ছোট্ট তুবাকে কী জবাব দেবে সমাজ

অনলাইন ডেস্ক ; মহাখালীর ওয়্যারলেস গেট এলাকার বাসায় স্বজনরা যখন তাসলিমা বেগম রেনুর এমন নিষ্ঠুর মৃত্যুতে বিলাপ করছিলেন, তখন পুরো বাসায় খেলা করছিল চার বছর বয়সী তাসনিম তুবা। খেলার পুতুল ছুড়ে মারছিল মেঝেতে। কখনও মায়ের একখানি ছবি হাতে নিয়ে চুমু খাচ্ছিল আনমনে।

চঞ্চলা এই  ছোট্ট শিশুটি জানেও না, পৃথিবীতে তাকে আগলে রাখার কেউ রইল না আর। তুবা এও জানে না, পারিবারিক কলহের নিষ্ঠুরতায় বাবার প্রস্থানের পর শেষ পর্যন্ত বেঁচে থাকার অবলম্বন ছিল মমতাময়ী ওই মা, গুজব নামের দানবের হাতে শিকার হয়ে নিঃশেষ হয়ে গেলেন তিনিও। সে যে একেবারেই স্নেহহীন হয়ে গেল, সেটা জানারও বয়স হয়নি তার। ছোট্ট এই শিশুটিকে কী জবাব দেবে নিষ্ঠুর সমাজ।

রাজধানীর উত্তর বাড্ডা এলাকায় স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছেলেধরা গুজবে কান দিয়ে গত শনিবার একদল নিষ্ঠুর মানুষ নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে তুবার মাকে। যখন তাকে এলোপাতাড়ি পেটানো হচ্ছিল, হয়তো বারবারই তার চোখের সামনে ভেসে আসছিল তুবার মুখখানি। হয়তো তিনি বলে উঠছিলেন, তিনি ছেলেধরা নন, তারও ছেলেমেয়ে রয়েছে।

কিন্তু কিছুতে মন গলেনি গুজব-বিশ্বাসী পাষণ্ডদের। স্বজনরা বলেছেন, তিনি ওই স্কুলে মেয়েকে ভর্তির খোঁজ নিতে গিয়ে মানুষরূপী একদল নির্বোধের চরম হিংস্রতার শিকার হন। যে মা একমাত্র মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন, সেই মেয়ের আগামীটা ঘোর অন্ধকারই হয়ে রইল।

মতামত