টেকনাফ হতে কক্সবাজারের পথে: মুহাম্মদ ইছমাইল বকুল (পর্ব-১)

কক্সবাজারে থাকার সুবাদে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার কল্যাণে টেকনাফ সড়কে আমার ব্যাক্তিগত যাতায়তের মাত্রাটা আগের তুলনায় বেড়ে যায়। এ সড়কের চিত্র চিত্রায়ন করা উদ্দেশ্য নয়, যাত্রীদের চিত্র তুলে ধরার মতো যথার্থ পরিসংখ্যন আমার নাগালের বাইরে, সে দিন সকাল নয়টা নাগাদ কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে  সি,এন,জি যোগে একটার পর একটা তাল্লাশি চৌকি কতৃক প্রণীত বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করিতে করিতে কোন এক সময়ে অনেকটা নিজের অজান্তে উখিয়া কলেজের  সামনে এসে পৌঁছাই, এখানে জলপাই রংয়ের আমাদের গর্বিত বাহিনী কতৃক জাতীয় পরিচয়  পত্র (যাত্রীদের) চেকিং প্রক্রিয়া দেখে রীতিমতো বিতৃষ্ণ হয়ে উঠি!

লজ্জিত আমি আমার এ বাহিনীকে এ প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হতে দেখে! অবশ্যই এ প্রক্রিয়ায় ওনাদের আসার আগ্রহ না থাকলে ও আসতে বাধ্য করা হয়েছে।যে সময়ে তাদের শীতকালীন মহড়ায় নিজেদের সম্পৃক্ত করে পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি করে লাল – সবুজ পতাকাধারী এ স্বর্গীয় আবাসটির সার্বভৌম রক্ষায় প্রত্যয়ে থাকার কথা! সে সময়টি তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে রোহিঙ্গা সনাক্তকরণে।

বিস্মিত আমি,লজ্জিত আমি! কী লাভ হলো এ সব আয়োজন করে! দু’ লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প হতে লাপাত্তা, তারা দেশের সর্বত্রে ছড়িয়ে পড়েছে সংক্রামক রোগের মত। অনেকক্ষেত্রে নাগরিকত্ব সনদ ও তাদের  হস্তগত,সে প্রক্রিয়াটি এখন ও চলমান নয় তা অস্বীকার করার প্রয়াস ও নেয়। নিদারুণ সত্যটি ও আমরা স্বীকার করিতে পারি না, আমরা যেন পুকুরের ক্ষীণকায় মাছ কথা বলতে গেলে মুখে পানির উপদ্রব হয়। বস্তুতঃ রোহিঙ্গাদের কারণে কী পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি তা অপরিমেয়। তাদের কারণে আজ বনভুমি উজাড়, ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। যার ভোগান্তির শিকার হবো আমরা।

আমাদের সন্তানের জম্মনিবন্ধন প্রক্রিয়াটা আজ বন্ধ।স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে অভিভাবকরা ভোগান্তির শিকার, অথচ রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা ও পুষ্টি নিশ্চিত করণে কতই না আয়োজন! স্থানীয় কায়িকশ্রমিকদের শ্রমবাজার চরম মন্দা। কারণ রোহিঙ্গারা সস্তা শ্রম দিয়ে শ্রম বাজার নিজেদের করে নিয়েছে,যেহেতু তাদের আয়টা পারিবারিক ভরণপোষণ সাপেক্ষ নয়। ধীরে ধীরে রোহিঙ্গাদের  উচ্ছিষ্ট পণ্যের কল্যাণে বাজারে বাজারে গড়ে উঠেছে লইন্স্যা মার্কেট, মার খাচ্ছে স্থানীয় মুদি দোকানদার গণ। তাদের দেখার কেউ নেয়, তারা তো অপরাধী, তাদের অপরাধ তারা উখিয়া- টেকনাফের স্থায়ী বাসিন্দা।এ সব ভাবনার মাঝেই উখিয়ায় এসে পৌছাঁলাম।কক্সবাজার পৌঁছার বাকি অংশ আগামি পর্বের জন্য তুলে রাখলাম।


[প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। আলোকিত দেশ টুয়েন্টিফোর.কম লেখকের মতাদর্শ ও লেখার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত মতামতের সঙ্গে আলোকিত দেশ টুয়েন্টিফোর.কম-এর সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে।] প্রিয় পাঠক আপনি চাইলে আপনার মূলবান মতামত লিখে আমাদের পাঠাতে পারেন। আমাদের ইমেইল: newsalokitodesh@gmail.com । আপনাদের পাশেই আছে আলোকিত দেশ টুয়েন্টিফোর.কম। ধন্যবাদ।

মতামত