সব নির্বাচনেই অংশ নেবে বিএনপি: ফখরুল

Spread the love

অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই সরকারের আমলে অতীতে দু-একটি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না। তবে আন্দোলনের অংশ হিসেবে এখন সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনেই বিএনপি অংশ নেবে। 

তিনি বলেন, ভোট নিয়ে অনেক কিছু হলেও দল নির্বাচনে যাবে। কারণ বিএনপি উদারপন্থি গণতান্ত্রিক দল। বিএনপি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তনে বিশ্বাস করে।

মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর নাসিমন ভবনে দলীয় কার্যালয়ের সামনের চত্বরে মহানগর বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ মন্তব্য করেন। এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইঙ্গিত দিলেন বলে মনে করছেন অনেকে।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সরকার পরিকল্পিতভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যিনি সারাজীবন গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন, তাকে অন্যায়ভাবে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। কারণ এ সরকার তাকে ভয় পায়।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের সব জনগণই বিএনপির কর্মী। কারণ বিএনপি জনগণের দল। তাই যারা ভাবছে বিএনপিকে ধ্বংস করবে, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে। বহুবার বিএনপিকে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছে; কিন্তু প্রতিবারই ফিনিপ পাখির মতো জেগে উঠেছে। তাই বিএনপিকে ভাঙার চেষ্টা করলেও কেউ সফল হবে না।

সরকার দেশকে পরিকল্পিতভাবে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চাইছে- এ মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার দেশে একদলীয় শাসন কায়েম করছে। বিএনপির প্রায় ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এমন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড নেই, যেখানে মামলা নেই। ক্রসফায়ারের নামে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই- দেশে বাকশালের মতো একদলীয় শাসন কায়েম করা।

আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, তারা বলেন, বিএনপি নেই। বিএনপি না থাকলে এত কথা বলছেন কেন? কারণ বিএনপিই আপনাদের মূল সমস্যা। 

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগে এখন অসংখ্য হাইব্রিড নেতা। আপনাদের চট্টগ্রামেরও একজন রয়েছেন। বড় মন্ত্রী। তিনি আবার মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও কথা বলেন। তিনি ওই সময় জন্মেছিলেন কিনা সন্দেহ রয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব ইভিএমের সমালোচনা করে বলেন, আওয়ামী লীগ পুরো নির্বাচন ব্যবস্থাকেই ধ্বংস করে দিয়েছে। এমন ইভিএম চালু করেছে যে, সরকারের নিজের আঙুলের ছাপই মেলে না। তার ভোট দিয়েছেন প্রিসাইডিং অফিসার। নির্বাচন এখন দেশের মানুষের কাছে তামাশায় পরিণত হয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করের পরিচালনায় মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবের রহমান শামীম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় সদস্য ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলালউদ্দিন ও নগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান।

মতবিনিময় সভার কথা বলা হলেও এ সময় নগর বিএনপি কার্যালয়ের সামনের চত্বর নেতাকর্মীতে ভরে ওঠে। ফলে সভায় বার বার বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। সভার মঞ্চে নির্দিষ্ট কয়েকজন নেতার চেয়ার রাখা হলেও অন্য নেতা এসে বসে পড়েন। এ নিয়ে কর্মীদের হাসাহাসি করতে দেখা যায়।