বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ ২০ গ্রাম সমন্বয় কমিটির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ॥

মোঃ আফজাল হোসেন ফুলবাড়ী দিনাজপুর প্রতিনিধি।
বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ ২০ গ্রাম সমন্বয় কমিটির এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। গত ১৩ ই ফেব্রুয়ারী বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টায় পূর্বশেরপুর গ্রামে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত ২০ গ্রাম সম্বনয় কমিটির এক আলোচনা সভা মোঃ গোলজার হোসেন পান্নার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন কয়লা খনি এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত ২০ গ্রাম সম্বনয় কমিটির নেতা মোঃ মশিউর রহমান বুলবুল। তিনি আলোচনা সভায় বলেন, ৬ মাসের অধিক হয়ে গেলেও কয়লা লোপাটকারীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তাই কয়লা খনি এলাকাবাসী এবং দেশবাসী চরম ক্ষুদ্ধ হয়েছে। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিটি যখন উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তখনেই খনিটিকে অচল করার জন্য আবারও কতিপয় বদলীকৃত কর্মকর্তারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে ২০১৮ সালের শেষের দিকে কয়লা নিয়ে যখন নানা রকম অনিয়ম দূর্নীতির কথা শোনা যাচ্ছিলো তখনেই সরকার দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বদলী করেন। দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা বদলী হলেও তারা বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিটিকে অচল করার জন্য কলকাঠি নাড়ছেন। বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে অনিয়ম দূর্নীতির মূল ২ হোতা চাকুরীতে বহাল থেকে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন। সরকার বড়পুকরিয়া কয়লা খনিটিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে এগিয়ে নিতে শ্রমিকদের সকল প্রকার দাবী দাওয়া মেনে নিয়ে তাদের পাওনা পরিশোধ করে দেওয়া শুরু করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সালের আগষ্ট মাসে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে ব্যবস্থা পরিচালক (এমডি) মোঃ ফজলুর রহমান যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে তাকে সরানোর জন্য বদলীকৃত ঐ ২ জন কর্মকর্তা ষড়যন্ত্র শুরু করে। এখনও তাদের কয়লা খনি নিয়ে ষড়যন্ত্র বন্ধ হয়নি। বর্তমান বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে কোন অসন্তোষ নাই, শ্রমিক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রেখে এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে খনিটিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে ঐ বদলীকৃত কর্মকর্তারা খনিতে এজেন্ট নিয়োগ করে তাদের মাধ্যমে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। বর্তমান সরকার বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির উত্তর ও দক্ষিন দিকে উন্নয়নের কাজ করছেন। ঐ প্রকল্পের কাজ বন্ধ করার জন্য তারা কয়লা খনিটিকে নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিটির ভবিষ্যত অন্ধকারের দিকে ধাবিত হবে। সরকার খনি ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে খনিটির উন্নয়ন কাজ থেকে যাবে। এতে বিদেশী বিনিয়োগ বন্ধ হয়ে যাবে, অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত ২০ গ্রাম সমন্বয় কমিটির আলোচনা সভায় উন্নয়দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পূর্বশেরপুর গ্রামের মোঃ আহ্সানুল হক হিটলার, মোঃ আবুল হোসেন, কাজীপাড়া গ্রামের মোঃ ফরহাদ হোসেন, পাতিগ্রামের মোঃ মতিয়ার রহমান। এ সময় পূর্বশেরপুর গ্রামের প্রায় দু’শতাধিক নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।

মতামত