ঘোড়ার রক্ত থেকেই সাপের বিষ হতে মানব জীবন রক্ষকারী ঔষধ

এ,বি,এম,নিবিড়, ঢাকা প্রতিনিধিঃ আমরা জানি সাপের কামড়ে হাতিও মারা যায়, কিন্তু মারা যায় না কেবল একটা প্রাণী । প্রাণীটির নাম ঘোড়া। সাপের কামড়ে কোনদিন ঘোড়া মরে না। বড়জোর তিনদিন অসুস্থ থাকে। তারপর সুস্থ হয়ে যায়। আর এই ঘোড়া থেকে আসে দুনিয়ার সব সাপের বিষের প্রতিষেধক “anti venom”.

কোন একটি সাপ, ধরুন কিং কোবরার anti venom তৈরি করতে হলে যা করতে হয় তা হল, ওই সাপের বিষ ঘোড়ার শরীরে ঢুকিয়ে দিতে হয়। একটু বেশি পরিমাণ ঢোকালেও সমস্যা নেই। ঘোড়ার কিছু হবে না। কিছু হবে না বলতে, ঘোড়া মরবে না।ঘোড়া তিনদিন অসুস্থ থাকবে। এরপর সুস্থ হয়ে যাবে। এই তিনদিনে ঘোড়ার রক্তে ওই সাপের বিষের anti venom তৈরি হয়ে যাবে।

এবার ঘোড়ার শরীর থেকে কিছু পরিমাণ রক্ত নিয়ে তার লাল অংশ আলাদা করা হয়। সাদা অংশ অর্থাৎ ম্যাট্রিক্স থেকে অ্যান্টি ভেনাম আলাদা করা হয়। এরপর তা প্রক্রিয়াজাত করে বাজারে পাঠানো হয়। মানুষকে সাপে কামড়ালে সরাসরি সেই ইনজেকশন পুশ করা হয়। ভারতে অনেক অ্যান্টি ভেনাম প্রস্তুতকারক কোম্পানি আছে।

পালের পর পাল ঘোড়া তাদের ঔষধ তৈরীর মূল উপকরন, যা ব্যাতীত আজ অবদি কোন কেমিকেল ব্যাবহারে সাপের বিষ ধ্বংসকারী প্রতিষেধক তৈরী করা সম্ভব হয় নাই, তাই বলা যায় পৃথিবীতে ঘোড়া না থাকলে হয়তো এখন পর্যন্ত সাপের কামড় খেয়ে মানুষের বাঁচার সম্ভাবনা থাকতো না।

মতামত