উখিয়া-টেকনাফের সরকারী চাকুরিজীবিদের যৌক্তিক দাবী- মু.ইছমাঈল বকুল

মানবতার জনপদ খ্যাত উখিয়া- টেকনাফে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম খুব চড়া( চাল- ডাল ব্যাতিত)। তীব্র মাছের সংকটে এ জনপদের মানুষগুলো। নাফ নদীতে মাছ আহরণ নিষিদ্ধ আর বৃহত্তর রোহিঙ্গা জনগোষ্টীর আমিষ চাহিদা মিটাতে গিয়ে প্রায়  নিরামিষ সম্প্রদায়ে রূপান্তরিত হচ্ছে এ জনপদ।স্থানীয় মাছের ঘের হতে উৎপাদিত মাছে সরকারি চাকুরিজীবিদের হাত দেয়ার সুযোগ নেই।বিদেশী N G O কর্মকর্তাদের বিশাল অংকের বেতনের জোরে বাজারে পৌঁছার আগে বিক্রি হয়ে যায়।তা ছাড়া মাদক সংশ্লিষ্টদের টাকার প্রভাব তো চিরন্তন ব্যাপার,তুলনামুলক এখানকার মাছের দাম রাজধানী ঢাকার চাইতে কম বলে মনে হয়না। গো- মাংসের দাম তো ৬৫০ টাকায় ঠেকেছে। বাজারে দুই বিত্তশালীদের প্রভাবে এভাবে দ্রুত লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলেছে নিত্যপণ্যের দাম।

যাতায়ত খরচ,বাসা ভাড়া,জমির দাম,ভোগ্যপণ্য সহ প্রায় সবকটির দাম হু- হু করে বেড়েই চলেছে। এমন কি অজাইত্তা কচুর লতির দাম ও প্রায় একশত টাকায় গিয়ে গরম নিঃশ্বাস পেলছে সামনে যাওয়ার অতীব আগ্রহ নিয়ে।পর্যটন জোন হিসেবে ও এখানে দেশ- বিদেশী পর্যটকদের ভিড়ে পণ্যের দাম উদ্ভিদের মতো বেড়ে যেতে কার্পণ্য করছে না।মারাত্নক পরিবেশ দূষণর ফলে রোগ- ব্যাধির প্রকোপ তো অস্বীকার করার সুযোগ নেই।রোহিঙ্গাদের আশ্রায়ন কেন্দ্র গড়তে গিয়ে ফসলি জমির উপর মারাত্নক প্রভাব পড়েছে। এসব অনুধাবন করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় বাঙালীদের মৌলিক চাহিদা পুরণে বদ্ধপরিকর হয়ে চাল বিতরণ সহ নানাবিধ পুণর্বাসন প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছে, যা যুগোপযোগী ও  মানবিক সিদ্ধান্ত। স্থানীয় জনগোষ্টীর বিপাকে পড়াটা এ সিদ্ধান্তটাই   স্বীকৃতি দেয়। বিশ্বজুড়ে উখিয়া- টেকনাফের স্থানীয়দের অস্বস্থিতে থাকাটা স্বীকৃত। এক মানবসৃষ্ট দুর্যোগকাল অতিবাহিত করে যাচ্ছি।

এখানে আমরা যারা সরকারি চাকুরীজীবী  তাদের জীবনমান কোন পর্যায়ে আছে একটু চিন্তা করুণ দয়া করে। আমরা কাউকে পারি না বলিতে,পারি না সহিতে।আমাদের ও পরিবার আছে,সংসার আছে, মা- বাবা আছে,সন্তান আছে সর্বোপরি আছে দায়িবদ্ধতা। অত্যন্ত মানবেতর জীবন -যাপন করছি আমরা( সরকারি চাকুরিজীবী)। যদি রোহিঙ্গা আসার কারণে স্থানীয়দের সমস্যার বিষয়টা অনুধাবন করে স্থানীয়দের জন্য ত্রাণের উদ্যোগ নেয়াটাকে যৌক্তিক মনে করেন তাহলে সরকারি চাকুরীজীবীদের জীবন মান নিরাপত্তার জন্য একটা উদ্যোগ নেয়া কি উচিত নয়? আমরা ও তো মানুষ,আমাদের ও সামাজিকভাবে বেঁচে থাকার অধিকার আছে।ইতোমধ্যে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলা সহ দেশের মোট ষোলটি উপজেলায় ” দ্বীপ ভাতা ” কার্যক্রম এ মাস হতে চালু হলো।

আমরা উখিয়া- টেকনাফের নাগরিকরা প্রত্যক্ষ- পরোক্ষভাবে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি।আমাদের জীবন মানের বিষয়টা ভেবে একটি স্পেশাল ভাতা ( যে নামে হোক) চালু করার উদ্যোগ নিলে মন্দ হতো না।আমি একজন সরকারী চাকুরীজীবী হিসেবে জীবন মান নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন।আমার মতো প্রায় সবাই তার ব্যতিক্রম নয়।উখিয়া-টেকনাফের দুর্যোগের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে একটি স্পেশাল ভাতার উদ্যোগ গ্রহণ করতে  সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সু দৃষ্টি কামনা করছি।

মতামত