ঝুঁকির মধ্যেও মমতা নিয়ে রোগীর পাশে

Spread the love

অনলাইন ডেস্ক: বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারি চলছে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে প্রতিদিনই আক্রান্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড হচ্ছে। গত চব্বিশ ঘণ্টায় দেশে আক্রান্তের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে গেছে। করোনা সংক্রমণের পর একদিনে এটিই আক্রান্তের সর্বোচ্চ সংখ্যা। আর সেবা দিতে গিয়ে গতকাল পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে নার্সের সংখ্যা প্রায় পাঁচশ’। কয়েকজন আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। অজানা এই ভাইরাসটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনাকেই তছনছ করে দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আজ মঙ্গলবার পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নার্স দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য- ‘বিশ্ববাসীর স্বাস্থ্যের জন্য নার্স গুরুত্বপূর্ণ।’
আধুনিক নার্সিংয়ের প্রবর্তক ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার জন্মদিন ১২ মে প্রতি বছর আন্তর্জাতিক নার্স দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। এবার করোনাকালে দিবসটি অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। করোনা আক্রান্ত রোগীর সেবা নিশ্চিত করতে গিয়ে এরই মধ্যে প্রায় পাঁচশ’ নার্স আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের অনেকে সুস্থ হয়ে আবার করোনা রোগীদের সেবায় নিয়োজিত হয়েছেন। কেউ কেউ কাজে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার পরও রোগীর পাশে থেকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন নার্সরা। তবে বিক্ষিপ্তভাবে কিছু অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এসবের মধ্যেই এবার দিবসটির আগে একটি সুখবর পেয়েছেন নার্সরা। করোনা দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী, ৫ হাজার ৫৪ জন নার্সকে নিয়োগ দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। আগামীকাল বুধবার তাদের পদায়নকৃত কর্মস্থলে যোগদান করতে বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক নতুন নিয়োগ পাওয়া নার্সদের অভিনন্দন জানিয়ে তাদের প্রতি করোনা আক্রান্ত রোগীদের সেবায় কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সমকালকে বলেন, আন্তর্জাতিক নার্স দিবসের আগে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে একসঙ্গে পাঁচ হাজারের বেশি নার্স নিয়োগ পেলেন। তাদের জন্য এটি একটি বড় সুখবর। আশা করি, করোনার এই দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানাতে তারাও আক্রান্ত রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করবেন।
বঞ্চিতরাও নিয়োগ পেতে চান : পাঁচ সহস্রাধিক নার্স নিয়োগের মধ্য দিয়ে ২০১৭ সালে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও যেসব নার্স চাকরি পাচ্ছিলেন না, তাদের বেকার জীবনের অবসান হলো। তবে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও পিএসসি ১৭৬ জন নার্স নিয়োগের সুপারিশ করেনি বলে অভিযোগ করেছেন বঞ্চিতরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও হাজার খানেক নার্স। যারা লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও সার্কুলার জারির পর নিবন্ধিত হওয়ার কারণে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নার্স জানান, ২০১৭ সালে নার্সিংয়ের নিয়োগে বেসিক বিএসসি ষষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা আবেদন করেন এবং তাদের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু পিএসসি নিয়োগের সার্কুলার জারির সময় তারা নিবন্ধিত ছিলেন না। সার্কুলার প্রকাশের পর কাউন্সিল পরীক্ষা শেষে তারা নিবন্ধিত হন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর তাদের মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। পরে আরেকটি আদেশে জানানো হয়, সার্কুলার জারির পর যারা নিবন্ধিত হয়েছেন তাদের প্রার্থিতা বাতিল গণ্য হবে। অপর এক নার্স বলেন, মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের আগে পিএসসির নির্দেশ অনুযায়ী তারা প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দেন। কিন্তু মৌখিক পরীক্ষার আগের দিন একটি আদেশ জারি করে তাদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। তার প্রশ্ন- তাহলে লিখিত পরীক্ষায় তাদের কেন অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার ছয় হাজার নার্স নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পিএসসি ৫ হাজার ৫৪ জনের চাকরির সুপারিশ করেছে। এরপরও ৯৪৬টি পদ শূন্য রয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে সুযোগ বঞ্চিত ওই নার্সদের মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে নিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইসমত আরা পারভীন সমকালকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, ছয় হাজার নার্সই নিয়োগ দেওয়া যেত। বঞ্চিত নার্সদের সমস্যাটি নিয়ে তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও পিএসসির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে তাকে জানানো হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও পিএসসির নির্দেশনা অনুযায়ীই পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পিএসসি কর্তৃপক্ষ অফিস খোলার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে।
ইসমত আরা পারভীন বলেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে গিয়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি নার্সরাও আক্রান্ত হয়েছেন। আমাদের দাবি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বাকি নার্সদেরও দ্রুততার সঙ্গে নিয়োগের ব্যবস্থা করবে। এতে বেকার নার্সদের কর্মসংস্থান যেমন হবে, তেমনি করোনা মোকাবিলায় তারাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবেন।
নার্সদের নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত পিএসসির সদস্য ও সাবেক জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহম্মেদ সমকালকে বলেন, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সবাইকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। বঞ্চিতদের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সময় সব কাগজপত্র দাখিল করতে হয় না। কিন্তু মৌখিক পরীক্ষার আগে সব কাগজপত্র দাখিল করতে হয়। কাগজপত্রে অসঙ্গতি পাওয়ায় তাদের মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি। সুতরাং বিষয়টি সেখানেই নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। এটি নিয়ে আর আলোচনা কিংবা কথা বলার অবকাশ নেই।
আক্রান্ত, তবু অক্লান্ত সেবায় নিয়োজিত :করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে এরই মধ্যে প্রায় ১০ হাজার নার্সকে পদায়ন করা হয়েছে। মৃত্যুভয় তুচ্ছ করে আক্রান্ত রোগীর পাশে থেকে তারা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এই সেবা দিতে গিয়ে গতকাল পর্যন্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানের ৩৭০ নার্স আক্রান্ত হয়েছেন। একইভাবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও প্রায় ২০০ নার্স আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালের এক নার্স জানান, নৈতিকতার জায়গা থেকেই তারা রোগীর সেবায় নিয়োজিত আছেন। শুরুর দিকে ভয় কাজ করলেও এখন তা কেটে গেছে। তবে থাকা-খাওয়া নিয়ে আগের মতো না হলেও এখনও কিছু সমস্যা রয়েছে বলে জানিয়েছেন অপর এক নার্স। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের এক নার্স জানান, তাদের থাকার জন্য যে হোটেল নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অত্যন্ত নিম্নমানের। খাবারের মানও খারাপ। একই অভিযোগ করেছেন রাজধানীর মুগদা হাসপাতালের কয়েকজন নার্স। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, শুরুতে কিছুটা সমস্যা থাকলেও এখন এ সমস্যার সমাধান হয়েছে।
এখনও নার্সরা অপ্রতুল :নতুন পাঁচ হাজার ৫৪ নার্স নিয়োগের মধ্য দিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগে নার্সের সংখ্যা ৩২ হাজারে দাঁড়িয়েছে। কয়েকদিন আগে নতুন করে দুই হাজার চিকিৎসকও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে এখন স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসকের সংখ্যা বেড়ে ৩০ হাজারে পৌঁছেছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী একজন চিকিৎসকের বিপরীতে তিনজন নার্স থাকতে হবে। এ হিসাবে অন্তত ৯০ হাজার নার্স থাকার কথা। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, দেশে চিকিৎসক ও নার্সের অনুপাত ১ : ১.২৩। এই ঘাটতির কারণে রোগীরা প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবার স্বাভাবিক গতি।
এ বিষয়ে চিকিৎসকের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী সমকালকে বলেন, নার্সিং পেশা এক সময়ে অত্যন্ত অবহেলিত ছিল। এখন এই পেশার মানোন্নয়ন করে দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা দেওয়া থেকে শুরু করে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা, জেলায় জেলায় নার্সিং কলেজ, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে নার্সিং শিক্ষা সম্প্রসারণের যত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সবই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একক সিদ্ধান্তে হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসকের পাশাপাশি নার্সদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নার্সদের সার্বক্ষণিক রোগীর সেবায় নিয়োজিত থাকতে হয়। তাদের পরিশ্রমও অনেক বেশি। রোগীর সার্বিক দেখভাল করে তারাই চিকিৎসককে অবহিত করেন। এ প্রক্রিয়াতেই চিকিৎসা নিশ্চিত হয়।
বিএমএর সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই মাহবুব সমকালকে বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে পাঁচ হাজারের ওপরে নার্স নিয়োগের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ। কারণ, স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি একটি টিম ওয়ার্ক। চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী- যার যার কাজের জন্য একটি সম্মিলিত পরিপূর্ণ টিম থাকতে হবে। অন্যথায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হবে না।
ধাপে ধাপে এগিয়েছে নার্সিং পেশা :স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে রহিমা খাতুন, সাহাজাদী হারুন, জোহরা বানু, আক্তার বানুর মতো কয়েকজনের হাত ধরে বাংলাদেশে এই পেশার যাত্রা শুরু হয়। সেই সময় নার্সিং পেশাকে বিশেষ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠা করতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নার্সিংয়ের জন্য পৃথক প্রশাসন কাঠামো তৈরি করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় ছয় হাজার নার্স নিয়োগ দেন। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গঠনের পর ২০০৯ সালে ১৬ হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর ২০১০ সালে দুই হাজার, ২০১৩ সালে চার হাজার ১০০, ২০১৬ সালে প্রায় ১০ হাজার এবং ২০১৮ সালে পাঁচ হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়। সর্বশেষ গতকাল আরও পাঁচ হাজার ৫৪ নার্স নিয়োগ পেলেন।
সংশ্নিষ্টরা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েই নার্সিং পেশার সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন হয়েছে। সেবা পরিদপ্তরকে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে রূপান্তর করা হয়েছে। নার্সদের দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদায় উন্নীতকরণ এবং প্রথম শ্রেণির পদ সৃষ্টির পাশাপাশি উচ্চতর শিক্ষা নিশ্চিতে এমএসসি নার্সিং কোর্স চালুসহ সরকারিভাবে নার্সিং কলেজ ও ইনস্টিটিউট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সিদ্দিকা আক্তার সমকালকে বলেন, বর্তমানে দেশে সরকারি ৬২টি নার্সিং প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ২১৬টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বাংলাদেশে প্রতিবছর সরকারি নার্সিং প্রতিষ্ঠান থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১১ হাজারের বেশি নার্স নার্সিং কাউন্সিল থেকে সনদপ্রাপ্ত হন।
দিবসের কর্মসূচি :করোনা মহামারির প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নার্স দিবসের সব কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান সেবামূলক কর্মসূচি পালন করবে। এর মধ্যে রয়েছে দুস্থদের মধ্যে খাবার, মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল শাখা নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কামাল পাটোয়ারী ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান জুয়েল জানান, দিবসটি উপলক্ষে তারা এক হাজার ২০০ দুস্থ মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করবেন।