সাইক্লোন আম্ফান: প্রভাবে ভোলায় ঘর-বাড়ি,রাস্তা-ঘাটের ক্ষতি

Spread the love

কামরুজ্জামান শাহীন, ভোলা প্রতিনিধি: সাইক্লোন আম্ফানের তাণ্ডবে ভোলায় ৪ শতাধিক ঘর-বাড়ি রাস্তা ঘাট ও গাছ-পালার আশিংক ক্ষতি হয়েছে। তবে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়-ক্ষতি হয়নি।

সাইক্লোন আম্ফান রাতভর তান্ডব চালিয়ে এখন অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার সকালের দিকে সাইক্লোন আম্ফানস্থল নিম্মচাপে পরিনত হয়ে আরো উত্তর-পূর্ব দিকে সরে গেছে। এছাড়া মোংলা, পায়রা সমুদ্রবন্দরসহ যেসব এলাকায় ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত ও ৯ নম্বর বিপদ সংকেত ছিল, সেটি তুলে ফেলা হয়েছে।

তার পরিবর্তে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ এই তথ্য সাংবাদিকদের জানান। আতঙ্ক আর উৎকন্ঠা কেটে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে জনজীবন।

সাইক্লোন আম্ফান ঝড়ে আউশ, পাট, চিনা বাদান ও সয়াবিনের কিছুটা ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করলেও কৃষি বিভাগ বলছে, যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে তাতে ফসলের ক্ষতির কোনো সম্ভাবনা নেই। জানা গেছে, জেলা সদর ও চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলার বেশ কিছু এলাকায় প্রায় ৪শতাধিক ঘর-বাড়ি ৫০ কিলোমিটার রাস্তা-খাট ও গাছ-গাছরার আশিংক ক্ষতি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল থেকে ফের জোয়ারে পানিতে ফের প্লাবিত হয়েছে বাঁধের বাইরের নিম্নাঞ্চলগুলো। এর মধ্যে রয়েছে চরফ্যাশনের ঢালচর, চর পাতিলা, চর নিজাম, মহাজনকান্দি, কলাতলীরচর, মদনপুরসহ বেশ কিছু এলাকা। তবে পানির চাপ কিছুটা কম।

চরফ্যাশন উপজেলার ঢালচর ইউনিয়ন বাসিন্দা শাহ আলম জানান, বৃহস্পতিবার সকাল জোয়ারে এসেছে এতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়ে পুরো এলাকা তলিয়ে যাওয়ার পর আবার নতুন করে জোয়ার এসে প্লাবিত হচ্ছে এলাকা। রাতের ঝড়ে ১০/১৫টি কাঁচা ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কুকরী মুকরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও চরফ্যাশন প্রেসক্লাবের সভাপতি সভাপতি আবুল হাসেম মহাজন জানান, ঝড়ে কুকরী মুকরী,চরপাতিলায় ২০টি কাঁচা ঘর, মাছের ঘের, ফসলি জমি ও প্রায় ৩০ কিলোমিটার কাচাঁ রাস্তার ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মনপুরা উপজেলার বাসিন্দা মাহাবুবুল আলম শাহীন বলেন, আম্ফানের প্রভাবে সাড়ে ৩শত ঘরসহ ২১ কি.মি কাঁচা রাস্তার আংশিক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া পুকুর-ঘেরের মাছসহ ফসলি জমিরও ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।