যুক্তরাজ্যে পলিথিনের ‘পিপিই’ পরে সেবা দিচ্ছেন চিকিৎসকরা

Spread the love

অনলাইন ডেস্ক: যুক্তরাজ্যে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। কভিড-১৯ রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে দেশটির সরকার। হাসপাতালগুলোতে অভাব দেখা দিয়েছে প্রয়োজনীয় করোনা চিকিৎসা সরঞ্জামের। 

চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে দেশটির ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের কর্মীরা চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন ময়লা ফেলার ব্যাগ মাথায় দিয়ে। চূড়ান্তভাবে আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিচ্ছেন এমন ডাক্তাররা এখন ১৩ ঘণ্টা করে কাজ করছেন প্রতিদিন।

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে পিপিই বা ব্যক্তিগত সুরক্ষা দেয়া সরঞ্জামের অভাব এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সেখানে পিপিই’র অভাবে ময়লা ফেলার পলিথিন, প্লাস্টিকের অ্যাপ্রোন ও স্কিইং করার চশমা পরে সেবা দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই করোনাভাইরাস আক্রান্ত হতে পারেন এমন ব্যক্তির থেকে ২০ সেন্টিমিটারের মতো দূরত্বে থেকে কাজ করছেন ডাক্তাররা, যেখানে সাধারণ মানুষকে বলা হচ্ছে ২ মিটার হতে হবে ন্যূনতম দূরত্ব।

যুক্তরাজ্যের সরকার সরঞ্জাম বিতরণ নিয়ে যে ঝামেলা হচ্ছে তা স্বীকারও করেছে। এখন এই কাজের সাথে যুক্ত হয়েছে সশস্ত্র বাহিনী। সরঞ্জাম জায়গা মতো পৌঁছতে কাজ করে যাচ্ছেন তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সেখানকার এক চিকিৎসক বলেন, গত ১ এপ্রিল ১০ লাখ শ্বাসযন্ত্র রক্ষাকারী মাস্ক দিয়েছে যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা। তবে সেখানে মাথার সুরক্ষা ও গাউনের কথা বলা হয়নি।

ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস বলছে, তাদের কাছে স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিতরা করোনাভাইরাসে কর্মক্ষেত্রে সংক্রমিত হচ্ছে কি না সে বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।

ইউরোপে যে দুটি দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও এর ফলে মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি তাদের মধ্যে একটি স্পেন যেখানে সরকারি হিসেবে ২৭ মার্চ পর্যন্ত ৯৪০০ স্বাস্থ্যকর্মীর করোনাভাইরাস পজিটিভ নিশ্চিত। ৩০ মার্চ পর্যন্ত ইতালিতে সংক্রমিত স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা ৬৪১৪ জন।

যুক্তরাজ্যেও কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মী মারা গেছেন বলে জানা গেছে। পশ্চিম মিডল্যান্ডের একজন নার্স আরিমা নাসরিন মারা গেছেন করোনাভাইরাসে।

পূর্ব লন্ডনের হেলথ কেয়ার সহকারী থমাস হারভে, সেন্ট্রাল লন্ডনের প্রফেসর মোহাম্মদ সামি সৌশা, দক্ষিণের ড. হাবিব জাইদি, পশ্চিম লন্ডনের ড. আদিল এল তাইয়ার এবং লেস্টারের ড. আমজেদ এল হাওরানি মারা গেছেন।