ক্ষেতলালে আলমপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীতা নিয়ে বেড়ে চলেছে সহিংসতা

Spread the love

আবু হাসান, ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: এখনো তফশীল ঘোষনা হয়নি। নির্বাচন অফিসও জানেনা নির্বাচনের দিনক্ষণ। তারপরও ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীতা নিয়ে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশি দু’গ্রুপের মধ্যে বেড়ে চলেছে সহিংসতা। হচ্ছে মামলা,পাল্টা মামলা।

জানা গেছে, জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের আনোয়ারুজ্জামান তালুকদার নাদিম হুইপ স্বপন এর সমর্থনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন নিয়ে বিগত নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিএনপি’র প্রার্থীকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি খলিলুর রহমান মৃত্যু বরণ করলে নাদিম চেয়ারম্যানের চাচা উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি তাইফুল ইসলাম তালুকদারকে জয়পুরহাট জেলা আওয়ামীলীগ ক্ষেতলাল উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ঘোষনা করেন।

অপরদিকে হুইপ স্বপন সমর্থক দলীয় নেতাকর্মিদের দাবি, দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের কারনে বহিস্কৃত থাকায় তাইফুল ইসলাম তালুকদার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হতে পারেন নি। তার পরের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল মজিদ মোল্লা ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পান। সেই থেকে উপজেলা আওয়ামীলীগ দুটি ধারায় বিভক্ত। বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে হুইপ আবু সাঈদ আল-মাহমুদ স্বপন সমথর্নে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাকিম মন্ডল আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন লাভ করেন এবং তাইফুল ইসলাম তালুকদার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নিবাচন করে পরাজিত হন। সেই থেকে আরও প্রকট ও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে দলীয় বিভাজন। ওই তালুকদার পরিবারের নিজ ইউনিয়ন আলমপুর হওয়ায় সেখানে এর প্রভাব পড়ে বেশী।

তবে আলমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং জেলা আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান তালুকদার নাদিমকে হুইপ স্বপনের পক্ষে সভা সমাবেশ ও সোস্যাল মিডিয়ায় সরব থাকতে দেখা যায়। উপজেলা আওয়ামীলীগের একটি অংশ ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন পেতে আলমপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক রাজিবুল ইসলাম রাজুকে মনোনয়নের আশ্বাস দিয়ে মাঠে নামিয়ে দেন। সেই থেকে বর্তমান চেয়ারম্যান নাদিম ও রাজু সমর্থক নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। যার প্রেক্ষিতে প্রতিনিয়ত ওই ইউনিয়নে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘটছে মারপিট, অগ্নিসংযোগ মামলা পাল্টা মামলা।

গত ১৭ নভেম্বর ওই দুই সমর্থকদের মধ্যে মারপিটের ঘটনা ঘটলে পুলিশ দুই পক্ষের ৯ জনকে গ্রেফতার করে জেলা হাজতে পাঠায়। উভয় পক্ষের মামলায় ৪০ জন আসামী হয়েছে। এদিকে গত ২২ নভেম্বর রাতেও ওই ইউনিয়নের আলীপুরগ্রামে একাধিক খড়ের গাঁদায় আগুন ও বৈদ্যুতিক মিটার ভাংচুরের হয়েছে। এঘটনায় একে অপর গ্রুপকে দোষারুপ করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই এলাকায় সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তবে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক রেজা শান্তিপূর্ণভাবে ইউনিয়নে তার প্রার্থীতা জানান দিচ্ছে আর বিএনপি’র কর্মি সমর্থক’রা এখন পর্যন্ত নিরবতা পালন করছে।

এবিষয়য়ে ওই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান নাদিম তালুকদার বলেন, “আমি দুই দফা ক্ষেতলাল উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে আওয়ামীলীগে প্রবেশ করি বর্তমান জেলা আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক। আমার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন সৈনিক। নির্বাচনের আরও অনেক দেরি থাকলেও বিএনপি জামাত থেকে অনুপ্রবেশকারীরা প্রার্থীতার নামে এলাকায় বিশৃংখলা করছে। তারা নিজেরাই ঘটনা ঘটিয়ে আমার উপর দোষ চাপাচ্ছে।”

আওয়ামীলীগ দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী রাজিবুল ইসলাম রাজু বলেন,“আমি কোন বিশৃংখলা করিনি বরং তারাই আমার প্রার্থীতার কথা ও জনসমর্থন জেনে এলাকায় আমার লোকজনকে মারপিট করছে।”

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন, ওই ইউনিয়নে নির্বাচনে আরও দেরি আছে। নির্বাচনের আগেই এসব করা সমীচীন নয়।

জয়পুরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য হুইপ আবু সাঈদ আল-মাহমুদ স্বপন বলেন,“তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এধরনের অনাকাংখিত সহিংসতা কোন ভাবেই কাম্য নয়। এলাকায় শাস্তি শৃংখলা সমুন্নত রাখা প্রশাসনের পাশাপাশি প্রত্যেক রাজনৈতিক কর্মির পবিত্র দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকে সরে গিয়ে যারা অশান্তির সৃষ্টি করবে প্রয়োজনে তাদের পরিত্যাগ করা হবে।”