‘ট্রাম্পকার্ড’ মিশিগান!

Spread the love

অনলাইন ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর নজিরবিহীন আক্রমণ চালিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির ইতিহাসে এমনটা আর কখনও দেখা যায়নি। পপুলার ও ইলেক্টোরাল ভোটে সুস্পষ্ট ব্যবধানে জো বাইডেন জয়ী হলেও ট্রাম্প ভিত্তিহীন জালিয়াতির অভিযোগ তুলে দেশটির প্রায় নিখুঁত নির্বাচনী ব্যবস্থাকে কলঙ্কিত করেছেন। অথচ তার জয়ের কোনো সম্ভাবনাই আর নেই। নির্বাচনকে বিতর্কিত করেই ক্ষান্ত হননি রিপাবলিকান নেতা ট্রাম্প। তিনি ফলাফল পাল্টে দেওয়ারও চেষ্টা করছেন। ট্রাম্পের শেষ ট্রাম্পকার্ড মিশিগান। সেখানে ফলাফলের সরকারি ঘোষণা আটকাতে চান তিনি।
ক্ষুব্ধ বাইডেন বৃহস্পতিবার বলেছেন, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস তিনি (ট্রাম্প) জানেন যে, তিনি জিততে পারেননি। তিনি যা করছেন তা জঘন্য। গণতন্ত্রের কার্যকারিতা নিয়ে তিনি বিশ্বময় অবিশ্বাস্যরকম ক্ষতিকর বার্তা দিচ্ছেন।’

জর্জিয়া রাজ্যে পুনর্গণনার জন্য আবেদন করেছিল ট্রাম্পশিবির। সে আবেদন মেনে ফের ভোট গণনা করে দেখা যায়, সেখানে বাইডেনই জয়ী হয়েছেন। ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, রাজ্যজুড়ে ব্যাপক ভোট প্রতারণা হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার জর্জিয়ার সেক্রেটারি অব স্টেট বলেছেন, ‘টানা ছয় দিন ধরে হাতে ব্যালট গোনার পর দেখা যায় বাইডেনই জয়ী হয়েছেন।’

এতদিন ধরে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি ছিল জর্জিয়া, এবার সেটা এলো ডেমোক্র্যাটদের হাতে। ট্রাম্পের দাবি মতোই ভোটের ব্যবধান কম থাকায় সব কাউন্টিতেই ভোট পুনর্গণনা হয়। প্রায় ৫০ লাখ ভোট গণনা করে দেখা যায়, শেয পর্যন্ত জয় পেয়েছেন বাইডেনই।
এই রাজ্যে গণনার সময় নানারকম ভ্রান্তি নজরে এসেছে বলে অভিযোগ ছিল ট্রাম্পশিবিরের। চারটি কাউন্টির ক্ষেত্রে কিছু ভোট উদ্ধার করা হয়, যেগুলো আগে গণনা করা হয়নি। এ নিয়ে ফ্লয়েড কাউন্টির প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তাকে বরখাস্তও করা হয়েছে। কারণ, প্রাথমিক গণনায় প্রায় ২৬০০ ভোট গণনা করা হয়নি।

অন্যদিকে মিশিগানে পরাজয় এখনও মেনে নিতে পারছেন না ট্রাম্প। তিনি নজিরবিহীনভাবে হোয়াইট হাউসে ডেকে পাঠিয়েছেন এ রাজ্যের রিপাবলিকান প্রতিনিধিদের। সেখানে বাইডেনকে জয়ী হিসেবে চূড়ান্ত স্বীকৃতি দেওয়ার আগেই নতুন পরিকল্পনা তৈরি করছেন ট্রাম্প। ট্রাম্প চাচ্ছেন, এ রাজ্যে রিপাবলিকান প্রশাসনকে ব্যবহার করে বাইডেনের জয়ের সত্যায়ন করার আগেই কিছু একটা ব্যবস্থা করা বা সত্যায়ন না করা।

এ রাজ্যে একবার ভোটের ফলাফলের সত্যায়ন হলে খাতা-কলমে ট্রাম্পের পরাজয় নথিভুক্ত হয়ে যায়। আগামী ১৪ ডিসেম্বর ইলেক্টোরাল কলেজের ভোট। সেখানেই আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন। তার আগে এই সত্যায়ন বন্ধ করা গেলে সেই ভোটে বাধা সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। সে কারণেই ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা।
তবে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিশিগানে ট্রাম্পের এই প্রচেষ্টা সফল হলেও তাতে তার তেমন কোনো লাভ হবে না। বাইডেনের কাছ থেকে জয় ছিনিয়ে নিতে ট্রাম্পের দরকার আরও কয়েকটি রাজ্যে জয়।

মিশিগানের রিপাবলিকান দলের নেতা মাইক শার্কি অবশ্য ট্রাম্পের নীলনকশায় পানি ঢেলে দিয়ে বলেছেন, সেটা হবে না। তারা আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করবেন। এদিকে ট্রাম্প নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে মামলা করলেও তা খারিজ হয়ে গেছে। সূত্র :নিউইয়র্ক টাইমস, বিবিসি ও সিএনএন।