গানের মানে ছাড় দিই না

Spread the love

অনলাইন ডেস্ক: সামিনা চৌধুরী। নন্দিত কণ্ঠশিল্পী। সম্প্রতি বাংলা ঢোলের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ পেয়েছে পিলু খানের সঙ্গে গাওয়া তার দ্বৈত গান ‘এসো হে বন্ধু’। নতুন এ গানের অডিও-ভিডিও প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ ও অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে-

‘এসো হে বন্ধু’ গানে নব্বই দশকের মেলোডি সুরের ছায়া আছে- অনেকের এই কথার সঙ্গে আপনি কি একমত?

মেলোডি সুর কোনো দশক বা যুগের জন্য আলাদা করা আছে বলে তো মনে হয় না। নব্বই দশকে মেলোডি গান বেশি হয়েছে। আমিও গেয়েছি। ‘এসো হে বন্ধু’ গানের কথা লিখেছেন শহীদ মাহমুদ জঙ্গী, সুর করেছেন পিলু খান। যারা নব্বই দশকের অসংখ্য সাড়াজাগানো গানের গীতিকার ও সুরকার। হয়তো এ জন্যই অনেকের মনে হয়েছে, ‘এসো হে বন্ধু’ নব্বই দশকের মেলোডি গানের আদলে তৈরি। আসলে শ্রুতিমধুর গান সব সময় তৈরি হয়েছে, আগামীতেও হবে। কারণ মেলোডি গানের কোনো বিকল্প নেই।

অনেক দিন পর পুরোনো সহযাত্রীদের সঙ্গে কাজ করলেন। কেমন ছিল সে অভিজ্ঞতা?

শহীদ মাহমুদ জঙ্গী, পিলু খানসহ আরও অনেকে আছেন, যাদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা সব সময় আনন্দের। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেক দিন তাদের সঙ্গে কাজ করা হয়ে ওঠেনি। তাই অনেক দিন পর একসঙ্গে কোনো কাজ পরিকল্পিতভাবে করতে পেরে ভীষণ ভালো লাগছে।

একক গানের পাশাপাশি পিলু খানের সঙ্গে কোনো দ্বৈত অ্যালবাম করার কথা ভাবছেন কি?

পিলু খান বেশিরভাগ সময় দেশের বাইরে থাকে। দেশে এলে রেনেসাঁ ব্যান্ডের জন্য কাজ করে। তাই দ্বৈত গানের অ্যালবাম করার সুযোগ হবে কিনা, তা বলা কঠিন। তবে সুযোগ পেলে দু-একটি গান করার চেষ্টা অবশ্যই করব।

গান গাওয়ার পাশাপাশি অডিও-ভিডিও প্রযোজনা শুরু করলেন। ওয়ার্ল্ড মিউজিক বাংলার জন্য কোন কাজগুলো প্রাধান্য দিচ্ছেন?

ওয়ার্ল্ড মিউজিক শুরু থেকে ভালো অ্যালবাম ও গান প্রকাশের চেষ্টা করেছে। ইজাজ খান স্বপন ক্যাসেট ও সিডির যুগে প্রযোজনায় এসে ওয়ার্ল্ড মিউজিক তৈরি করেছিল। চেয়েছিল তারকা শিল্পীদের পাশাপাশি নতুনদের ভালো কাজের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিতে। যতদিন সে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ছিল, নানা ধরনের অ্যালবাম প্রকাশ করে গেছে। এখন যেহেতু গান বা অ্যালবাম প্রকাশনার মাধ্যম বদলে গেছে, ক্যাসেট-সিডির বদলে অনলাইনে গান প্রকাশ করা হয়, যে জন্য ‘ওয়ার্ল্ড মিউজিক বাংলা’ নামে ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে অডিও-ভিডিও প্রকাশনা শুরু করেছি আমরা। এতদিন সবকিছু স্বপনই দেখভাল করত। কিন্তু গত বছর হঠাৎ করেই এই চ্যানেলের দায়িত্ব আমার হাতে তুলে দিয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর আমিও চেষ্টা করছি ভালো কিছু গান প্রকাশ করার। শিল্পী হিসেবে গানের মানে ছাড় দিই না বিন্দুমাত্র। প্রযোজক হিসেবেও এই ভাবনা নিয়ে কাজ করে যাব।

মাহমুদুন্নবীর কালজয়ী গানের অ্যালবাম ‘আমার গানের প্রান্তে’ নতুন খণ্ডের কাজ শুরু করেছিলেন, শেষ হয়েছে কি?

‘আমার গানের প্রান্তে’ অ্যালবামের কয়েকটি খণ্ড প্রকাশ করার পরিকল্পনা করেছি। তাই কাজ নিয়মিত চলছে। বাবার [কণ্ঠশিল্পী মাহমুদুন্নবী] কালজয়ী বেশকিছু গান এর মধ্যে রেকর্ডও করেছি। এখন ভাবছি, ‘আমার গানের প্রান্তে’ অ্যালবামের কোন খণ্ডে কোন গান রাখব। গান নির্বাচন শেষে নতুন খণ্ডের প্রকাশনার দিন-তারিখ চূড়ান্ত করব।

হারানো দিনের গানের পাশাপাশি এর মধ্যে মৌলিক কোনো গান রেকর্ড করেছেন?

এখন তো ভিডিও ছাড়া কেউ গান প্রকাশ করে না। গত দু-তিন বছরে বেশকিছু রেকর্ডও করেছি। কিন্তু ভিডিও করা হয়ে ওঠেনি। যারা গানের প্রকাশক, তারা যদি এ বিষয়ে না ভাবেন, তাহলে কী আর করার আছে। বিভিন্ন ব্যানার থেকে একে একে নতুন গানগুলো প্রকাশ পাবে- এটুকু জানি। কোন গানের ভিডিও কখন হবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।