কক্সবাজারে মালশিয়াগামী বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা উদ্ধার

জাহেদ হাসান কক্সবাজার প্রতিনিধি : কক্সবাজার শহরে মেরিন ড্রাইভ সড়ক সংলগ্ন দরিয়ানগর, কক্সবাজার টেকনাফ মহাসড়কের মরিচ্যা যৌথ চেকপোস্ট এবং টেকনাফ বাহারছড়া এলাকা থেকে পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু উদ্ধার করেছে পুলিশ বিজিবি। ১৪ মে দুপুর বিকাল এবং রাতে অভিযান চালিয়ে এসব রোহিঙ্গাদের উদ্ধার করা হয়।

বিজিবি ও পুলিশ জানিয়েছে উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আইন শৃংখলা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে এসব রোহিঙ্গা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পালিয়ে যাচ্ছিল। এক শ্রেণির দালাল সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারের জন্য এসব রোহিঙ্গাকে ক্যাম্প থেকে কৌশলে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছিল। সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে কক্সবাজার শহরতলীর শুকনাছড়ি ও দরিয়া নগর সমুদ্র ঘাটে রাতের আঁধারে জড়ো করা ২৮ নারী-পুরুষ ও শিশুকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল রাত সাড়ে ১০টায় শুকনাছড়ি ও দরিয়ানগর এলাকা থেকে তাদেরকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়। উদ্ধারকৃত মালয়েশিয়াগামীদের মধ্যে ১৩ জন নারী, ৯ জন পুরুষ ও ৬টি শিশু রয়েছে। এসময় পাচারকাজে জড়িত একটি নৌকাও জব্দ করা হয়।স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, মালয়েশিয়ায় মানব পাচারকারী একটি চক্র মঙ্গলবার রাতের আঁধারে দরিয়ানগর ও শুকনাছড়ি ঘাটে জড়ো করে অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশু।

বিষয়টি টের পেয়ে এলাকার শতাধিক মানুষ রাত সাড়ে ৯টার দিকে জড়ো হয়ে সমুদ্র সৈকত ও সৈকতে মানব পাচারকারীদের একটি বাড়ি ঘেরাও করে মোট ২৮জনকে আটকে রাখে। পরে পুলিশে খবর দেয়া হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ২৮ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। আটক মালয়েশিয়াগামীদের মধ্যে ১৩ জন নারী, ৯ জন পুরুষ ও ৬টি শিশু। স্থানীয় যুবনেতা ইমাম হোসেন ও পারভেজ জানান, মালয়েশিয়ায় আদম পাচারকারী একটি চক্রের সদস্যরা দরিয়ানগর ও শু শুকনাছড়ি ঘাটকে আবারো মানব পাচারের রুট হিসাবে ব্যবহার শুরু করার খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতে এলাকাবাসী জড়ো হয়ে একটি বাড়িতে ২৪ জন ও সমুদ্র সৈকত থেকে বাকী চারজনকে আটকে রাখে। এসময় রাতের আঁধারে আরো কিছু মালয়েশিয়াগামীসহ মানবপাচারকারী দালাল সটকে পড়ে।কক্সবাজার সদর থানার ওসি ফরিদউদ্দিন খন্দকার জানান, আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হবে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত সকলেই রোহিঙ্গা বলে স্বীকার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দালালদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এসময় পাচারকাজে জড়িত একটি নৌকাও জব্দ করা হয় বলে জানান তিনি। এদিকে স্থানীয় কতিপয় দালাল চক্রের মাধ্যমে রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ছেড়ে তাদের গন্তব্য স্থানে পৌছে যেতে সক্ষম হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের কক্সবাজার শহরতলীর লিংক রোড পর্যন্ত পৌছে দেয়া বাবদ জন প্রতি দালালকে ৫০০ টাকা দিতে হয় বলে রোহিঙ্গাদের মুখ থেকে বেরিয়ে এসেছে। গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কক্সবাজারগামী যাত্রীবাহী গাড়িতে তল্লাশী চালিয়ে প্রায় নারী পুরুষ শিশুসহ ২৭ জন রোহিঙ্গাকে আটক করে উখিয়া থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করেছে বিজিবি সদস্যরা। উখিয়া থানা হেফাজতে থাকা বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গার সাথে কথা বলে জানতে চাওয়া হয় তাদের গন্তব্য স্থান কোথায় এমন প্রশ্নের জবাবে অজিউল্ল্যাহ (৪৫) রোহিঙ্গা জানায় তারা বালুখালী ক্যাম্পে থাকতেন। বর্তমানে প্রচন্ড গরমের জ্বালায় ছোট ছোট ছেলে মেয়ে নিয়ে পলিথিনের ছাওনির উপর বসবাস করা কোনভাবে সম্ভব নয়। তাই কোথাও ভাড়া বাসা নিয়ে আপাতত থাকার জন্য কক্সবাজার দিকে চলে যাচ্ছে।

এসময় আরও বেশ কয়েকজন একই কথা বললেও পুলিশ বললেন তা সত্য নয়। মুলত তারা সগর পথে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য ক্যাম্প ছাড়ছেন দালালের মাধ্যমে। উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ তদন্ত নুরুল ইসলাম জানায়, প্রতিদিন রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ছেড়ে পালাচ্ছে। পথি মধ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে ধরা পড়েছে তাদেরকে ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সোমবার ঢাকা খিলগাওঁ ডিবি পুলিশের হাতে আটক ২৩জন রোহিঙ্গাকে ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তারা ভূয়া পাসপোট নিয়ে বিমানে মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আর টেকনাফ বাহারছড়া উপকুল হয়ে মালয়েশিয়া গমনের জন্য অবস্থানকালে ফের ১১জন নারীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ব্যাপারে বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা স্বাপেক্ষে উদ্ধারকৃত ভিকটিমদের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

মতামত