শিল্পী হিসেবে গণ্ডির মধ্যে নিজেকে আটকে রাখতে চাই না: কর্নিয়া

Spread the love

অনলাইন ডেস্ক: কর্নিয়া। তারকা কণ্ঠশিল্পী। স্টেজ শোর পাশাপাশি মেলো-রোমান্টিক, রক ও ফোক ফিউশন গানের আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটছে তার। এ সময়ের ব্যস্ততা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হয় তার সঙ্গে

দু’মাস ধরে একের পর এক স্টেজ শো করে যাচ্ছেন। স্টেজের ব্যস্ততায় কি নতুন গানের কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন?

নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে পুরো ডিসেম্বর মাস একটানা স্টেজ শো নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। আজ ঢাকায় তো কাল অন্য শহরে- এভাবে প্রতিদিন ছোটাছুটি করতে হয়েছে। স্টেজ শোর জন্য দম ফেলারও সময় ছিল না। সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় থেকে স্টেজে ব্যস্ততা একটু কমেছে। তারপরও নতুন গান করার রেকর্ড করার সুযোগ পাচ্ছি না। কারণ সামনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ নিয়ে বেশ কিছু অনুষ্ঠান হবে। এখন তারই প্রস্তুতি চলছে। এ জন্য এবারের ভালোবাসা দিবসে কোনো গান প্রকাশ করতে পারব বলে মনে হয় না।

টিভি, রেডিওর চেয়ে স্টেজ শোতে বেশি ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। স্টেজকে এত প্রাধান্য দেওয়ার কারণ কী?

ছোটবেলা থেকেই স্টেজ শো করছি। তখন থেকেই দেখছি, গায়কী নিয়ে দর্শক-শ্রোতার সাড়া স্টেজের মতো আর কোথাও পাওয়া যায় না। নতুন গান প্রকাশ করে যতটা সাড়া পাওয়া যায়, তার চেয়ে বেশি শ্রোতার মনোযোগ কেড়ে নেওয়া যায় স্টেজে দাঁড়িয়ে। আর এখন তো স্টেজ মাতানোর জন্যই আমাকে ডাকা হয়। আয়োজকরা সবসময় চান, আমাকে প্রতিটি আয়োজনের শেষ শিল্পী হিসেবে স্টেজে নিয়ে যেতে। যাতে অনুষ্ঠানের সফল সমাপ্তি টেনে দেওয়া যায়।

স্টেজে নিজের পছন্দের গান গাওয়ার সুযোগ কতটা থাকে?

নিজের প্রিয় কিছু গান আছে, যেগুলো অনেকে পছন্দ করেন। তেমন কিছু গান গাওয়ার সুযোগ হয়। বাকি গানগুলো দর্শক-শ্রোতার পছন্দে গাওয়া হয়। আনন্দ-উল্লাস করার জন্য দর্শকরা বেশিরভাগ সময় রিদমিক গান শুনতে চান। এ জন্য তাদের ভালো লাগাকে প্রাধান্য দিই।

ফোক ফিউশন গানের যে প্রকল্প হাতে নিয়েছিলেন, তা কত দূর এগোল?

তিনটি গানের কাজ প্রায় শেষ। ‘বুড়ি হইলাম তোর কারণে’ এবং ‘মিলন হবে কত দিনে’ গান দুটির জন্য ভিন্ন ধাঁচের কম্পোজিশন করা হয়েছে। এখন শুধু রেকর্ডিং বাকি। এর পাশাপাশি একটি মাসুপ [একাধিক গানের মিশ্রণ] তৈরি করছি। সেখানে ফিউশন মিউজিকের সঙ্গে কালজয়ী তিনটি গান রাখা হবে।

ক্যারিয়ারের কথা ভেবে অনেকে নিরীক্ষাধর্মী কাজে সাহস দেখান না। কিন্তু আপনি অনেক দিন ধরেই নিরীক্ষাধর্মী কাজ করে যাচ্ছেন। এতটা সাহসী হলেন কীভাবে?

ছোটবেলায় নজরুলের গান দিয়ে আমার হাতেখড়ি। তার গানের যে ভেরিয়েশন- তা সবসময় আমাকে মুগ্ধ করেছে। নজরুলের গানের চর্চাই নানা ধরনের গান করার সাহস জুগিয়েছে বিভিন্ন সময়; এটা একটা কারণ। দ্বিতীয় কারণ ভার্সেটাইল শিল্পী নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা। যে জন্য একের পর এক নিরীক্ষাধর্মী কাজ করে যাওয়া। তা ছাড়া গায়কীতে নিজেকে ভাঙতে এবং নতুন কিছু করে দেখাতে হলে সাহসী হতেই হয়। শিল্পীহিসেবে হিসেবে ভবিষ্যৎ অবস্থান কী হবে, তা আগে থেকেই বলা কঠিন। কিন্তু নিজের শিল্পীসত্তাকে খুশি করতে নতুন ধরনের কিছু না করলেই নয়। তা ছাড়া শিল্পী হিসেবে কোনো গণ্ডির মধ্যেও নিজেকে আটকে রাখতে চাই না। এ কারণেই নানা ধরনের গান করার চেষ্টা করি।

নজরুলসংগীতে হাতেখড়ি এবং এর চর্চা ধরে রাখলেও কখনও কোনো গান প্রকাশ করেননি। এর কারণ কী?

এই একটা বিষয়ে এখনও সাহসী হয়ে উঠতে পারিনি। রবীন্দ্র কিংবা নজরুলসংগীত পরিবেশনায় পান থেকে চুন খসলেই সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। তাই গানের চর্চা ধরে রাখলেও অডিও বা ভিডিও আকারে তা প্রকাশ করতে ভয় পাই। তবে কোনো এক সময় অবশ্যই নজরুলসংগীত প্রকাশ করব। তার আগে প্রস্তুতি নেব ভালোভাবে। যাতে কোনো গান প্রকাশের পর, কোনো ভুল-ত্রুটি যেন শ্রোতার কাছে ধরা না পড়ে। কেউ যেন সমালোচনাও না করে। ভালো না লাগলেও মন খারাপ হবে না। কিন্তু কেউ যদি ভুল-ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন তোলে তখন তা কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।