বরুড়ায় ত্রান বিতরনে জনপ্রতিনিধিরা বিপাকে: সাংবাদিক এমডি. আজিজুর রহমান

Spread the love

সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের প্রার্দুভাবে সারাদেশে লকডাউন ঘোষনা করায় নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের পরিবারের লোকজন কর্মহীন হয়ে পড়েছে। সারাদেশের ন্যায় কুমিল্লা জেলার বরুড়া উপজেলায় লকডাউন চলমান থাকায় লাখ লাখ মানুষ খাদ্য সঙ্কটে ভোগছে।

জানা গেছে, বরুড়া উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়নে ৮৪ হাজার ৯‘শ ৫৯ পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে (৪% পার্সেন্ট) সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ব্যবসায়ীর সংখ্যা ৩ হাজার ৩‘শ ৯৯ পরিবার ছাড়া নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত প্রায় ৮১ হাজার ৫‘শ ৬০ পরিবার কর্মহীন অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছে।

এদিকে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান, সচিব ও ইউপি সদস্যরা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ৩৮ হাজার ৭শ ২০ পরিবারের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকটি নিয়ে তালিকা করেন। উল্লেখিত তালিকা উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা শাহিন হোসাইনের কাছে জমা দেন।

তালিকা জমার দেওয়ার ১০/১৫ দিন পর সরকারের পক্ষ থেকে তিন ধাপে ইউপি চেয়ারম্যানরা ইউনিয়ন ভিত্তিক চার শতাধিক পরিবারের জন্য সরকারি (চাউল) ত্রান গ্রহন করেন। গ্রহনকৃত ত্রান প্রত্যেক ইউপি চেয়ারম্যনারা, সচিব ও নিজ নিজ ওয়ার্ড এর ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে উপজেলার পৌরসভা ১৫টি ইউনিয়নের ৭ হাজার ৫০টি পরিবারের মাঝে বিতরন করেন।

সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, বরুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনিসুল ইসলাম ও প্রকল্প কর্মকতা শাহিন হোসাইনের মাধ্যমে সরকারের কাছ থেকে তিন ধাপে পৌরসভা ও ইউপি চেয়ারম্যানরা সর্বমোট ৬৭ হাজার ৫‘শ কেজি সরকারি (চাউল) ত্রান পেয়েছেন। ইউপি চেয়ারম্যনরা উল্লেখিত পরিমান চাউল নির্ধারিত তালিকা অনুস্বরন করে নিম্নবিত্ত পরিবারের মাঝে সুষম বন্টন করেন।

বরুড়ার ১৫টি ইউনিয়নের সচিবরা জানান, প্রত্যেক চেয়ারম্যানদের কাছে তিন ধাপে চার হাজার কেজি (৪ টন) সরকারি চাউল পাঠানো হয়। একেকটি ইউনিয়নে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত প্রায় আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার পরিবারের তালিকা করা হয়। এর মধ্যে প্রত্যেক ইউনিয়নে ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা সরকারি বরাদ্ধের চাউল বিভিন্ন ওর্য়াডের গ্রামগুলোতে চার শতাধিক পরিবারের মাঝে বিতরন করেন।

এছাড়াও জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ইউনিয়ন ভিত্তিক ২০ থেকে ৩০ পরিবারের জন্য বিশেষ একটি প্যাকেজের ত্রান সামগ্রীও সুষম বন্টন করা হয়। তালিকা অনুযায়ী অধিকাংশ পরিবার এখনো সরকারি চাউল পায়নি। যার কারনে মানুষ হতাগ্রস্ত হয়ে মনে করছে, ইউপি চেয়ারম্যান, সচিব ও ইউপি সদস্যরা চাউল সুষম বন্টন না করে, তাঁরা চাউল আত্নসাৎ করে অন্যত্র বিক্রি করে দিচ্ছে। বিষয়টি মোটেও এমন নয়। দুর্যোগটা সারাদেশে। সবকিছু গুছিয়ে আনতে সরকারের জন্য একটা সময়েরও প্রয়োজন। তাছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে চাউল আসলে সবাই পর্যায়েক্রমে পাবে বলে তারা মন্তব্য করেন। অন্যদিকে বরুড়ার গালীমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লায়ন রবিউল আলম ও শিলমুড়ী (দঃ) ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফারুক হোসাইন ভূইয়ার বিরুদ্ধেও প্রথম আলা পত্রিকার লগু এডিট করে ফেইক ফেইজবুক আইডি থেকে ভূল তথ্য প্রচার করা হয়েছে। এঘটনায় বরুড়া থানায় পৃথক দৃইটি অভিযোগ করা হয়।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান এসোসিয়েশনের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ রেজাউল করিম রেজু জানান, সরকারের পক্ষ বার বার সংবাদ মাধ্যমে মানুষকে জানানো হচ্ছে তাদের জন্য ত্রানের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে। ্আপনারা ঘর থেকে বের হবেন না। ত্রান আপনাদের কাছে পৌছে যাবে। খবরের সাথে বাস্তবতার যথাযথ মিল নেই। তালিকা অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি চাউলের সরবাহর কম হওয়ায় এক সঙ্গে সব পরিবারের কাছে পর্যাপ্ত ত্রান পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। ইতিমধ্যে সরকারের কাছ থেকে আসা চাউল বরুড়ায় তালিকা করা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ৩৮ হাজার ৭‘শ ২০ পরিবারের মধ্যে সর্বপরি ৭ হাজার ৫০ পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। আপনারা কেউ হতাস হবেন না। সরকারের কাছ থেক চাউল অথবা যেকোন ত্রান সামগ্রী আসলে পর্যায়েক্রমে তালিভূক্ত সবাই সহায়তা পাবেন।

এবিষয়ে উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা শাহিন হোসাইন বলেন, আমার কাছে সংগ্রীহিত তালিকা নিয়ম অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রেরণ করেছি। যতটুকু চাউল আসছে তা প্রত্যেক চেয়ারম্যনাদের মাধ্যমে ৪৭৪ পরিবারের মাঝে বিতরন করা হয়েছে। এছাড়াও চাউল না পাওয়া তালিকার মেজরটি ৩১ হাজার ৬‘শ ৭০ পরিবার পর্যায়ক্রমে পাবে কিনা সে বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি এবিষয়ে অবগত নন বলে সাংবাদিকদের জানান।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আনিসুল ইসলাম বলেন, তালিকা অনুযায়ী নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ৩৮ হাজার ৭‘শ ২০ পরিবারের মধ্যে কিছু অংশ ত্রান পেয়েছেন। পর্যায়ক্রমে বাকিরাও ত্রান পাবে। তিনি সবাইকে হতাগ্রস্ত না হয়ে, ত্রান না পাওয়া পর্যন্ত ধর্যধারন করার আহ্বান জানান।