভেজ, রৌমারী(কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: উত্তরাঞ্চলের ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা কুড়িগ্রামের নদ-নদীতে বিচ্ছিন্ন দুটি উপজেলা রাজিবপুর ও রৌমারী। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নিত্য প্রয়োজনে প্রতিনিয়ত ঢাকা-রৌমারী মহাসড়ক দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের সাথে যোগাযোগের সংযোগ একমাত্র সড়ক এটি ।

মহাসড়কের উন্নয়নে জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ডাংধরা ইউনিয়নে গারোহারি নামক স্থানে একটি ব্রীজ নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ায় বন্ধ রয়েছে বাস-মিনিবাস, ট্রাক, মালবাহী ভারি যান চলাচল। এতে দুই উপজেলার লক্ষ লক্ষ মানুষ চরম ভোগান্তি ও হতাশায় দিন পার করছে। রাজিবপুর-রৌমারীর ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, ঠিকাদার ও কদমতলার স্থানীয় গুটি কয়েকজন লোকের স্বার্থ্য হাসিলের লক্ষ্যে বেইলী ব্রীজের পাটাতন সরিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠায় বন্ধ করা হয় ব্রীজটি। যার ফলে উত্তরাঞ্চলের দুই উপজেলার ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ বিপাকে পরে যায়। ঈদুল আযহা সামনে তবুও বন্ধ মহাসড়ক, কোরবানির পশু খামারীরা ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে পারছে না। গরু প্রতি লোকসান গুনতে হচ্ছে ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা। সরেজমিনে গিয়ে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন, আলমগীর, দুলালসহ অনেকেই জানান, সামনে ঈদ ব্রীজ বন্ধ, প্রত্যেকটি মালামাল ট্রাক থেকে নামিয়ে ভ্যান দিয়ে পার করছি। এতে খরচ বেশি হচ্ছে, সময় বেশি লাগছে। ব্রীজটি খুলে দিলে কষ্ট ও টাকা বাঁচ তো।
ঠিকাদারের লোকজন বলছেন, গাড়োহাড়ি ব্রীজ নির্মাণে বিকল্প সড়কের যে ব্রীজ নির্মাণ করা হয়েছে বন্যার কারণে সেটি দূর্বল হয়ে পড়েছে। বড় বড় ট্রাক ও দুরপাল্লার বাসগুলো সে ব্রীজে অতিক্রম করলে যে কোনো সময় দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। ফলে সাময়িকভাবে ব্রীজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
রৌমারী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল মতিন বলেন, প্রায় ৮০টি দুরপাল্লার বাস চলাচল করতে দিচ্ছে না ঠিকাদারের লোকজন। এতে চালক ও শ্রমিকরা ব্রীজের রাস্তায় বাসে রাতযাপন খাওয়া দাওয়া করতে হচ্ছে। চালকের অভিযোগ তাদের ঘুম হচ্ছে না। এতে দূর্ঘটনার আশঙ্কা থাকছে।

এ ব্যাপারে জামালপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শুকনো সময়ে বেইলি ব্রীজ নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু বন্যার পানি কারনে নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। তবে আগামী দু’একদিনের মধ্যে ব্রীজটি মেরামত করে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।