ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পানে’ পশ্চিমবঙ্গে ৭২ জনের মৃত্যু

Spread the love

অনলাইন ডেস্ক: ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ পশ্চিমবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশ জুড়ে ধ্বংসলীলা চালিয়েছে। দুই ২৪ পরগনাসহ দক্ষিণের জেলাগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে ‘আম্পানে’ মারা গেছেন ৭২ জন। এর মধ্যে শুধু কলকাতাতেই মারা গেছেন ১৫ জন।

কলকাতা শহরের বিভিন্ন জায়গায় গাছ পড়ে গেছে। পানি জমে গিয়েছে। কার্যত ৮০% এলাকায় বিদ্যুৎ নেই বললেই চলে। শহর জুড়ে প্রচুর লাইট পোস্টে, মোবাইল টাওয়ার পড়ে গিয়েছে। নেট ও মোবাইল পরিসেবা বন্ধ হয়ে গেছে। ভেঙে পড়েছে পুরোনো বেশ কিছু বাড়ি। 

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কলকাতা পৌরসভা, বিপর্যয় মোকাবিলা টিম ও বিদ্যুৎ সংস্থার কর্মীরা রাস্তায় নেমেছেন। ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রাণপণ কাজ করছেন তারা। 

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, দক্ষিণের জেলাগুলো কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড়ে রাজ্যে এখন পর্যন্ত ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের পরিবারকে আড়াই লাখ করে টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার নবান্ন সভাঘরে টাস্কফোর্সের বৈঠকে আম্পান মোকাবিলায় ১০০০ কোটি টাকার ফান্ড তৈরির ঘোষণা দেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে তিনি ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্ত পশ্চিমবঙ্গে আসার জন্য নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। 

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে বলবো একবার ভিজিট করে যান, দেখে যান কী ভয়াবহতা গিয়েছে।

তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আমিত শাহ ফোন করেছিলেন। ক্ষতিপূরণের অঙ্ক কেন্দ্রকে জানাবো। তারপর দেখা যাক কেন্দ্র কী দেয়। 

প্রসঙ্গত বুধবারই ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্ত দক্ষিণবঙ্গে ত্রাণ ও পুনর্গঠনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তা চান। তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে এই ঝড়কে না দেখে মানবিকতার দিক দিয়ে দেখুন।

আম্পানের ধাক্কায় সুন্দরবনে ভেঙেছে ঘরবাড়ি, ভেঙে গিয়েছে বাঁধ, উপড়ে গিয়েছে গাছ, তছনছ হয়ে গিয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে সজনেখালিরেঞ্জ থেকে সরিয়ে দিতে হয় ট্রাঙ্কুলাইজার টিম। উড়ে গিয়েছে ব্যাঘ্র প্রকল্পের বিস্তীর্ণ এলাকার ফেন্সিং। ফলে ঘরবাড়ি হারানোর পাশাপাশি বাঘের আতঙ্কে কাঁটা সুন্দরবনের জঙ্গল লাগোয়া গ্রামের বাসিন্দারা।

বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, চারদিকে বিপর্যস্ত অবস্থা। কোনও জায়গার সঙ্গে একটানা যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। যতটুকু খবর এসেছে তাতে প্রচুর ক্ষতি হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে। সেই কারণেই যতটা সম্ভব বাড়তি বেড়া ও জাল লাগানো হয়েছিল। জঙ্গল লাগোয়া গ্রামগুলোর কাছে রাখা হয়েছিল বাড়তি ট্রাঙ্কুলাইজার টিম। বিশেষ করে পাখিরালয়ের কাছে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু সেসব ভেঙে তছনছ হয়েছে।