এক দেশের বুলি, আর এক দেশের গালি: ব্লগার আলফি

Spread the love

মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম (আলফি): দেশ একটাই তবে আমরা বাঙ্গালীরা আঞ্চলিকতার ধারায় এক একটা জেলা বা বিভাগকে দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করি। যেমন: আপনার বাড়ি কই, দেশ কই? উত্তর দেয়: মোর বাড়ি বরিশাল, কেউ বা বলে আন্ডার বাড়ি নোয়াখালী, আবার কেউ বলে আমগো বাড়ি ঢাকা, আবার অনেকে বলে আঁরার বাড়ি চিটাগং। একেক বিভাগ একেক ভাষা।

বিশ্বে জানে বাংলাদেশের মাতৃভাষা বাংলা আর আমরা বাঙ্গালীরা জানি মায়ের মুখের ভাষা বাংলা অর্থাৎ আঞ্চলিকতা ভাষা। যে বিষয়ের উপর লেখাটা শুরু করছি তা বুঝানোর জন্যই সূচনা পর্ব একটু আঞ্চলিকতা ভাষা পরিচিতি করালাম পাঠকবৃন্দ সাথে। আঞ্চলিকতা ভাষার ক্ষেত্রে মন্দ বা গালি দিয়ে কথা বলা একেকটা অঞ্চলের ঐতিহ্য হিসেবে দাঁড়িয়েছে। যেটা আপনার দেশী মানুষ কাছে নান্দনিক বা চিরাচরিত অভ্যাস বা জাত হলেও অন্য দেশী বা অন্ঞলের মানুষ কাছে অপমানকর ও সম্মানহানি মত। একেকদেশে একেক গালি যা তাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যেমন: পুরান ঢাকার মানুষরা কথায় কথায় আবে হালা ব্যবহার করে যা তাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। আবার, চচট্টগ্রাম  গ্রাম অঞ্চলের মানুসও কথায় কথায় চদানির পোয়া, খানকি পোয়া এসব মন্দ কথায় গালাগাল করে কথা বলে, যা তাদের চিরাচরিত অভ্যাস, তবে তা শহরের জনগণ চট্টগ্রাম এমন অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করে না। আবার, সিলেটিও কথায় কথায় ও মাদারী নাকি মাতারি বলে গালমন্দ করে সম্বোধন করে যা তাদের কাছে মধুর ও চিরাচরিত অভ্যাস।

হুম, এ বিষয়গুলো আপনি কথায় কথায় বলতে পারেন,  “এক দেশে গালি, আর এক দেশে বুলি” যুক্তিযুক্ত।কিন্তু ধর্মীয় ইস্যুতে কী আপনি আমি কোনো সূস্থ মস্তিষ্ক সচেতন নাগরিক কি তা ব্যবহার করতে পারবেন? এতক্ষণে ঠিকই বুঝে গিয়েছেন এই আবে হালা আল্লাহ, আবে হালা রাসূল, আবে হালা উমর এসব কুরুচিপূর্ণ ওয়াজ করেছিলেন মিজান আজহারী।যে কি না বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়ায় ইউটিউব ও ফেসবুকে যুব সমাজের আইডল ও প্রিয় বক্তা।

যখন তার এমন কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ার জন্য এদেশের কিছু আলিম সমাজে কাফির ফতওয়া দিলো তখন অনেকেই বলতে লাগলো মিজান আজহারী প্রতি হিংসা বশবর্তী হয়ে এই কাজ করেছে।অনেকেই বলছে এটা কাটসাট করে মিজান আজহারীর ভক্তদের বিভ্রান্তি জন্য ষড়যন্ত্র করেছে।মানলাম এটা কাটসাট তাই পুরো ভিডিওটা আমি শুনলাম মিজান আজহারী আবে হালা ব্যাখ্যাটা কেন আল্লাহ, রাসূল, সাহাবীদের শানে ব্যবহার করলেন?

আশা করছি যারা মিজান আজাহারী অন্ধ ভক্ত আছেন তারা দয়া করে পুরো ভিডিওটা দেখেছেন ও আমার লেখাটা পড়েছেন শেষ পর্যন্ত তাদের কাছে প্রশ্ন,  আল্লাহ রাসূল সাহাবী শানে কি এমন শব্দ ব্যবহার করা যাবে? সেটা দুনিয়াবি কাজে আমি আপনি ব্যবহার করতে পারি যেটা এক দেশের গালি, আর এক দেশ বুলি।কিন্তু ইসলাম ও ধর্মীয় বিষয়ে এসব কুরুচিপূর্ণ অশ্লীল শব্দ কেমনে ব্যবহার করতে পারলো?  
মিজান আজহারী এক দেশের গালি, আর এক দেশ বুলি বিষয়টা বুঝাতে কি আল্লাহ, রাসূল, সাহাবীর সঙ্গে ব্যবহার করে উদাহরণ টানতে হয়?

কেন তিনি কি তার বোন জামাই বা বাবার কে দিয়ে আবে হালা উদাহরণ টানতে পারেন নাই? নাকি আল্লাহ রাসূল চাইতে তার বোন জামাই ও বাবার মর্যাদা বেশি? ইসলামে এমন কোন সাধারণ মামুলি শব্দ রাসূলকে ডাকতে নিষেধ করা হয়েছে। আর মিজান আজাহারী কি শুরু করলো? আপনি কি পারবেন উপরে যে চিটাগং সিলেটি ভাষার বুলি  যা আমাদের জন্য গালি আল্লাহ রাসূল নাম আগে লাগিয়ে সম্বোধন করতে? (নাউযুবিল্লাহ) এমন কুরুচিপূর্ণ শব্দ মুমিন মুসলমানরা ভুলেও চিন্তা করতে পারে না। আজহারী বলেছিল, সেই লেকচারে পুরান ঢাকার ঢাকাইয়া নাকি তবলীগেও এমন আবে হালা বলি বলি দাওয়াতি কাজ করে (নাউযুবিল্লাহ)কখনও এমন কথা তবলীগ ওয়ালাদের মুখে শুনি নাই।

তাই এসব গাজাখুরি যুক্তিদিয়ে ইসলাম চলে না বরং ইসলাম চলে কুরআন ও সুন্নাহের আলোকে।ইসলাম যেকোনো নিদর্শন বা বিষয় সাথে অশ্লীলতা কোনো সম্পর্ক বা পার্থক্য,তুলনা হয় না।

“এক দেশ গালি, আর এক দেশ বুলি ” এসব আপনি এলাকা মহল্লায় বলতে পারবেন কিন্তু সংসদ ভবন, প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কখনও কি পারবেন? অবশ্যই পারবেন না, উল্টো মানহানি মামলায় আপনাকে খেতে হবে।অবশ্যই এটা মিজান আজহারী বেয়াদবি করেছে, ঈমানহারা মূলক কাজ।
আমি তার প্রতি এ বিষয়ে জাতির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা ও তওবা করার অনুরোধ করছি।পরিশেষে একটা কথাই বলবো”এক দেশ বুলি, আর এক দেশ গালি” এসব অশ্লীল যুক্তি দেওয়া বন্ধ করুন।ইসলাম মান মর্যাদা নস্ট হয়, এসব কথা নাস্তিকদের মানায় মুৃমিনের মুখে নয়।