‘নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে সামাজিক বিভাজন দেখা দিতে পারে’

Spread the love

তুমুল বিতর্কের পরও সোমবার ভারতের লোকসভায় বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ হয়েছে। বিলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে দেশটিতে যাওয়া হিন্দু, খ্রিস্টান, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ ও পার্সি ধর্মাবলম্বীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিলের এই অংশসহ একাধিক অংশ নিয়ে আপত্তি তুলেছেন কংগ্রেসসহ বিরোধী নেতারা। কেউ কেউ বিলটি সংখ্যালঘুদের স্বার্থবিরোধী বলেও ব্যাখ্যা করছেন। বিলের প্রতিবাদে এরই মধ্যে আসামসহ বিভিন্ন রাজ্যে বনধের ডাক দিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। লোকসভায় ‘নাগরিকত্ব সংশোধনী’ বিল পাস এবং এর প্রভাব নিয়ে সমকাল অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত এম. হুমায়ুন কবির

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলটি পাসের ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় প্রকাশ পেয়েছে। প্রথমত, এ ধরনের বিল পাসে ভারতের অসাংবিধানিক চেহারা দেখা গেছে। কারণ ভারতের সংবিধানে সব ধর্ম, শ্রেণির মানুষকে সমান বলা হয়েছে। অথচ নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে সেটা রাখা হয়নি। আপাতদৃষ্টিতে তাই এ আইন সাংবিধানিক ধারার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে মনে হচ্ছে। তবে ভারতের আইন ব্যবস্থাই বলতে পারবে বিষয়টি অসাংবিধানিক কিনা অথবা এটা নিয়ে আদালতে যাওয়া যাবে কিনা।

দ্বিতীয়ত, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলটি পাসে ভারতের ক্ষমতাশীন দল বিজেপির রাজনৈতিক গতিধারা প্রকাশ পেয়েছে। বিজেপি সর্বভারতে কাজ করার সময় যে রাজ্যের জন্য যেটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা ধরে তার সঙ্গে ধর্মীয় কর্মসূচি মিলিয়ে দেয়। তাদের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তারা নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলটি পাস করেছে। এতে কার কি ক্ষতি হলো তাতে তাদের কিছু আসে যায় না। কিন্তু এটাও ঠিক, বিজেপির রাজনীতির কৌশলে পড়ে দেশটিতে মুসলমানরা চাপের মুখে পড়বে। 

তৃতীয়ত, এ ধরনের বিল পাসে সামাজিক বিভাজন তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আর বিভাজন থেকেই সংঘাতের সূত্রপাত হতে পারে। আসামে এনআরসি প্রকাশের পর সেখানে নানা ধরণের অস্থিরতা-অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। নাগরিকপঞ্জীতে নাম না থাকায় কেউ কেউ সেখানে আত্মহত্যা করেছেন। কেউ আবার আদালতে নিজের অধিকার নিয়ে লড়াই করতে না পেরে এদিক-ওদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছেন। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে অন্য ধর্মাবলম্বী শরণার্থীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা থাকলেও মুসলমানদের কথা না থাকায় ওই দেশের মুসলমানদের মধ্যে অশ্চিয়তা দেখা দিতে পারে। তারা নিজেদের অনিরাপদও মনে করতে পারে। 

ভারত বড় দেশ, সেখানে নাগরিকপঞ্জীর নামে এভাবে ধর্ম নিয়ে বিভাজন হলে তার প্রতিক্রিয়া পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও পড়তে পারে। সেই সঙ্গে মনস্তাত্ত্বিক বিভাজনের আশঙ্কাও দেখা দিতে পারে ।