সম্মেলনের তোড়জোড় ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগে

অনলাইন ডেস্ক: আওয়ামী লীগের মেয়াদোত্তীর্ণ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার ত্রিবার্ষিক সম্মেলন আয়োজনের সম্ভাবনা জোরালো হয়ে উঠেছে। এমন সম্ভাবনায় সাংগঠনিকভাবে তৎপর হয়ে উঠেছেন রাজনীতির প্রাণকেন্দ্র রাজধানী ঢাকার নেতাকর্মীরা।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দলীয় ফোরামের একাধিক বৈঠকে আগামী অক্টোবরে দলের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের আগেই ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার সম্মেলন আয়োজনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দলের পরবর্তী কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে জেলা কমিটির মর্যাদাভুক্ত। ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর দলের অবিভক্ত ঢাকা মহানগর শাখার সর্বশেষ সম্মেলন হয়। এরও প্রায় সাড়ে তিন বছর পর ২০১৬ সালের ১০ এপ্রিল মহানগর কমিটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করে উত্তর ও দক্ষিণের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়। মহানগর উত্তরে একেএম রহমত উল্লাহকে সভাপতি ও সাদেক খানকে সাধারণ সম্পাদক এবং দক্ষিণে হাজি আবুল হাসনাতকে সভাপতি ও শাহে আলম মুরাদকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। একই দিন ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের ৫০টি থানা, ১০৩টি ওয়ার্ড (১০টি সাংগঠনিক ওয়ার্ডসহ) এবং ১৭টি ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নামও ঘোষণা করা হয়। এরও পাঁচ মাস পর ১১ সেপ্টেম্বর মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের কার্যনির্বাহী সংসদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হয়।

চলতি বছরের ১০ এপ্রিল উত্তর ও দক্ষিণ উভয় অংশের কমিটির মেয়াদ তিন বছর পেরিয়ে গেছে। তবে মেয়াদ পেরুলেও সব থানা-ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে পারেননি উভয় অংশের নেতারা। দলের সদস্য সংগ্রহ অভিযানও পূর্ণমাত্রায় শুরু করতে পারেননি তারা। এসব নিয়ে মহানগরের মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা এবং ক্ষোভ রয়েছে। তবে প্রথা অনুযায়ী জাতীয় সম্মেলনের দু’দিন আগে ঢাকা মহানগর সম্মেলন করা হয়। এবারও এর ব্যতিক্রম না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে মহানগর সম্মেলন হয়ে গেলেও বরাবরের মতো এবারও জাতীয় সম্মেলনের পর উভয় অংশের নতুন নেতৃত্বের ঘোষণা একসঙ্গে আসতে পারে।

সম্মেলনকে সামনে রেখে শীর্ষ পদ পেতে তৎপর হয়ে উঠেছেন ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের বর্তমান কমিটির নেতারা। দুই অংশের বর্তমান কমিটির চার শীর্ষ নেতার পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকজন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আসতে চাইছেন। দলীয় নীতিনির্ধারক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার চেষ্টাও করছেন তারা।

কার্যনির্বাহী কমিটির অন্য নেতারাও চাইছেন আগের পদ থেকে পদোন্নতি নিয়ে তুলনামূলক বড় পদে আসতে।

এর আগে মহানগর কমিটির পাশাপাশি নগরীর থানা-ওয়ার্ড-ইউনিয়ন কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে গিয়ে নানা সমালোচনা ও বিতর্কে জড়িয়েছেন শীর্ষ নেতারা। অর্থের বিনিময়ে সব কমিটিতেই হাইব্রিড ও বিএনপি-জামায়াত-ফ্রিডম পার্টির নেতাকর্মী এবং সন্ত্রাসী-জঙ্গি, মাদক ব্যবসায়ীসহ বিতর্কিত ব্যক্তিদের ঠাঁই দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে নগর উত্তরের শীর্ষ দুই নেতা সভাপতি একেএম রহমত উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, পরীক্ষিত ও ত্যাগীদের বাদ দিয়ে ‘পকেটের লোক’ কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার। নেতাকর্মীদের প্রতিবাদের মুখে এবং দলীয়প্রধান শেখ হাসিনার নির্দেশে সব কমিটি দুই দফায় স্থগিতও করা হয়েছে। এরপরও নতুন ঘোষিত উত্তরের মাঠপর্যায়ের কমিটিগুলোতে বিতর্কিত নেতাদের প্রাধান্য থাকার অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের মাঠ পর্যায়ের কমিটিতে প্রভাব বিস্তার করতে গিয়ে নিজেদের মধ্যে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন এই অংশের নেতারা। এ অবস্থায় দক্ষিণ অংশের ১২টি থানা ও এসব থানার ২৬টি ওয়ার্ড ছাড়া সিংহভাগ থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটিই পূর্ণাঙ্গ করা যায়নি। পূর্ণাঙ্গ কমিটিগুলোর ক্ষেত্রেও অভিযোগ রয়েছে উপ-দলকে ভারী করতে অনেক বিতর্কিত ও হাইব্রিডদের ঠাঁই করে দেওয়ার।

এ অবস্থায় নগর নেতাদের প্রত্যাশা, মহানগরীর মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে গতিশীলতা আনতে উত্তর ও দক্ষিণাংশের সম্মেলনে হাইব্রিড ও বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে দলের নবীন-প্রবীণ, ত্যাগী-দক্ষ নেতাদের সমন্বয়ে যোগ্য কমিটি করতে হবে। পাশাপাশি থানা-ওয়ার্ড এবং ইউনিয়ন কমিটিগুলোও সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী করে সাজানো হবে।

নীতিনির্ধারক নেতারা বলছেন, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সম্মেলনে নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দেওয়া হবে। এ জন্য বর্তমান কমিটির নেতাদের কর্মতৎপরতা ও তরুণ নেতাদের কার্যক্রম বিশেষ নজরে রাখছেন দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ সমকালকে বলেন, জাতীয় সম্মেলনের আগেই মহানগর সম্মেলন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। তবে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশনা মেনে যে কোনো সময় সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি রয়েছে তাদের। ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানও বলেন, কেন্দ্র থেকে যখনই সম্মেলন আয়োজনের কথা বলা হবে, তখনই তা করে ফেলবেন তারা।

মহানগরের কমিটি গঠনসহ সার্বিক কার্যক্রম দেখভালের দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান বলেছেন, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন নিয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করেই সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

মতামত