শেরপুরে কদর বেড়েছে গোশত কাটা খাটিয়ার

সেলিম রেজা, শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: মুসলমানদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা’র কোরবানি উপলক্ষ্যে বগুড়ার শেরপুরে কদর বেড়েছে গোশত কাটা খাটিয়ার। গোশত কাটার এ খাটিয়ার সাধারণত গাছের গোড়ার দিকের কাঠ, প্রত্যেকটা গোলাকার, চারপাশটায় গাছের তাজা ছালবাকল, নিচটা সমতল হয়ে থাকে। গোশত কাটার কাজে ব্যবহার করা হয় এ কাঠ। স্থানীয় ভাষায় যাকে বলা হয়ে থাকে খাটিয়া।


তবে প্রত্যেক বছর কোরবানি ঈদের সময় এসব কাঠের আলাদা কদর বেড়ে যায়। কোরবানির পশুর গোশত কাটার জন্য সাধারণত মানুষ এসব খাটিয়া ক্রয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। খাটিয়া তৈরিতে তেঁতুল গাছের কাঠকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। কারণ অন্য কাঠের তুলনায় এ কাঠের দা-ছুরির আঘাত সহ্য করার ক্ষমতা অনেক বেশি। ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত খাটিয়া বিক্রেতারা। থরে থরে সাজিয়ে রেখেছেন এসব কাঠের খাটিয়া।


শনিবার (১০আগস্ট) শেরপুর উপজেলার কলেজ রোড, ধুনট মোড়, রণবীরবালা ঘাটপার, শেরুয়া বটতলা, মির্জাপুর বাজার, ছোনকা বাজারসহ বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে কোরবানির পশুর গোশত কাটার খাটিয়া বিক্রির এমন দৃশ্য নজরে পড়ে।


খাটিয়াগুলো একটির ওপর আরেকটি রাখা। ক্রেতাকে দেখাতে অনেক সময় খাটিয়াগুলো এলোমেলো হয়ে যায়। পর মুহূর্তেই সেগুলো আবার গুছিয়ে রাখতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন খাটিয়া বিক্রেতারা। ক্রেতা সাধারণের দৃষ্টি কাড়তে কাঠের তৈরি খাটিয়াগুলো থরে থরে সুন্দরভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখা হয়েছে। সবকিছুতেই প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে। সবকিছু সহজে করতে চায় মানুষ। আগে সারা বছরই কমবেশি এসব খাটিয়া বিক্রি হতো। এখন শুধু কোরবানির ঈদ এলেই বিক্রিটা বেড়ে যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।


আমজাদ, ফারুক, বাবলা, মিন্টুসহ একাধিক খাটিয়া ব্যবসায়ী জানান, কাঠের মধ্যে তেঁতুল গাছের কাঠ অত্যন্ত শক্ত ও মজবুত। প্রত্যেক বছর এ সময়ে ‘ছ’ মিল ও ফার্নিচার কাজে লাগেনা এমন সাইজের ছোট ছোট কাঠের গুড়ি গোশত কাটার উপযোগী করে নির্দিষ্ট মাপে কেটে খাটিয়া তৈরি করা হয়। খাটিয়ার ‍ওপরের ও নিচের অংশ সুন্দরভাবে কেটে সমতল করে বিক্রির জন্য তৈরী করা হয়।


এসব ব্যবসায়ীরা আরও জানান, অন্য গাছের খাটিয়া দা বা ছুরির আঘাত তেমন একটা সহ্য করতে পারে না। এতে কাঠ থেকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র টুকরো ওঠে গোশত আটকে যায়। যা পরে গোশত থেকে ছাড়াতে বেশ কষ্ট হয়। কিন্তু তেঁতুল গাছের কাঠ শক্ত ও মজবুত হওয়ায় সাধারণত এমনটি খুব কম হয়। প্রতি পিস কাঠের তৈরি এসব খাটিয়া ৭০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হয় বলে জানান।


রবিন সরকার, মামুন, সানোয়ার, আব্দুল বারী আজাদসহ একাধিক ক্রেতা এ প্রতিবেদককে জানান, ঈদের নামাজ পড়ে এসে পশু কোরবানি দেওয়া নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়তে হয়। তখন জিনিসপত্র খোঁজাখুঁজি করা বা অন্যের কাছ থেকে নেওয়া অনেকটা বিড়ম্বনা হয়ে দাঁড়ায়। তাই গোশত কাটার অত্যন্ত প্রয়োজনীয় জিনিস খাটিয়া ক্রয় করেন তারা।

মতামত