প্রকল্প বাস্তবায়ন বিলম্বে ক্ষোভ প্রধানমন্ত্রীর

Spread the love

অনলাইন ডেস্ক: বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের ঘটনায় ক্ষোভ এবং বিরক্তি প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি মনে করেন, এর পেছনে সমন্বয়হীনতা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে। বিষয়টি পর্যালোচনা করার জন্য পরিকল্পনা কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও তৎপর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সরকারপ্রধান। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠকে সংযুক্ত হন তিনি।

সভায় এক হাজার ১৩৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ছয়টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে সরকার দেবে এক হাজার ২৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা। বাকি ১০৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা বিদেশি ঋণ। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম প্রমুখ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
পরে অনলাইন ব্রিফিংয়ে একনেক বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী মান্নান। তিনি জানান, খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের সময় বৃদ্ধিসহ আরও কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতিতে প্রধানমন্ত্রী বিরক্তি এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কী কারণে সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন হয় না- এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিতে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

সভায় বাস্তবায়নকারী সংস্থার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতা এবং জটিলতার কথা বলা হয়েছে। এসব সমন্বয়হীনতা এবং জটিলতা দূর করতে বলেছেন সরকারপ্রধান। এ ছাড়া বিভিন্ন চরাঞ্চলে বাঁধ নির্মাণেও সাবধান হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বলেছেন, বাঁধ নির্মাণে যাতে একটি প্রকল্প করতে গিয়ে অন্য কাজের ক্ষতি না হয়। প্রকৃতির ইচ্ছার ওপর হাত দেওয়া যাবে না।

ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, কোথায় কী কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে সমস্যা হচ্ছে তা পর্যালোচনা করবে পরিকল্পনা কমিশনের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। তবে আইএমইডির কার্যক্রমেও দুর্বলতার কথা স্বীকার করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মূল্যায়নে দক্ষ লোকবলের সংকট রয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাবিত প্রকল্পে অযৌক্তিক অতিরিক্ত ব্যয় পরিকল্পনা কমিশন কীভাবে অনুমোদন করছে- এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পরিকল্পনা কমিশনে লোকবল সংকট আছে। এই সরকার অনেক প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এসব প্রকল্প প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করতে যত লোকের প্রয়োজন তার অর্ধেকও নেই এখন। এ কারণে প্রকল্প প্রস্তাবের প্রতিটি পাতা ভালো করে যাচাই করা সব সময় সম্ভব হয় না। এসব বিষয়ে সংশ্নিষ্ট সচিবদের সঙ্গে কথা বলা হবে। দায়ীদের বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হবে।

গতকালের বৈঠকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে- খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত), ‘লাঙ্গলবন্দ-কাইকারটেক-নবীগঞ্জ জেলা মহাসড়কের লাঙ্গলবন্দ থেকে মিনারবাড়ী পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প, চর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট প্রজেক্ট-ব্রিজিং প্রকল্প। এ ছাড়া কুমিল্লার তিতাস ও হোমনা উপজেলায় তিতাস নদী পুনর্খনন, গাইবান্ধা সদর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার গোঘাট ও খানাবাড়ীসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা যমুনা নদীর ডান তীরের ভাঙন থেকে রক্ষা প্রকল্প এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প।