মোঃ কোব্বাদ খান- একজন শিক্ষানুরাগী এবং সমাজ সংস্কারক

Spread the love

মোঃ কোব্বাদ খান: একটি নাম, হাজারো-লাখো মানুষের হৃদয়ে লেখা এক টুকরো ভালবাসা, একজন প্রতিষ্ঠান, একজন শিক্ষানুরাগী এবং সমাজ সংস্কারক যিনি তৎকালীন অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজকে আলোকজ্জ্বল করার প্রয়াসে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায়, সমাজ থেকে অন্যায়, অসত্য এবং অসমতা দূর করতে এবং সমাজের প্রতিটি মানুষের যথার্থ মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে রেখে গেছেন অনুপম ন্যায় বিচারের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

একজন ব্যক্তির প্রকৃত প্রয়াস, সঠিক আলোর দিশা এবং অনুপম ন্যায় বিচারের মাধ্যমে একটি সমাজ কিভাবে উন্নত হতে পারে, শৃঙ্খল হতে পারে এবং কিভাবে আলোর মহিমায় জাগ্রত হতে পারে তার সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরণ মরহুম মোঃ কোব্বাদ খান। এলাকার মানুষ যাতে প্রকৃত শিক্ষার আলোয় আলোকিত হতে পারে সেজন্য তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন অনেক স্কুল-প্রতিষ্ঠান এবং মাদ্রাসা।

জনাব মোঃ কোব্বাদ খান ১৮৯৫ সালে কুমিল্লা জেলার অন্তর্গত ডেউয়াতলী অত্যন্ত সম্ভ্রান্ত পরিবার খান বাড়িতে জন্মগ্রহন করেন। তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের অধিকাংশ সময়ই বরুড়ার অন্তর্গত দেওড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং জীবনের একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ডেউয়াতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে উনার গুরুত্বপূূর্ণ এবং অপরিহার্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি নিজে যেমনি সমাজে শিক্ষার আলো ছড়াতে মহান শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত ছিলেন, তেমনি উনার নিজ গ্রাম ডেউয়াতলী তথা সামগ্রিক বরুড়াতে যেনো শিক্ষার আলো প্রসারিত হয় সেজন্য বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। উনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এবং যোগ্য প্রশাসনিক নৈপূর্ণতায় কাদবা তারনী চরণ লাহা উচ্চ বিদ্যালয় (তলাগ্রাম), ঝলম উচ্চ বিদ্যালয়, ডেউয়াতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মহিদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, দেওড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, অর্জুনতলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং শশইয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় (যা পরবর্তিতে হাই স্কুলেও উন্নীত হয় এবং শশইয়া দুদু মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত) প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য, উনার নিজ জন্মস্থান ডেউয়াতলী গ্রামটি তৎকালীন সময়ে শিক্ষা প্রসারে ছিল অনেকটা অনগ্রসর এবং মানুষের মধ্যে জীবনের প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষা অর্জন, এলাকায় শিক্ষার বিস্তার এবং জ্ঞানের আলো প্রসারিত করতেই মোঃ কোব্বাদ খান এবং উনার ভাই মোঃ দারাপ খান গুরুত্বপূর্ণ ভূমি দাতা হিসেবে ডেউয়াতলীতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন যা পরবর্তিতে ডেউয়াতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়- যে প্রতিষ্ঠানটি হাজার-হাজার ছাত্র/ছাত্রীর পথ-প্রদর্শক হিসেবে ডেউয়াতলী খান বাড়ি সংলগ্ন ভূমিতে (মোঃ কোব্বাদ খান এবং মোঃ দারাপ খান মালিকানার) স্বমহিমায় অধিষ্ঠিত যা জ্ঞানের আলো ছড়ানোর প্রক্রিয়ায় অনন্তকাল ধরে রবে প্রবাহমান। এখানে এ কথাটা বিশেষভাবে উল্লেখ্য, এ বিদ্যালয় থেকে জীবনের প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহন করে আজ কেউ এদেশের স্বনামধন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক, স্বনামধন্য সরকারী ডাক্তার, স্বনামধন্য উপসচিব, স্বনামধন্য ইঞ্জিনিয়ার, স্বনামধন্য সরকারী চাকুরীজীবি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পেশায় নিয়োজিত হয়ে দেশের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করেছেন। তিনি যেমনি মহান শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত হয়ে প্রকৃত মানুষ গড়তে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করেছিলেন, তেমনি শিক্ষকতার পাশাপাশি সমাজসেবা এবং সমাজ সংস্কারে তিনি রেখেছিলেন অপরিহার্য এবং অনন্য অসাধারন ভূমিকা। একটি অনুপম সমাজ সংস্কারের জন্য ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা খুবই অপরিহার্য। আর আমাদের সমাজ থেকে অন্যায়-অবিচারের কালো আধাঁর দূরীকরণে এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মহান ন্যায় বিচারক হিসেবেও তিনি অনুপম ভূমিকা পালন করেছিলেন যাঁর ন্যায় প্রতিষ্ঠার অনুপম অধ্যায়ে একটি অবিচারও সংগঠিত হয় নি, এমনকি কখনো কারো প্রতি অবিচার ও অন্যায় আচরণ উনার জীবদ্দশায় ছিল পুরোপুরি অপরিকল্পনীয়।

মোঃ কোব্বাদ খান তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকান্ডে সমপৃক্ত ছিলেন এবং তাঁর সকল প্রকার কর্মকান্ডের সত্যিকারের লক্ষ্যই ছিল সমাজের প্রতি যথার্থ সেবা এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজকে আলোকিত করার জন্য যথোপযুক্ত সমাজ সংস্কার। তিনি ছিলেন বৃটিশ শাসনামলে ঋণ শালিসী বোর্ডের চেয়াম্যান, কুমিল্লা জেলা পরিষদের জীবন সদস্য, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র প্রণয়ন এবং প্রকাশনা সমিতির সভাপতি, বরুড়া প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি এবং কর্মজীবনের অধিকাংশ সময় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (দেওড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ডেউয়াতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়) প্রধান শিক্ষক হিসেবে উনার গুরুত্বপূর্ণ ভমিকা পালন করেন। উল্লেখ্য, তিনি দেওড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ দিন যাবত (মতান্তরে প্রায় ৩০ বছর) এবং ডেউয়াতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭-৮ বছর প্রধান শিক্ষক হিসেবে তাঁর মহান শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত হয়ে শিক্ষার আলো প্রদানে অপরিহার্য ভূমিকা রেখেছিলেন।

জনাব মোঃ কোব্বাদ খান এর কর্মতৎপরতা শুধুমাত্র তাঁর এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল না, উনার কর্মপরিধি বিস্তৃত ছিল সামগ্রিক বরুড়া উপজেলা এবং তৎসংলগ্ন অন্যান্য এলাকা তথা কুমিল্লা অঞ্চলকেও ভিত্তি করে। এক সময় বরুড়া উপজেলা চান্দিনার অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং বরুড়াকে তার নিজস্ব বলয়ে গড়ে তোলা এবং চান্দিনা থেকে আলাদা করে অন্য এক সমৃদ্ধ জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন এবং তৎকালীন প্রশাসনকে বিশেষভাবে সহায়তা প্রদান করেন। চান্দিনা থেকে বরুড়া আলাদা হওয়ার পর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা এবং স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যেনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন সেজন্য প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি গঠনের ব্যাপারে উনার ভূমিকা ছিল অপরিসীম এবং তিনি জীবদ্দশায় অনেক বছর যাবত শিক্ষক সমিতির সভাপতি হিসেবে অধিষ্ঠিত ছিলেন এবং উনার মৃত্যুর পর উনার বড় সন্তান মোঃ এবাদত খান (যিনি অর্জুনতলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৫ বছর যাবত স্বনামধন্য সহকারী শিক্ষক এবং ডেউয়াতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি নিদ্দিষ্ট সময় যাবত একজন স্বনামধন্য প্রধান শিক্ষক ছিলেন) অনেক বছর যাবত সমিতির সভাপতি হিসেবে অধিষ্ঠিত থেকে শিক্ষকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সেসাথে উল্লেখ্য, জনাব মোঃ কোব্বাদ খানের মহান শিক্ষকতা পেশায় অনুপাণিত হয়ে উনার দ্বিতীয় সন্তান জনাব আবুল হাসেম খানও (মরহুম) জীবনের একটি বড় অংশ (৪০ বছর) দেওড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মহিদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ডেউয়াতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মহান শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত থেকে শিক্ষার আলো প্রসারিত করেছিলেন। এছাড়া, উনার তৃতীয় সন্তান জনাব মোঃ আমিন খান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক সংস্থায় চাকুরীরত ছিলেন এবং বিভিন্ন সময়ে তিনি ডেউয়াতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে উনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। বরুড়ায় টিএনটি, পোস্ট অফিস এবং বরুড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় (যা পরবর্তিতে জুনিয়র হাই ¯কুলে উপনীত হয়) প্রতিষ্ঠার মূলে অপরিহার্য ভূমিকা রেখেছিলেন বরুড়ার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব আবু খন্দকার। আর উনাকে এ ব্যাপারে অপরিহার্য প্রশাসনিক সহযোগিতা, উৎসাহ এবং অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিলেন জনাব মোঃ কোব্বাদ খান, যেহেতু সে সময়কার স্থানীয় প্রশাসন এবং শিক্ষা অফিসারের সাথে উনার একটা ঘনিষ্ট সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল। কুমিল্লা নগরীতে অবস্থিত কুমিল্লা মডার্ন স্কুলের (প্রাথমিক) পূর্বতন নাম ছিল চিলড্রেন’স সং (ঈযরষফৎবহ’ং ঝড়হম) যার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তৎকালীন (ষাটের দশক) বৃহত্তর কুমিল্লার নসির কোর্টের (বর্তমানে চাঁদপুরে অবস্থিত) বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং শিক্ষানুরাগী এম. এ কুদ্দুস এবং মতান্তরে এটাও জানা যায়, জনাব এম.এ কুদ্দুসের সাথে জনাব মোঃ কোব্বাদ খান এর একটা গভীর সম্পর্ক ছিল এবং জনাব মোঃ কোব্বাদ খান বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উনার সাথে পরামর্শ করতেন এবং বরুড়ার অন্তর্ভূক্ত বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রেও জনাব মোঃ কোব্বাদ খান এম.এ কুদ্দুসের নিকট থেকে বিভিন্ন সহযোগিতা এবং উৎসাহ পেয়েছিলেন, যা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে বরুড়া অঞ্চলে শিক্ষার প্রসারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি ছাত্র/ছাত্রীরা যেনো উপযুক্ত ধর্মীয় শিক্ষা অর্জন করতে পারে সেজন্য এলাকায় কিছু মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠায়ও জনাব মোঃ কোব্বাদ খান গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদান করেন এবং অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। যোগাযোগের একটি অন্যতম প্রধান মাধ্যম ডাক ব্যবস্থা, যা তৎকালীন সময়ে শুধু ডেউয়াতলী গ্রামই নয় পুরো বরুড়াতেই এ ব্যবস্থা ছিল অনেকটাই অপ্রতুল। ডেউয়াতলী এবং তৎসংলগ্ন কয়েকটি এলাকার মানুষ যাতে তাদের দেশ-বিদেশের আতœীয়-স্বজনদের সাথে সহজে যোগাযোগ করতে পারে এবং তাদের অর্থনৈতিক লেন-দেন সম্পন্ন করতে পারে সেজন্য জনাব মোঃ কোব্বাদ খানের স্বপ্ন ছিল ডেউয়াতলী গ্রামে একটি ডাকঘর প্রতিষ্ঠা করা, যদিওবা উনার জীবদ্দশায় তা বাস্তবায়ন করে যেতে পারেন নি তবে উনার সে স্বপ্নের উৎসাহে সারথী হিসেবে উনার সুযোগ্য সন্তান কুমিল্লা জিলা স্কুল ও কুমিল্লা ল্যাবরেটরি হাই স্কুলের প্রাক্তন স্বনামধন্য সহকারী শিক্ষক এবং কুমিল্লা প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (পিটিআই) এর প্রাক্তন প্রশিক্ষক জনাব মোঃ আব্দুল মোমেন খান (মরহুম) এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ডেউয়াতলীতে একটি সরকারী ডাকঘর প্রতিষ্ঠিত হয় যা খান বাড়ীর ভূমিতে সুপ্রতিষ্ঠিত এবং হাজার-হাজার মানুষকে যোগাযোগের সেবা প্রদানে সমুজ্জ্বল।

১৯৬৭ সালের ২৭শে অক্টোবর- দিনটি ছিল ডেউয়াতলী তথা বৃহত্তর বরুড়া-চান্দিনা এবং কুমিল্লা অঞ্চলের মানুষের কাছে অত্যন্ত শোকাবহ একটি দিন। কারণ এ দিনটিতে জনাব মোঃ কোব্বাদ খান ৭২ বছর বয়সে এ পৃথিবী থেকে চির বিদায় নেন এবং শুধু বরুড়াই নয়, বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চলের মানুষ চির দিনের জন্য হারিয়ে ফেলেন তাদের আলোর দিশারী, সমাজ সেবক, সমাজ সংস্কারক, শিক্ষানুরাগী এবং অনুপম ন্যায় বিচারককে। কিন্তু উনার মৃত্যুর ৫৩ বছর পরও তিনি তাঁর কর্মের গুণে লক্ষ-লক্ষ মানুষ এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মতরে স্মৃতিতে অম্লান, এমনকি তিনি মানুষের মাঝে অমর হয়ে থাকবেন যে অমরত্ব প্রবাহমান অনন্তকাল। প্রবাহমান নদীর ¯্রােত এবং সময় যেমন থেমে থাকে ন্,া গড়িয়ে যায় একান্ত আপন ইচ্ছায় তেমনি দেখতে দেখতে কেটে গেলো জনাব মোঃ কোব্বাদ খান এর (আমাদের প্রিয় এবং শ্রদ্ধেয় দাদা) মৃত্যুর ৫৩ বছর যিনি উনার কর্মের গুণে বেঁচে আছেন কিংবদন্তী হয়ে। বিগত ২৭ অক্টোবর, ২০১৭ইং রোজ শুক্রবার (৫০ বছর আগে এমনি একটি শুক্রবারে তিনি মৃত্যু বরণ করেছিলেন) এমন একজন ন্যায়বিচারক এবং কিংবদন্তীর প্রতি পরম শ্রদ্ধা এবং ভালবাসাস্বরুপ উনার উত্তরসূরীদের (ডেউয়াতলী খান বাড়ীর সদস্যবৃন্দের) উদ্যোগে ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয় যেখানে সন্মানীত শিক্ষকবৃন্দ, সন্মানীত ডাক্তারবৃন্দ, সমাজের বিভিন্ন পেশাজীবি ব্যক্তিত্ববর্গ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক এবং বর্তমান চেয়ারম্যানবর্গ এবং এলাকার অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ আমন্ত্রীত অতিথি হয়ে আসেন এবং উনাকে পরম শ্রদ্ধায় স্মৃতিচারণ করেন।

একজন কিংবদন্তীর স্বপ্ন কখনো হারিয়ে যায় না, তা অব্যাহত থাকে প্রবাহমান কাল ধরে তাঁর উত্তরসূরি কিছু অনুপম কান্ডারীর কৃর্তীর মধ্য দিয়ে। তিনি যেমনি মহান শিক্ষকতার পেশায় থেকে সমাজ থেকে অন্ধকার দূুর করে আলো ছড়ানোর জন্য একজন আলোর দিশারী হিসেবে অপরিহার্য ভূমিকা রেখেছিলেন তেমনি উনার অধিকাংশ সন্তান মহান শিক্ষকতায় নিয়োজিত হয়ে রেখেছিলেন সমাজ সংস্কারে অনন্য ভূমিকা। আর দাদার অনুপম আদর্শকে আরো এগিয়ে নিতে এবং দাদার কর্মকান্ডকে জীবন্ত রাখতে উত্তরসূরিদের কেউ বিমান বাহিনীর সাবেক অফিসার, কেউ দেশের স্বনামধন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক, কেউ সেনাবাহিনীর স্বনামধন্য মেজর, কেউ স্বনামধন্য সরকারী ডাক্তার (বিসিএস-স্বাস্থ্য), কেউ বিমান বাহিনীর স্বনামধন্য স্কর্ডন লিডার, কেউ নৌ বাহিনীর স্বনামধন্য পাইলট, কেউ সন্মানীত এবং স্বনামধন্য স্কুল শিক্ষক, কেউ স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের সন্মানীত ব্যবস্থাপক এবং কেউ অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন যাদের স্বপ্ন এবং উদ্দেশ্য দাদার রেখে যাওয়া আদর্শ এবং কর্মকান্ডকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং কিংবদন্তীর আদর্শ বাস্তবায়নে সমাজ এবং দেশপ্রেমে প্রত্যয়ী হয়ে দশ এবং দেশের মানুষের সেবা করা। আরো একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ্য, দাদার কর্মকান্ডকে সমুজ্জ্বল করতে এবং আরো এগিয়ে নিতে উনার উত্তরসূরিদের (নাতি-নাতনীবর্গ এবং উনাদের সন্তানবর্গ) সার্বিক সহযোগিতায় খুব শীঘ্রই একটি জনকল্যাণমূলক ফাউন্ডেশন গঠন করতে যাচ্ছে যার নামকরণ হবে- মরহুম মোঃ কোব্বাদ খান ফাউন্ডেশন।

মানুষ তাঁর কর্মের গুণে এ পৃথিবীতে অম্লান এবং অবিনশ্বর থাকে অনন্তকাল। মরহুম মোঃ কোব্বাদ খান যেমনি তাঁর কর্ম এবং সৃষ্টির মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল তেমনি উনার সকল কর্ম-সৃষ্টি, মানুষের প্রতি ভালবাসা, আলোর দিশা, সমাজ সংস্কার এবং অনুপম ন্যায় বিচার ইত্যাদি বেঁচে থাকবে যুগ থেকে যুগান্তরে পরম শ্রদ্ধায় এবং ভালবাসায়। আর উনার স্বপ্ন, স্মৃতি এবং কর্ম অবশ্যই বেঁচে থাকবে অনন্তকাল উত্তরসূরিদের পরম সততা, সৃষ্টিশীলতা, কর্ম, মানুষের প্রতি ভালবাসা, সমাজসেবা, সমাজ সংস্কার, যথার্থ শিক্ষা অর্জনপূর্বক শিক্ষানুরাগ, ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং দেশের প্রতি অনুপম ভালবাসার মধ্য দিয়ে- আলোর দিশারী, শিক্ষানুরাগী, সমাজ সংস্কারক এবং ন্যায় বিচারক মরহুম মোঃ কোব্বাদ খান (প্রিয় দাদা) এর প্রতি পরম ভালবাসাসিক্ত এ আমাদের প্রত্যয় এবং শপথ।

লেখকঃ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান খান
সহকারী অধ্যাপক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ এবং
সহকারী প্রভোস্ট, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।
ঊ-সধরষ: ংযড়যধম৯৯ংঁংঃ@মসধরষ.পড়স