জাহাজ রিপিয়ারিং ডকে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুত সংযোগ, ঝুঁকিতে কয়েকশ পরিবার

Spread the love

কামরুজ্জামান সোহেল,ফরিদপুর প্রতিনিধি: ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ কিংবা বড় ট্রলার সংস্কারের (রিপিয়ারিং) উদ্দেশ্যে ফরিদপুর সদরের ডিক্রিরচর ইউনিয়নের মদনখালী এলাকায় পদ্মানদীর পাড়ে গড়ে ওঠা ডকে অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে কয়েকশ পরিবার ও এসব পরিবারের শিশুসহ ওই এলাকা দিয়ে চলাচলকারীরা।

যে কোন সময় দূর্ঘটনার শংকায় রয়েছেন তারা। আর ডক মালিকরা বলছেন, বিদ্যুত বিভাগ টাকা নিলেও ডক পর্যন্ত খুটি না দেয়ায় এমন বেহাল অবস্থার মধ্য দিয়ে বিদ্যুত নেয়া হয়েছে ডক পর্যন্ত। আর বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা দোষ চাপাচ্ছেন একে অপরের উপর।

পদ্মা নদীতে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ফরিদপুর নদী বন্দর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দুরে আদমপুরে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ সংস্কারের জন্যে গড়ে উঠেছে ১০টি ডক। এসব ডকে সংযোগ দেয়া বিদ্যুতের মিটার ডক থেকে কয়েকশ মিটার দুরে জনবহুল এলাকায় এলোমেলোভাবে রাখা হয়েছে।

কোথাও কলা বাগানের মধ্যে বাঁশের খুটিতে কোথাওবা বসত ঘরের সাথে ক্ষুদ্রাকার ও নিচু টিনের ছাপড়া ঘর তুলে খোলামেলাভাবে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে পদ্মাতীরের বালুর মধ্যে খোলামেলাভাবেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রাখা হয়েছে বিদ্যুতের তার।

স্থানীয়দের দাবী, অপরিকল্পিতভাবে বিদ্যুত সংযোগ দেয়ার প্রতিবাদ করে তারা টিকতে পারেনি প্রভাশালী ডক মালিক ও বিদ্যুত বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সামনে। এমন অপরিকল্পিক বিদ্যুত সংযোগ নেয়ার ঘটনায় ক্ষুব্দ তারা পাশাপাশি শংকিতও।

স্থানীয়দের দাবী বাড়ীঘরের পাশেই এলামেলোভাবে থাকা তারের পাশে খেলাধুলায় ব্যাস্ত থাকে আশেপাশের পরিবারের শিশুরা। তাই যে কোন সময় দুর্ঘটনার শংকায় শংকিত তারা। একইসাথে ৪২০ ভোল্টের এসব তার বাড়ীর পাশ ও বালুচর জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকায় বড়রাও রয়েছেন দূর্ঘটনার শংকায়।

এমনকি দুর্ঘটনায় বাড়ীঘর ক্ষতিগ্রস্তের শংকায়ও রয়েছেন তারা। তাই প্রয়োজনীয় খুঁটির মাধ্যমে নিরাপদভাবে সংযোগ ও এসব তার ডক পর্যন্ত নেয়ার দাবী তাদের।
আর স্থানীয়দের সাথে ডক মালিকদেরও দাবী খুঁটি সরবরাহ করে নিরাপদভাবে বিদ্যুত সংযোগ দেয়ার। কিন্তু বারবার বলা সত্তে¦

ও বিদ্যুত বিভাগ খুঁটি দিচ্ছেনা বলে দাবী তাদের। ডক মালিক আব্দুল কাদের জানান, বাড়ীঘর সংলগ্ন এলাকায় বিদ্যুতের মেইন সুইচবোর্ড রেখে সাইড লাইন নিয়ে কাজ করছেন তারা, যা রাতের বেলা খুলে রাখা হচ্ছে। এমন অপরিকল্পিত বিদ্যুত সংযোগের কারণে কোন দুর্ঘটনার দায় নিতে চাননা তারা।

বিদ্যুতের এমন অপরিকল্পিত সংযোগ নিয়ে একে অপরকে দুষছেন বিদ্যুত বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। ওজোপাডিকোর লাইনম্যান বিল্লাল হোসেন জানান, উপসহকারী প্রকৌশলীর নির্দেষে এ লাইন দেয়া হয়েছে।

আর ওই অংশের ফিডারের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপ সহকারী প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন জানান, আমার মিটার সংযোগ দেয়ার কোন ক্ষমতা নেই। নির্বাহী প্রকৌশলীর নির্দেশে সংযোগ দিয়েছি।

ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ প্রধান জানান, প্রকল্পের মাধ্যমে খুঁটি দিয়ে নিরাপদভাবে বিদ্যুত সংযোগ দিতে আরো দুই থেকে তিনমাস সময় লাগবে। এরই মধ্যে প্রস্তাবরা দেয়া হয়েছে।