কুয়াকাটায় পাঁচ লাখ ইয়াবাসহ আটক ২, জিম্মি ১৩ জেলে উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক: কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের ৪৫ কিলোমিটার গভীরে কোস্টগার্ডের অভিযানে পাঁচ লাখ ইয়াবার বিশাল চালান আটক করা হয়েছে। কোস্টগার্ড নিজামপুর, পায়রা বন্দর ও ভোলা জোনের সদস্যরা যৌথ অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার রাতে ইয়াবার এ চালান আটক করে। এ সময় দু’টি ট্রলারসহ মোশাররফ সিকদার (৫০) ও টিপু সিকদার (৩২) নামের দু’জনকে আটক করা হয়। তাদের বাড়ি কলাপাড়ার চাকামইয়া ইউনিয়নের নিশানবাড়িয়া গ্রামে। 

এছাড়াও ইয়াবা বহনকারী নষ্ট ট্রলারটি উদ্ধারের জন্য জিম্মি করা ১৩ জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তারা হলেন- রাসেল, ফেরদৌস, জসিম, বাদল, কবির, আলাউদ্দিন, ইলিয়াস, সোহাগ, ইব্রাহীম প্যাদা, তামিম, মিজান, চানমিয়া, কামাল। বুধবার সকাল ১০টায় নিজামপুর কোস্টগার্ড বিসিজি স্টেশনে কোস্টগার্ডের স্টাফ অফিসার (অপারেশন্স) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম নাজিউর রহমান আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং এসব তথ্য জানান। 

তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসব ইয়াবা জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে। এ ঘটনায় দু’জনকে আটক করা গেলেও মহিপুরের আল-আমিন, জহিরুল, সালাহউদ্দিন, বেল্লাল, ছোহরাব পালিয়ে যায়। আটক মোশাররফ জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, টেকনাফ থেকে পাঁচ লাখ ইয়াবা ট্রলারে লোড করা হয়, যা কুয়াকাটা, মহিপুর-আলীপুর ও কলাপাড়ায় আনলোড করার কথা ছিল। এ ইয়াবা রোববার খালাশ করার কথা থাকলেও মাঝ সমুদ্রে ট্রলারটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এতে ইয়াবা চোরাচালানকারীরা বেকায়দায় পড়ে যায়। এরপর মোশাররফ মহিপুর এসে সুগন্ধা বরফকল সংলগ্ন এলাকায় ভেড়ানো এফবি আলাউদ্দিন নামের ট্রলারের ১৩ জেলেকে নষ্ট হওয়া ট্রলার কিনারে আনার জন্য মোটা অংকের টাকার প্রলোভন দেখায়। কিন্তু ওই ট্রলারটি নিয়ে ইয়াবা বহনকারী ট্রলারের কাছে যাওয়ার পর অস্ত্রের মুখে ১৩ জেলেকে জিম্মি করে মারধর করতে থাকে মাদক ব্যবসায়ীরা। এক পর্যায় জেলেদের ট্রলারের সঙ্গে নষ্ট ট্রলার বেঁধে ফেরার পথে কোস্টগার্ড তাদের ধাওয়া করে। এ সময় ট্রলার চরে আটকে দিয়ে ইয়াবা চালানের মূল হোতা আলআমিনসহ ছয়জন পালিয়ে যায়। 

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম নাজিউর রহমান আরও বলেন, এ ঘটনায় মহিপুর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ইয়াবার চালানের হোতা আলআমিন মহিপুরের আব্দুস সালামের ছেলে। আলীপুরের ইউসুফ কোম্পানির লোকজনও এ চালানোর সঙ্গে জড়িত বলে উদ্ধার হওয়া জেলেরা জানিয়েছে। 

মতামত