খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি রোববার

Spread the love

অনলাইন ডেস্ক: জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট্র দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ফের জামিন আবেদনের শুনানি হবে আগামী রোববার। বুধবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কেএম জহিরুল হক সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানির দিন ধার্য করেন। 

খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আদালতের কাছে জামিন শুনানির তারিখ নির্ধারণের জন্য আবদেন জানালে আদালত রোববার এই দিন ধার্য করেছেন।

খালেদার আইনজীবী জয়নুল আবেদিন বলেন, আমরা ফের জামিনের জন্য আবেদন করেছি। আদালত রোববার শুনানির দিন ধার্য করেছেন। সেদিন খালেদা জিয়া জামিন পাবেন বলে আমরা আশাবাদী।

এর আগে মঙ্গলবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদনটি অ্যফিডেবিট আকারে জমা দেওয়া হয়। 

শারিরীক অবস্থা ও বয়স বিবেচনা উল্লেখ করে মানবিক কারণে যুক্তি তুলে ধরে জামিন আবেদনে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে তার উন্নত চিকিৎসা হচ্ছে না। তিনি জামিন পেলে চিকিৎসা জন্য বিদেশে তথা লন্ডনে যাবেন।

এর আগে গত বছর ৩১ জুলাই হাইকোর্টের এই বেঞ্চ চ্যারিটেবল মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেন। এরপর ওই খারিজ আবেদনের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগ গত ১২ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন পর্যবেক্ষণসহ খারিজ করে দেন। এই খারিজের রায় গত ১৯ জানুয়ারি প্রকাশিত হয়। এ অবস্থায় নতুন করে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করার উদ্যোগ নেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।

গতকাল দাখিল করা ওই আবেদনে খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী হিসেবে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও সগির হোসেন লিওনের নাম রয়েছে।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাষ্ট্র দুর্নীতির মামলায় ঢাকার একটি বিশেষ জজ আদালত খালেদা জিয়াকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। ওই সাজা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন খালেদা জিয়া। এছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট্র দুর্নীতির মামলায় ১০ বছরের সাজার বিরুদ্ধে আপিল করেন খালেদা জিয়া। ওই আপিল আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ঠ শাখায় দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে। কিন্তু শুনানির কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে আগামী ১১ মার্চ সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির বার্ষিক নির্বাচনের আগে এ মামলা শুনানি নিয়ে নানা মত রয়েছেন। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন থাকলেও কারামুক্তিতে বাধা মাত্র দুই মামলা। নানা আইনী জটিলতায় মুক্তি মিলছে না খালেদা জিয়ার। খালেদা জিয়ার কারা মুক্তিতে এখন অন্তত দুই মামলায় জামিন পেতে হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।