নারী ও আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি: ইছমাঈল বকুল

‘বিশ্ব নারী দিবস” বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো  প্রিয় বাংলাদেশে এ দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হবে। ক্ষেত্র বিশেষে সেমিনারে গুরুত্ববহ অতিথিরা  প্রাণভরে নারির অধিকারের আদ্যোপান্ত বর্ণণা করিতে কার্পণ্য করিবেন না।চারদিকে নারির অধিকারের রব উঠবে তাতে কোন প্রকার সন্দেহ নেই।বিশ্বে বাংলার নারির ক্ষমতায়নে বিস্ময় জাগানো এক জ্বলন্ত উদাহারণ।আমাদের রাষ্ট্র নারির অধিকার প্রতিষ্টায় বদ্ধপরিকর তা অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই।ক্ষেত্র বিশেষে পিছিয়ে পড়া নারি জাতিকে এগিয়ে নিতে নারিদের জন্য আলদা জায়গা সংরক্ষিত।

এমন কি মহান জাতীয় সংসদেও তাদের জন্য আসন সংরক্ষিত।যা নারির কল্যাণে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।রাষ্ট্রের সম্ভাব্য সকল ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সুযোগ প্রদানে আগ্রহী হলে ও বাংলার পুরুষ শাসিত সমাজব্যবস্থায় নারিদের মর্যাদা স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দীর দ্বারপ্রান্তে এসে ও সুসংহত নয়। নারির প্রতি একধরণের তুচ্ছ ধারণা এখনো সমাজের প্রায় স্থরে বিদ্যমান।

এখনো তাসফিয়া,তনু,সোনিয়াদের চিৎকারে বাংলার নির্মল আকাশকে কলুষিত করে। তাদের তপ্ত নিঃশ্বাসে বাংলার বাতাস ভারি হয়ে উঠে।এখনো যৌতুকের দায়ে সহস্র ইয়াছমিন বরের ঘরে নিরানন্দ জীবনের দীর্ঘশ্বাসে মানবতাকে ধিক্কার দেয়। কতই নারি এ অসহ্য নির্যাতন সয়তে না পেরে আত্নহত্যা করে তার সঠিক হিসেব রাখার মতো মানসিকতা ও আমাদের সমাজপতিদের নেই।আবার অনেক নারিকে যৌতুকের বলি হিসেবে এসিডে জ্বলসে দেয়া হয়।আবার কাউকে পাষবিক কায়দার মধ্যযুগীয় পন্থায় হত্যা করা হয়।মাঝে মাঝে এ সব খবরের কাগজকে ও ভারি করে তুলে।আজও নারিরা তাদের বাড়িতে,কর্মস্থলে,শিক্ষাপ্রতিষ্টানে বলতে গেলে সর্বত্রে অনিরাপদ জীবনে অনেক ক্ষেত্রে আতংকে কালাতিপাত করে।

একটা মেয়ে নিজের প্রয়োজনে  সকালে ঘর হতে বের হয়ে আবার নিরাপদে বাড়ি ফিরার অপেক্ষা ও আতংকে থাকে তার পরিজন। এটা কোনভাবে কাম্য নয়।কেনো নারির প্রতি এমন হীন মনোভাব তা   বোধগম্য নয়! অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারির প্রতি এধরণের আচরণের কারণটা উদ্ঘাটনে কোন উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণে গড়িমসি করে।কালের যাত্রায় এ রকম হাজারো নারি নির্যাতনের ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যায়।নারির অধিকার প্রতিষ্টার প্রয়োজনে প্রণীত আইনগুলো টেবিলের ফাইলে বন্দি থাকে অন্ততকালের জন্য।

কেন এমন হয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না।আমরা এখনো শিক্ষার প্রকৃত নির্যাস গ্রহণ করে নৈতিকভাবে স্বয়ং সম্পূর্ণ  হতে পারিনি। আমাদের শিক্ষা অনেকক্ষেত্রে জীবিকা নির্ভর।তাই যে করে হোক আমাদের তা অর্জন করিতে পারিলে হলো।তখন সগর্বে গ্রেডে নিভর্র পণের টাকায় পাত্রী সন্ধানে নেমে পড়ি।পাত্রপক্ষের নানা দাবিতে অতিষ্ট কনের পরিজন। এ কেমন সমাজ ব্যবস্থা?যেখানে আমাদের মা- বোনের মর্যাদা নির্ভর করে পণের টাকার উপর।আর কত দিন এভাবে তারা চরম অবহেলার শিকার হবে! বিবেকের তাড়নায় কিছু মানুষ এ সবকে চরম ঘৃণা করে,তা গ্রহণে অনাগ্রহী। তবে তাদের সংখ্য অত্যান্ত নগন্য। এ আমাদের নারির  মর্যাদার প্রকৃত চিত্র।

আমরা কেনো অনুধাবন করি না?নারিরা প্রথমে কারো আদুরে কন্যা হয়ে জম্ম গ্রহণে পিতৃগৃহকে আলোকিত করে,সে ক্রমে হয়ে উঠে কারো ভাইঝি, কারো বোন,কারো নাতনি।ক্রমে সে হয়ে উঠে কারো সহধর্মিণী, হয়ে উঠে মা। এভাবে নারিরা তাদের স্বীয় পরিসরে নানা পরিচয়ে আর নানা  আঙ্গিকে কালাতিপাত করে। নারিদের প্রতি আচরণের ক্ষেত্রে আমরা যদি সচেতন না হয় ততোদিন এ নারি দিবসের চুড়ান্ত প্রাপ্তি অর্জিত হবেনা।আসুন আমারা দৃষ্টিভঙ্গি বদলে পেলি,বদলে যাবে আমাদের সমাজিক দৃষ্টিভঙ্গি,মুক্ত হবে মায়ের সম্মান।প্রতিষ্টা পাবে নারির মর্যাদা।

লেখক, মোহাম্মদ ইছমাঈল বকুল, আহবায়ক গ্রাজুয়েশন ফোরাম, মৌলভীবাজার।

মতামত