খেলা নেই, তবুও খরচ গুনছে দেশি ক্লাবগুলো

Spread the love

অনলাইন ডেস্ক: করোনায় স্থবির গোটা বিশ্ব। স্থবির ক্রীড়াঙ্গন। এতে ক্ষতির মুখে পড়ছে ক্লাবগুলো। দেশি ক্লাবও এর বাইরে না। ইতোমধ্যে ইউরোপের শীর্ষ কয়েকটি ক্লাব সিদ্ধান্ত নিয়েছে, চলতি মৌসুমে ফুটবলারদের বেতন কাটার। করোনায় বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলও বন্ধ থাকায় কতৃপক্ষকে ভাবতে হচ্ছে বেতন কাটার এই কথা।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আকাশপথের যোগাযোগ বন্ধ করায় বাংলাদেশে ঘরোয়া লিগ খেলতে আসা বিদেশি ফুটবলার এবং কোচরা দেশে যেতে পারছেন না। আটকা পড়েছেন ক্লাবগুলোতে। বাফুফে প্রথমে ৩১ মার্চ পর্যন্ত লিগ স্থগিত করে। বেশিরভাগ ক্লাবই তাই ফুটবলারদের ক্যাম্পে রেখে দিয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতির অবনতি ঘটনায় এখন অনির্দিষ্টকালের জন্য লিগ বন্ধ করে দিয়েছে কমিটি। তাতেই বিদেশিদের নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে ক্লাবগুলো।

দেশি-বিদেশি ফুটবলার এবং কোচদের পেছনে প্রতিদিন ব্যয় হচ্ছে প্রচুর অর্থ। এপ্রিলে লিগ পুনরায় শুরু করা না গেলে বড় আর্থিক ক্ষতিতে পড়তে যাচ্ছে ক্লাবগুলো। এমন অবস্থায় খেলোয়াড়দের বেতন কাটার মতো সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানিয়েছে কয়েকটি ক্লাব।

প্রিমিয়ার লিগে খেলা ১৩টি ক্লাবের শীর্ষস্থানীয় ছয়টি ক্লাবেরই মোট মাসিক ব্যয় সাড়ে তিন কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে বসুন্ধরা কিংস, চট্টগ্রাম আবাহনী, সাইফ স্পোর্টিংয়ের মতো ক্লাবগুলো দল গঠন করার জন্য প্রতি মৌসুমেই কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে। খেলোয়াড়দের ক্যাম্পে রাখে উন্নত মান বজায় রেখে।

করোনায় আগামী দু-তিন মাস লিগ শুরু না হলে আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না বলে মনে করেন সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসির উদ্দিন চৌধুরী, ‘আসলে লিগ না হলে আমরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবো। তারপরও বর্তমান প্রেক্ষাপট দেখতে হবে। আগে তো জীবন, তারপর টাকা। যদি লিগ দু-তিন মাস পেছায়, আমরা খেলোয়াড়দের বেতন কাটা বা অন্য  বিষয় নিয়ে বসব। কারণ আমাদের প্রতি মাসে ৫০ লাখ টাকার মতো খরচ। কয়েক মাসে তাই বড় অঙ্কের ক্ষতির মধ্যে পড়ব।’

লিগে বড় বাজেটের দল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস। ক্লাবটির মাসিক খরচ হয় আনুমানিক এক কোটি টাকার মতো। ক্যাম্প বন্ধ থাকলেও বিদেশিদের অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া করে রাখতে হচ্ছে কিংসকে। তাদের পেছনে খরচা হচ্ছে বড় অর্থ। বসুন্ধরা ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ইমরুল হাসান বলেন, ‘আমাদের প্রতি মাসে খরচ হয় এক কোটি টাকা। লিগ যত বেশি পেছাবে, আমাদের ক্ষতিটাও তত বেশি হবে। লিগ না হলে অবশ্যই খেলোয়াড়দের বেতন কাটার মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারি আমরা।’

এছাড়া লিগ শুরু হতে হতে বিদেশিদের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও বিপদ বলে উল্লেখ করেন ইমরুল। করোনার প্রাদুর্ভাবে এই মৌসুমে লিগ বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের ম্যানেজার সালেহ জামান সেলিম, ‘আমরা একটি বড় ক্লাব। আমি মনে করি, এক-দুই মাস না পিছিয়ে এই মৌসুমে লিগটা বন্ধ করে দেওয়া হোক। আমরা খেলোয়াড়দের ছেড়ে দিলে ক্ষতিও কিছুটা কমবে বলে বিশ্বাস আমার।’

সেলিমের মতো সুর শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের ম্যানেজার আনোয়ারুল করিম হেলালেরও, ‘আমরা স্থানীয় খেলোয়াড়দের নিয়ে চিন্তা করছি না। চিন্তা বিদেশিদের নিয়ে। তারা সবাই মাসিক বেতনভুক্ত। এখন তাদের রেখে দিলে আমাদের খরচও বেড়ে যাবে। তাই আমি মনে করি, লিগ বন্ধ করে দেওয়া উচিত।’

তবে আবাহনী এখনই বেশি চিন্তা করার মধ্যে নেই। দলটির ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রুপুর মতে, ‘এখনও এসব নিয়ে আমরা ভাবছি না। আপাতত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখছি। খারাপ হলে তো আর লিগ শুরু হবে না। তখন করণীয় নিয়ে আমরা বসব। এখনও খেলোয়াড়দের বেতন কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো সময় আসেনি।’

লিগ স্থগিত হলে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে ছোট ক্লাবগুলো। খেলা না থাকলেও খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রের ম্যানেজার আরিফুল ইসলাম, ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য লিগ স্থগিত করায় এখন আমরা চিন্তিত। বড় দুশ্চিন্তা বিদেশিদের নিয়ে। ক্যাম্পে প্রতিদিন ২৫ হাজার টাকা খাবার খরচ দিতে হয়। সবকিছু মিলিয়ে যা প্রায় ৪০ হাজারে গিয়ে ঠেকে। মাসিক খরচ হয় ৪০ লাখ টাকার মতো।’