চিরিরবন্দরে ধান উৎপাদন করে কপাল পুড়লো কৃষকের

সোহাগ গাজী, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে এবার ইরি-বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও বাজারে দাম না থাকায় কপাল পুড়লো কৃষকের। এমন আক্ষেপ করে কৃষকরা জানান, চলতি ইরি বোরো মৌসুমে চিরিরবন্দরের অধিকাংশ জমিতে ব্যাপক হারে ব্রিধান-১৬, ২৮,২৯ ও চিকন ধান চাষ হয়েছে। কিন্তু বাজারে ধানের দাম থাকায় উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা বরং প্রতি বিঘায় দুই হাজার টাকা করে লোকসান গুনতে হচ্ছে।

এ নিয়ে দিশেহারা কৃষক। উপজেলার অমরপুর ইউনিয়নের জয়দেবপুর গ্রামের কৃষক রেজাউল হক জানান, এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করে ৩০ মন ধান উৎপাদন করেছেন যার বাজার মুল্য ১৫ হাজার টাকা। রোপা লাগানো হতে ধান কাটা মাড়াই পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে ১৬ হাজার টাকা। আব্দুলপুর গ্রামের কৃষক ইমরান হোসেন জানান, তিনি এক বিঘা জমি শুধু ইরি মৌসুমের জন্য জমি মালিকের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকায় চুক্তি নিয়ে ধান চাষ করেছেন ওই জমি হতে তিনি এবার ৪০ মন ধান উৎপাদন করেছেন যার বাজার মূল্য ২০ হাজার টাকা।

উৎপাদন খরচ ও চুক্তির টাকা সব মিলে তার ব্যয় ২৬ হাজার টাকা। রেজাউল ও ইমরানের মত অনেক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, ধান কাটা মজুর সিন্ডিকেট চক্র জোটবদ্ধ হয়ে তাদের ইচ্ছেমত ধান কাটা ও মাড়াই করতে বিঘাপ্রতি ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা কৃষকদের কাছ থেকে আদায় করছেন। যা উৎপাদন খরচের একটা অনেক বড় অংশ। আবার অনেক কৃষক সঠিক নিয়মে ও সময়মতো জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ করতে না পারায় তাদের উৎপাদন হয়েছে বিঘাপ্রতি ১৬ হতে ১৮ মন ধান। শুধু তাই নয় ধান বিক্রির সময় সাড়ে ৩৭ কেজিতে যেখানে এক মন ধান সেখানে ধান ক্রেতারা কৃষককে জিম্মি করে ৩৯ কেজিতে এক মন ধান ক্রয় করছেন।

সব মিলে এবার ধান উৎপাদন করে কপাল পুড়লো কৃষকের। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, ধান উৎপাদনে কৃষকের সাথে সার্বক্ষনিক সহযোগিতা করেছে কৃষি বিভাগ কিন্তু বাজারে ধানের মূল্য কম হওয়ায় ধানের পাশাপাশি কৃষকদের অন্য ফসল উৎপাদনেরও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

মতামত