বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন চলছে, উপাচার্যের দুঃখ প্রকাশ

অনলাইন ডেস্ক: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনের পঞ্চম দিন শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে জাতীয় সঙ্গীতসহ প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক কর্মসূচি পালন করেন। আন্দোলনের শুরুতে ১০ দফা দাবি জানালেও এখন শিক্ষার্থীরা একদফা হিসেবে উপাচার্যের পদত্যাগ চাইছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২৬ মার্চ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিষয়ে মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন উপাচার্য ড. এসএম ইমামুল হক।

বিভিন্ন জাতীয় দিবসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ করতে না দেওয়া নিয়ে গত ২৬ মার্চ বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে ওই দিন সকালের কর্মসূচি বাতিল করে প্রশাসন। পরে বিকেলে আরেক অনুষ্ঠানে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন উপাচার্য। এ নিয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে হল ও ক্যাম্পাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হলেও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান নেন। তারা সেখানে সঙ্গীত, নাটক ও আবৃত্তির মাধ্যমে ভিসির পদত্যাগ দাবি করেন।

এদিকে শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বাধীনতা দিবসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিবেটিং সোসাইটির অনুষ্ঠানে বক্তব্যের জন্য উপাচার্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে সব শিক্ষার্থীর সহযোগিতাও কামনা করেছেন তিনি।

বিজ্ঞপ্তিতে উপাচার্যের বরাত দিয়ে বলা হয়, ওই বক্তব্যে কোনো শিক্ষার্থী মনে আঘাত পেয়ে থাকলে উপাচার্য সে জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কোনোভাবেই রাজাকার বলেননি।

চলমান আন্দোলনের অন্যতম নেতা ‘৭১-এর চেতনা’র সাবেক সভাপতি ও মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী লোকমান হোসেন সমকালকে বলেন, ‘আমরা উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি, তার পদত্যাগ দাবি করেছি। এখন দুঃখ প্রকাশ করলে আন্দোলন থামবে না’। তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের শুরুতে উপাচার্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা ও হল ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। এতে শিক্ষার্থীরা আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই উপাচার্যকে ক্ষমা চাইতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সুব্রত কুমার দাস সমকালকে বলেন, দুই-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে হল ত্যাগ করেছেন। স্বল্প সংখ্যক শিক্ষার্থী হলে অবস্থান করে বিক্ষোভ করছে। ক্যাম্পাসে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে প্রশাসনের নতুন কোনো নির্দেশনা নেই।

মতামত