স্ব-স্ব দলের সমর্থন পেতে তদবীরে ব্যাস্ত

এন.আই.মিলন, দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা স্বস্ব দলের সমর্থনের প্রত্যাশায় কেন্দ্রে তদবীর ও মাঠে গনসংযোগ চালাচ্ছে। আ’লীগের দন্দকে কাজে লাগাতে চেষ্টা করছেন বিএনপি ও সতন্ত্র প্রার্থীরা।
আসন্ন বীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ১১৫২০৮ জন পুরুষ ও ১১৪২৩৬ জন মহিলা সহ মোট ২২৯৪৪৪ জন ভোটার রয়েছে। এ উপজেলায় এবার আ’লীগের ৩ জন, জাপার ১জন, বিএনপির ১ জন ও জামায়াতের সতন্ত্র প্রার্থী ১ জনের সহ ৬জনের নাম শোনা যাচ্ছে। ২৭ জানুয়ারী রবিবার বীরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য আওয়ামীলীগের উদ্যোগে তৃনমুলের ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। আ’লীগ দলীয় ৪ জন প্রার্থীর মধ্যে তৃনমুলের শান্তিপুর্ন ভোটে বীরগঞ্জ উপজেলা আ’লীগ সভাপতি আলহাজ জাকারিয়া জাকা ১৬২ ভোট পেয়ে প্রথম হন। তার নিকটতম প্রতিদন্ধি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আখতারুল ইসলাম চৌধুরী বাবুল ৮৪ ভোট, বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান সাবেক এমপি আমিনুল ইসলাম ১৪ ভোট ও মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াহেদুজ্জামান চৌধূরী বাদশা ০৬ ভোট পায়। তবে কেন্দ্রীয় নির্দ্দেশে ৩ জনের নাম দলীয় কার্যালয়ে পাঠানোর কথা ঘোষণা করা হলে আলহাজ জাকারিয়া জাকা, আখতারুল ইসলাম চৌধুরী বাবুল ও আমিনুল ইসলাম সহ ৩ জনকেই বুঝায়।
আ’লীগ প্রার্থী- আলহাজ্ব মোঃ জাকারিয়া জাকা ঃ বীরগঞ্জ উপজেলার সুজালপুর ইউনিয়নের মদনপুর গ্রামের সম্ভ্রান্ত মুসলিম ও আওয়ামীলীগ পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। তার পিতা মরহুম হবিবর রহমান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি ছাত্রজীবন হতেই আ’লীগের সংঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০০৫ সালের ১৭ই এপ্রিল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে অদ্যাবর্ধী এ পদে রয়েছেন। তিনি দলের দূ-দিনের বন্ধ,ু সচ্ছ রাজর্নীতিবিদ ও দলের জন্য নিবেদিত প্রান, সৎ ব্যাক্তি হিসাবে সর্বত্রই তার সুনাম রয়েছে। আ’লীগ দলীয় তৃনমুলের ভোটে ১৬২ ভোট পেয়ে তিনি প্রথম হন।
আ’লীগ প্রার্থী- আখতারুল ইসলাম চৌধুরী বাবুল ঃ আখতারুল ইসলাম চৌধুরী বাবুল দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের সাতখামার গ্রামের সম্ভ্রান্ত মুসলিম জন্মগ্রহন করেন। তিনি মরিচা ইউনিয়ন পরিষদ ও বীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ এর সাবেক চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার পিতা মরহুম নুরুদ্দীন আহম্মেদ চৌধুরী বৃটিশ সরকারের আমলে ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ও জুরি সদস্য ছিলেন। তিনি বীরগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আনোয়ারুল হক চৌধুরী ও মরিচা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও মরিচা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক আতাহারুল ইসলাম চৌধুরী হেলালের ভাই। আ’লীগ দলীয় তৃনমুলের ভোটে ৮৪ ভোট পেয়ে ২য় হন। দলীয় প্রার্থী হতে লবিং চালাচ্ছেন।
আ’লীগ প্রার্থী- মোঃ আমিনুল ইসলাম ঃ ১৯৯১ সালে আ’লীগ হতে এমপি নির্বাচিত হয়। ২০০১ সালে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিএনপিতে যোগদান করে পরে এলডিপি, বিকল্প ধারা হয়ে পুনরায় আওয়ামী লীগে যোগদান করে গত উপজেলা নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থীকে হারিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। আ’লীগ দলীয় তৃনমুলের ভোটে ১৪ ভোট পেয়ে ৩য় হন।
বিএনপি প্রার্থী- রেজওয়ানুল ইসলাম রিজু ঃ দিনাজপুর জেলা বিএনপি’র সদস্য বিশিষ্ঠ ব্যবস্যায়ী ও ঠিকাদার সাবেক ভিপি রেজওয়ানুল ইসলাম রিজু আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি’র দলীয় প্রার্থী হতে লবিং চালাচ্ছেন। ইতিপূর্বে তিনি ২বার উপজেলা নির্বাচন করে ১ বার ২য় ও ১ বার ৩য় হয়। প্রতিনিয়োত তিনি নেতা, কর্মি ও ভোটারদের সংঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথেও সখ্যতা বজায় রেখেছেন। তবে বিএনপি এ সরকারের আমলে নির্বাচন বর্জন করলে তিনি সতন্ত্র প্রার্থী হবেন বলে জানা গেছে।
জাপা’র প্রার্থী- হাসান মোঃ নিজামুদ্দৌলা মতি ঃ বীরগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পাটির সভাপতি ও দিনাজপুর জেলা কমিটির যুগ্ন সাধারন সম্পাদক হাসান মোঃ নিজামুদ্দৌলা মতি আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জাতীয় পাটির দলীয় প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করার লক্ষে মাঠে ময়দানে কাজ করে পাটিকে সু সংগঠিত করার কাজ করে যাচ্ছে।
জামায়াত প্রার্থী- ডাঃ কে.এম কুতুব উদ্দিন ঃ তিনি শতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। গত উপজেলা নির্বাচনে তিনি ৩২৫৩৪ ভোট পেয়ে আ’লীগ প্রার্থী আমিনুল ইসলামের কাছে পরাজিত হলে ২য় স্থান দখল করেন। আগামী উপজেলা নির্বাচনেও তিনি জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এর প্রার্থী। তবে সতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করার কথা জানা গেছে।
উল্লেক্ষ, সরজমিন ঘুরে নতুন, তরুন সহ ভোটারেরা জানায় তাদের পাশে দাড়ানোর মতো ও উন্নয়নের স্বার্থে নতুনত্বের সন্ধানে রয়েছে তারা।

মতামত