‘নতুন গান মানেই নতুন চ্যালেঞ্জ’

Spread the love

অনলাইন ডেস্ক: কুমার বিশ্বজিৎ। নন্দিত কণ্ঠশিল্পী ও সংগীত পরিচালক। করোনার এই মহামারিতে যারা দিন-রাত নিবেদিত থেকে মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন, সেই সম্মুখযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সম্প্রতি একটি গান গেয়েছেন তিনি। এই গান ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হলো তার সঙ্গে-

দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই কি করোনার সম্মুখযোদ্ধাদের অবদান নিয়ে গান গাইলেন?

হ্যাঁ। এক ধরনের দায়বদ্ধতা থেকেই ‘বাংলাদেশ পুলিশ’ শিরোনামের গানটি গেয়েছি। করোনায় সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে চিকিৎসকের পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকার শেষ নেই। মানুষ যখন করোনা আতঙ্কে ঘরে, পুলিশ তখন সব ভয় উপেক্ষা করে বাইরে সামলেছেন। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধ থেকেই মূলত এই উদ্যোগ। ইসতিয়াক আহমেদের লেখা গানের কথা এবং চিরকুটের ইমন চৌধুরীর কম্পোজিশন দারুণ হয়েছে। এতে সামিনা চৌধুরী, তাহসান ও কোনাল কণ্ঠ দিয়েছেন। আমাদের ভয়েস নেওয়া শেষ। এখন বাকি কাজ শেষ হলেই গানটি সবাই দেখতে ও শুনতে পারবেন।

সামনে নতুন কোনো গান প্রকাশ পাবে?

কিছুদিন আগে আর্মিদের নিয়ে লেখা একটি গানে কণ্ঠ দিলাম। সেটি সামনে প্রকাশ পাবে। এর বাইরে করোনার কারণে আর কোনো গান গাইনি। রেকর্ডিংয়ের সমস্যার কারণেই সেটি সম্ভব হচ্ছে না। আমার নিজের স্টুডিও আছে। কিন্তু দুই পক্ষেরই সাবধানতার কথা বিবেচনা করে এ সময়ে বাইরের কোনো রেকডিস্ক আনতে চাচ্ছি না। তাই ছেলেকে দিয়ে গানের রেকর্ডিং করছি। কিন্তু ওর গানের প্রতি অতটা আগ্রহ নেই। তাই রীতিমতো অনুরোধ করে ওকে দিয়ে কাজ করাতে হয়। [হাসি]

অনেকে বলেন, আপনি কাজের বিষয়ে কিছুটা খুঁতখুঁত স্বভাবের। আপনার ছেলেও কি তাই বলেন?

ও প্রায়ই বিষয়টি নিয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করে। তবে এই স্বভাবটি আমার কাছে খারাপ লাগে না। কাজের বিষয়ে এই খুঁতখুঁতে স্বভাবটা চিরকাল থেকেই যাবে। কেউ কেউ থাকেন, যাদের কোনো কিছুই শতভাগ মনের মতো হয় না। আমি তাদেরই একজন। যে কাজই করি, শেষ করার পর মনে হয়, এই জায়গাটা এমন না হয়ে এমন হতে পারত। এটা বদলানো যেত, ওটা আরেকটু আলাদা হতে পারত- এমন অনেক কিছুই মনে হয়। আসলে আমার কোনো কাজ শেষ হয়েও মনে হয়, অসমাপ্ত হয়ে আছে।

ক্যারিয়ারের শুরু থেকে নিরীক্ষাধর্মী কাজের প্রতি আপনার বিশেষ আগ্রহ। নতুন যে কোনো কিছু করতে চাওয়া কি চ্যালেঞ্জিং নয়?

অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং। তারপরও যে কোনো কাজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমার নিরীক্ষা চলতেই থাকে। যে জন্য শ্রোতার ভালো লাগা, মন্দ লাগার কথা ভেবে কিছুটা ভয়ে থাকি। যে ভক্তরা এতদিন আমার গানের মুগ্ধ শ্রোতা ছিলেন, শিল্পী জীবনের বাকিটা সময় তাদের পাশে পাব কিনা- এটাই বেশি ভাবি। তাই নতুন গানের আয়োজন মানেই আমার কাছে নতুন এক চ্যালেঞ্জ। আর চ্যালেঞ্জ নিতে আমি ভালোবাসি।

গানের কপিরাইট সংক্রান্ত আইন নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা হচ্ছে। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?

বিষয়টি ইতিবাচক। যিনি সৃষ্টি করবেন, তার রাইট থাকবে না- তা কী হয় নাকি! অবশ্যই এগুলো একটা সিস্টেমের মধ্যে আসা উচিত। কারণ শিল্পী-সংস্কৃতির লোকজন সব সময়ই অবহেলিত হয়। অথচ তার সৃষ্টিই কিন্তু তার সম্পদ। তারা যদি তাদের সৃষ্টির সেই ফসল বংশপরম্পরায় না পায়, তাহলে তো সেই সৃষ্টির মূল্য থাকল না। একজনের সৃষ্টির ফসল আরেকজন ভোগ করবে, এটা তো অন্যায়।