রৌমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়মে ভরপুর উপজেলা প.প কর্মকর্তা ব্যস্ত নিজ ক্লিনিকে

Spread the love

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের অবহেলা, চরম গাফিলতি, অভ্যন্তরিন কোন্দল ও দূর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে চিকিৎসা সেবা ভেঙ্গে পড়েছে। তাই ‘বাবুর্চি, মশালচি, সুইপার, আয়া ও ওয়ার্ডবয় দ্বারা চিকিৎসকের পরিবর্তে সেবা দিয়ে চলছেন’ ওরা। গতকাল সরেজমিনে হাসপাতালে ঘুরে ঘুরে কয়েকজনের সাথে কথা বলে এসব চিত্রি দেখা যায়।

রৌমারী উপজেলা হাসপাতালটি প্রায় ৩ লাখ মানুষের স্বাস্থ্য  সেবার একমাত্র কেন্দ্র স্থল। অথচ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মনগড়া ও এক ঘেয়েমিপনা, ডাক্তারসহ হাসপাতালে সকল কর্মচারীদের পরিচালনা ব্যর্থ হওয়ায় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা। প্রবাদ আছে গার্ডিয়ান ভাল না হলে সন্তান ভাল হয় না। তেমনই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডা. মোমেনুল ইসলাম হাসপাতাল থেকে ১শ গজ দক্ষিণে নিজের রৌমারী ক্লিনিক নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।

সে ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ভাবে নিজ প্রতিষ্ঠানের প্রতি নজর বা সময় বেশী দেন তিনি। এদিকে ৫০ লাখ টাকা দামের ৫০ এম এম এক্স-রে মেশিনটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গ্রহনের পর থেকেই ব্যবহার হচ্ছেনা । পুরাতন এ্যাম্বুলেন্সটি মেরামতের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিলেও কাজ না করে আত্মসাত করে। ফলে এ্যাম্বলেন্সটি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এছাড়া হাসপাতালের বাহিরে মাঠ পরিস্কার করা থাকলেও ভিতরের রোগীর ওয়ার্ড, বার্থরুম ব্যবহার অযোগ্য ও দূর্গন্ধময়।

এমনকি হাসপাতালে বহিরাগত রোগীদের স্লিপ দেওয়ার দায়িত্বে জনবল না থাকায় যেমন খুশি তেমন ভাবেই অযোগ্য অবুজ ব্যক্তি দ্বারা স্লিপ দেওয়া হচ্ছে। তাদের আচার-আচরন ও ব্যবহারে রোগীরা অতিষ্ট। পরীক্ষা নিরক্ষিার নামে রোগীদেরকেই নানা ভাবে হয়রানি করান। এছাড়া প্রাইভেট চেম্বারে রিপ্রেজেন্টিভদের উপস্থিত চিকিৎসা পত্র দিয়ে থাকেন। নার্সদের কথা বালাই নেই। তারা নিজ এলাকায় যুগযুগ ধরে নিজ এলাকায় দাপটে সহিত কাজ করেন। তারাতো বাড়ির বড় কর্তা সেজেছেন। নিজেরা কাজ না করে আয়াদের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা বাস্তবায়ন করে থাকেন।

যেমন কয়েকজন মাসিক চুক্তিভিত্তিক স্বল্প বেতনে প্রশিক্ষন ছাড়াই বাহিরের কিছু নারী শ্রমিকের মাধ্যমে চলছে রোগীদের স্যালাইন পুষ, ইনজেকশন ও পরিস্কার পরি”ছন্নতার কাজ ইত্যাদি। গত ৩০মার্চ ২০১৯ ইং রৌমারী ক্লিনিকে আরিফুল ইসলাম নামের এক ভুয়া টেকনেশিয়ানকে দিয়ে হরমোন পরীক্ষা করানোর অভিযোগও পাওয়া গেছে। এমনকি এ ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ জনতা ক্লিনিকটি প্রায় ২ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন।

অপরদিকে মো: ফয়জার রহমান উলিপুর স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে (টিএলসিএ) পদে চাকরিরত থাকলেও গত ৭ বছর আগে রৌমারী হাসপাতালে ডেপুডেশনে আসেন । কিন্তুু দীর্ঘ দিন থেকে রৌমারী হাসপাতালে ফার্মাস্টিষ্ট পদটি শূন্য রয়েছে । উক্ত ফার্মাসিষ্টের ¯’লে ফয়জার রহমান দায়িত্বে পালন করেন। নিজে ডেপুটেশনে থাকা সত্বেও ফার্মাসিষ্ট ঔষধ সরবারহ করে থাকেন সেখানে দায়িত্বের অবহেলায় ভ্যাকসিন পোর্টার জহুরুল ও মালি ফরহাদের মাধ্যমে ঔষধ সাপ্লাই দেওয়া হচ্ছে। ফলে ঔষুধের নামের ভুলাভুলির একপর্যায় বাকবিতন্ডা করতে দেখা গেছে।

ইর্মাজেন্সিতে একজন সেকমো দায়িত্বে নিয়োজিত থাকলেও, সেখানে কাটা ছেড়া সেলাই করানো হয় জাহিদুল ইসলাম নামে রান্না ঘরের বাবুর্চি কে দিয়ে। জাহিদুলসহ নারী পুরুষ ৫ থেকে ৬ জনকে জনবল কম থাকায় প্রশিক্ষন ছাড়া মনগড়া দায়িত্ব পালন করানো হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান , হাসপাতালের কারো কারো রুমে চলে মদের আসর। সব মিলে রৌমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে রৌমারী হাসপাতালের দায়িত্বরত টিএইচও ডা. মোমেনুল ইসলাম বলেন, জাহিদুল নামের ব্যক্তিকে অতিরিক্ত মশালচি (বাবুর্চি) হিসেবে নেওয়া হয়েছে । তবে রোগীদের কাঁটা,ছেঁড়া ও সেলাই করেন কি না তা আমার জানা নেই । তবে খোঁজ নিয়ে দেখবো। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন রৌমারী ক্লিনিক আমার নামে নয় তবে আমার স্ত্রীর নামে।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমানের.সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এসম্পর্কে কিছু জানি না। তার পরেও খোজখবর নিচ্ছি। সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে