প্রধানমন্ত্রীর প্যাকেজে সংকট কাটবে না: বিএনপি

Spread the love

অনলাইন ডেস্ক: করোনাভাইরাস মোকাবেলায় যে প্রণোদনা প্যাকেজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছেন তাতে চলমান সংকট কাটবে না বলে মনে করছে বিএনপি। দলটি বলেছে, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ প্রকৃতপক্ষে ঋণের প্যাকেজ। এতে দিন আনে দিন খায়- এমন মানুষদের অবহেলা করা হয়েছে। এই প্যাকেজ ব্যবসায়ীদের জন্য, গরিবের জন্য নয়।

রোববার গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন। তার উত্তরার বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি দলের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনটি বিএনপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে সরাসরি প্রচার করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের ঘোষিত ৭২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনার পুরোটাই ঋণ। এখানে অনুদান বলতে কিছু নেই। সব ঋণের প্যাকেজ। আবার এতে গরীব মানুষের জন্য কোনো কিছুই করা হয়নি। বিএনপির পক্ষ থেকে এসব প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারকে ১৫ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার দাবি করা হয়েছিল। সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছিলো- এটা অনুদান দিতে হবে। চিকিৎসক-নার্স, চিকিৎসাকর্মীদের প্রণোদনা দিতে হবে, ভাতা বাড়াতে হবে। পুরো স্বাস্থ্যখাতে প্রণোদনা বাড়াতে হবে। শুধুমাত্র ঋণ নয়। তাদেরকে অনুদান, ভাতা, বেতন বাড়িয়ে সহযোগিতা করতে হবে। কিন্তু যে বিষয়গুলো অত্যন্ত জরুরি, সেই বিষয়গুলো সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী কোনো কথা বলেননি। যারা রেমিট্যান্স পাঠান তাদের কোনো কথা এই প্রণোদনা প্যাকেজে নেই। গার্মেন্টস খাতের প্রণোদনা শ্রমিকদের কাছে যাবে কিনা তা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট নয়। ঘোষিত প্রণোদনায় স্বাস্থ্যখাতকে একেবারেই এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে, কোনো কথাই বলা হয়নি এখানে।

করোনা প্রভাবের সারাদেশকে পূর্ণ লকডাউন করা দরকার- এমন মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, যে ভয়াবহতা আসছে, এখনো অনুভব করতে পারছে না সরকার। আক্রান্তের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছেই। তাই এই মুহূর্তে পুরো দেশকে লকডাউন করা উচিত।

তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে যুদ্ধ করে এদেশ স্বাধীন করেছি, আমরা করোনাভাইরাসকেও ওইভাবে পরাজিত করবো। তবে তার জন্যে যে অস্ত্র দরকার সেগুলোতো আমরা পাচ্ছি না। ৮৭ ভাগ হাসপাতালে সাধারণ চিকিৎসা নেই। এই বিষয়গুলো সরকার নজর দিচ্ছে বলে আমরা দৃশ্যমান কিছু দেখছি না। অন্যদিকে কোনোখানেই সমন্বয় নেই। এই বিষয়গুলো জনগনের মধ্যে অনাস্থা তৈরি করেছে।’