কুড়িগ্রামে ব্যাঙ্গের ছাতার মতো গড়ে উঠছে অবৈধভাবে ইটভাটা

Spread the love

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কুড়িগ্রামে ব্যাঙ্গের ছাতার মতো গড়ে উঠছে অবৈধভাবে ইটভাটা। অনুমোদন ছাড়াই চলছে এসব ভাটা। প্রশাসনের নাগের ডগায় ফসলি জমি ধবংস করে পরিবেশকে বিপর্যয়ের মুখে ফেলে এসব ইট ভাটায় জ্বালানো হচ্ছে কাঠ। পরিবেশ অধিদপ্তরের জারি করা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রশাসনের নাকের ডগায় কাঠ পোড়ানো হলেও যেন দেখার কেউ নেই।
জেলার ৯টি উপজেলায় প্রায় ১২০টির মতো ইটভাটা রয়েছে।

এরমধ্যে ৪১টি ইটভাটার লাইসেন্স থাকলেও প্রায় ১৭টির ভাটা হাইকোর্ট রিট করে চালু রেখেছে। বাকি গুলো নামকাওয়াস্তা আবেদন করেই ইটের ব্যবসা করে যাচ্ছে অবৈধভাবে। ইটভাটা গুলো পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই চালিয়ে যাচ্ছে। ফসলী জমি ও ঘন জনবসতি এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে ইটভাটা গুলো। পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী ঘনবসতিপূর্ন এলাকা,কৃষি জমি, পৌরসভা এবং একটি ইটভাটা হতে প্রায় ৩কি.মিটারের মধ্যে কোন ইটভাটা দেবার নিয়ম না থাকলেও জেলায় এগুলো কিছুই মানা হয়নি।

অথচ নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই গড়ে উঠেছে ইটভাটা গুলো। অনেক ইটভাটার চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে গাছের ডাল আর বাঁশের গোড়া। সেগুলো দিয়ে ভাটায় পুড়ানোর হয়। অনুমোদনের কাগজপত্র না থাকলেও নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে ইটভাটার কার্যক্রম। এসব ইটভাটার কারণে একদিকে পরিবেশের মারাত্নক বিপর্যয় ঘটছে অপরদিকে বাড়ছে রোগব্যধিসহ ঘটছে ফসলহানীর ঘটনা। প্রতিনিয়ত ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন কৃষকসহ সাধারণ মানুষ।


সরেজমিনে দেখাযায়,সদর উপজেলার টগরাইহাট এলাকায় রয়েছে মাত্র দেড় হতে দু কি.মিটারের মধ্যে ৮টি ইটভাটা। এদের অনেকের বৈধ কাগজপত্র নেই। কথা হয় এমএআর ব্রিকস’র মালিক আব্দুর রহমানের সাথে। তিনি বলেন,২০১১সালে স্থাপিত হয়ে বৈধ ভাবেই তার ভাটা চলছে। চলতি মৌসুমে তিনি হাইকোর্টে রিট করে ভাটার কার্যক্রম চালাচ্ছেন। তার কাগজপত্রে দেখাযায়, ইট পোড়ানোর লাইসেন্স দেয়া হয় ২০১৫সালের ১জানুয়ারী পর্যন্ত। এরপর সে আর কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। নিয়মনীতি না মেনেই চালিয়ে যাচ্ছেন ইট পোড়ানোর কাজ। গত বছর হাইকোর্টে রিট করে ডিসেম্বর হতে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ইট পোড়ানোর অনুমোদন নেয়।


এএসবি ইটভাটা ম্যানেজার মিজানুর রহমান জানান,কাগজপত্রের মেয়াদ শেষ হয়েছে। আবারো নবায়নের জন্য আবেদন করা হয়েছে। ভাটায় ছোট চিমনি ব্যবহার করে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র কিভাবে পেলো এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন,এটা অফিসেই ভালো বলতে পারবে।
এমপি ব্রিকস’র ম্যানেজার জহুরুল ইসলাম বলেন, কাগজপত্র আমার কাছে নেই মালিকের কাছে রয়েছে। ভাটার মালিকের সাথে ফোনে কথা হলে তিনি নিউজ করার দরকার নেই পরে দেখা করে কথা বলব।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভাটার মালিক ও ম্যানেজার বলেন, জেলায় প্রায় ১৩৮টি ইটভাটা রয়েছে। যাদের একভাগেরও লাইসেন্স নেই। শুধু আবেদন করেই ভাটা চালিয়ে যাচ্ছেন। দলীয় আর প্রশাসনের লোকদের উৎকোচ দিয়ে ভাটা চালাতে হচ্ছে।
ভাটার পাশ^বর্তি এলাকার স্থানীয় মজিবর,হাকিম,মুকুল মিয়া,রহিমা বেগম,বুলবুলি আকতারসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, ইটভাটার কারণে এলকায় বৃদ্ধ,শিশুরা বেশি করে শ^াস কষ্টে আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়াও ফুঁসফুঁস, চর্ম,হাপানি, চোখের রোগ বাড়ছে। তারা আরো বলেন,ইটভাটার কারণে বাড়ি গুলোতে কমে গেছে ফলফলাদির গাছ এবং আবাদী জমি কমে যাবার পাশাপাশি কমছে ফসলের পরিমানও। ইটভাটার ধুলাবালু, কালো ধোয়ায় বাড়ি ঘর নষ্ট হয়ে যায়। ভাটার জন্য ট্রাক্টর,ট্রলিতে করে মাটি নিয়ে যাওয়ার আসার কারণে পাকা সড়ক গুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অবাধে ভাটার মাটি বহনে ট্রাক্টর,ট্রলির সংখ্যা বেড়ে যাওয়া বাড়ছে দুর্ঘটনার সংখ্যা। ঘটছে প্রাণহানীর মতো ঘটনাও। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে ইটভাটা গুলোতে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হলেও আজো কোন ইটভাটা বন্ধ হয়নি। সরকার দ্রুত এসব বন্ধে কোন পদক্ষেপ না নিলে মারাত্নক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হবে সকলকেই।
জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক দুলাল পরিবেশ অধিদপ্তরের হয়রানির জন্যই ইটভাটার মালিকরা লাইসেন্স করতে পারছে না বলে অভিযোগ করেন।


জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন বলেন,ইটভাটা যেই ক্যাটাগরিতে চলার কথা সেই কোয়ালিটি ইন্সিওর করে যেই ইটভাটা পরিচালিত হওয়ার মতো তেমন ভাটা নেই বললে চলে। পরিবেশ বিপর্যয়সহ নানান ক্ষেত্রে এটি যে নেগেটিভ প্রভাব ফেলছে সে ব্যাপারে আমরা সতর্ক রয়েছি। যদি কারো অনুমোদন না থাকে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের মোবাইল কোর্ট পরিচালনা অব্যাহত রেখেছি।

তিনি আরো বলেন, মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশনের মাধ্যমে অনেকেই ইটভাটা চালু করেছে। রিট পিটিশনের মাধ্যমে ইটভাটা চালু করলেও বাকি বিষয় গুলো আমরা দেখছি এবং সোচ্চার রয়েছি। অবৈধ ভাবে কেউ যেন ইটভাটা পরিচালনা করতে না পারে সে ব্যাপারে আমাদের পদক্ষেপ রয়েছে।