ইবি ছাত্রলীগঃ কমিটি বিলুপ্তির দাবি একাংশের

Spread the love

আজাহার ইসলাম, ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্তি ও বহিরাগতদের দ্বারা কর্মীদের উপর হামলার শাস্তির দাবিতে দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে শাখা ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা।

একইসাথে তারা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের হস্তক্ষেপ কামনা করে। শনিবার সকাল পৌনে ১০ টায় দলীয় টেন্ট থেকে বিক্ষোভ মিছিল করে তারা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব ম্যুরালে এসে অবস্থান কর্মসূচিতে মিলিত হয়।

এসময় তারা হৈ হৈ রৈ রৈ, রাকিব-পলাশ গেল কই, রাকিবের চামড়া, তুলে নেব আমরা, অবৈধ কমিটি মানিনা মানবো না, ৪০ লাখের কমিটি মানিনা মানবো না, পলাশ-রাকিব কালশাপ ছাত্রলীগের অভিশাপসহ বিভিন্ন স্লোগানে ফেটে পরে।

এসময় মিজানুর রহমান লালন, ফয়সাল সিদ্দীকী আরাফাত, তৌকির মাহফুজ মাসুদ, শিশির ইসলাম বাবু, বিপুল খান, শাহজালাল হোসেন সোহাগ, আল আমিন জোয়াদ্দার, জোবায়েরসহ দুই শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এসময় নেতা-কর্মীরা বলেন, ‘৪০ লাখের হাইব্রিড কমিটির বিলুপ্তি দাবি করছি। দুর্নীতিবাজ কমিটি ইসলামে বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতে পারেনা। গত ২১ জানুয়ারি তারা বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে আমাদের উপর হামলা করে। আমরা কেন্দ্রের কাছে তাদের শাস্তি দাবি করছি। একইসাথে এই কমিটি বিলুপ্তির জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির হস্তক্ষেপ দাবি করেন তারা।’

এবিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘সংঘর্ষের দিন আশেপাশে ক্যাম্পাস পার্শবর্তী অনেক বহিরাগতই ছিল। আমরা কোন বহিরাহত সন্ত্রাসী নিয়ে আসিনি এবং কারো উপর হামলাও করিনি। বরং তারাই আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমাকে আহত করেছিল। যার বিচার আমি এখনো পাইনি। আমি কেন্দ্রের কাছে এর বিচার চাই।’

দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছর ১৪ জুলাই ইংরেজি বিভাগের রবিউল ইসলাম পলাশকে সভাপতি এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সাধারণ সম্পাদক করে দুই সদস্যের কমিটি দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

কমিটি ঘোষণার দুই মাস পরে রাকিবের ৪০ লাখে নেতা হয়ে আসা এবং ছয় মাসের মধ্যে ঐ টাকা দ্বিগুণ করার কথা সম্বলিত অডিও ফাঁস হয়। ঘটনার পর পদবঞ্চিত নেতারা পলাশ-রাকিবের কমিটিকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে।

পরে পলাশ ও রাকিব তাদের কর্মীদের নিয়ে কয়েকবার ক্যাম্পাসে ঢোকার চেষ্টা করলেও পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীদের ধাওয়ায় ব্যর্থ হন। সর্বশেষ ২১ জানুয়ারি ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদক বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করেন। ফলে দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এতে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ অন্তত ৩০ আহত হন।