আধুনিক উপজেলা গঠনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবো : গোলাম কিবরিয়া হেলাল

সিলেট প্রতিনিধি : আলহাজ্ব গোলাম কিবরিয়া হেলাল একাধারে একজন রাজনীতিবিদ, সালিশ ব্যাক্তিত্ব এবং ক্রীড়া সংগঠক ও বটে। তিনি ১৯৬০ সালে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার আলীরগাঁও ইউনিয়নের পুরনা নগর গ্রামে এক মুসলিম সম্ভ্রান্ত পারিবারে জন্ম গ্রহন করেন। ছাত্র জীবন থেকেই তিনি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে নেতৃৃত্ব দেন।

বিভিন্ন সময়ে জৈন্তিয়া কেন্দ্রীয় ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্টাতা কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেন। জৈন্তিয়া কলেজ প্রতিষ্টায় ও রয়েছে তার অবদান। তিনি মহকোমা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য ছিলেন। এছাড়াও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব একাধিকবার পালন করেছেন।
তিনি ১৯৭৯সালে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন কালে অনুর্ধ্ব-১৬ গোয়াইনঘাট ফুটবল দল দেশের মধ্যে রানার্সআপ হয়েছিল। এছাড়া ১৯৯৭সালে আলীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০০৩ সালে পুনরায় একই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বচিত হন। ২০০৯ সালে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যনের দায়িত্ব থেকে অব্যহতি নিয়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেন। আওয়ামীলীগ থেকে ৪জন প্রার্থী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করায় ফলাফল তাহার অনুকুলে আসেনি। ২০১৬ সালে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিপুল ভোটের ব্যাবধানে পরাজিত করে তিনি পুনরায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

২০০৪ সাল থেকে অধ্যাবদি পর্যন্ত গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সহিত পালন করে আসছেন। দলীয় কার্যক্রমের পাশাপাশী তিনি আলীরগাঁও কলেজ, গোয়াইনঘাট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, মিফতাউল কোরআন আব্দুল মহল মাদ্রাসার সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। পুকাশ স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্টাতা সভাপতি ও পুর্নানগর নতুন জামে মসজিদের মোতায়াল্লীর দায়িত্বে রয়েছেন। একজন ব্যাবসায়ী হিসেবে সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডস্ট্রি এর এসোসিয়েট মেম্বার রয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেট, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ (কেমুসাস), সিলেট ডায়াবেটিক সমিতি, গোয়াইনঘাট সরকারী কলেজ, রুস্তমপুর কলেজ, আলীরগাঁও কলেজ, গোয়াইনঘাট মডেল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় ও গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবের আজীবন দাতা সদস্য তিনি।

১৭ পরগনা সালিশ সমন্বয় কমিটির সদস্য ও ন্যায় বিচারক হিসেবেও রয়েছে এলাকায় ব্যাপক সুনাম। পাশাপাশি জৈন্তিয়া এলাকার ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলনেও তিনি অগ্রণি ভূমিকা পালন করেন। গত বছরের অক্টোবর মাসে ব্যাক্তিগত সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তিনি দেশে ফিরেন। সে সময়কার বিশাল শো-ডাউনই তাকে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থী হওয়ার আবাস বহন করে।

রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব ও ক্রীড়া সংগঠক গোলাম কিবরিয়া হেলাল দীর্ঘ দিন থেকে নিজেকে মানুষের সেবায় নিয়োজি রেখেছেন। গোয়াইনঘাটের শিক্ষা বিস্তারে তার অবদান অস্বীকার করার নয়। দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ গোয়াইনঘাট উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উপজেলার প্রতিটি গ্রাম, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রমকে প্রসারিত করতে কঠোর পরিশ্রম করেছেন এ নেতা। ফলে উপজেলার প্রতিটি গ্রাম, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে রয়েছেন তার নিজস্ব কিছু মানুষ।
বিশেষ করে বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে উপজেলার প্রতিটি সভা, সমাবেশ ও জনসমাবেশে তার উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যনীয়। দীর্ঘ দিনের সামাজিক কার্যক্রম, দলীয় কার্যক্রম ও ব্যক্তিগত ইমেজকে কাজে লাগিয়ে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন নিয়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে এ উপজেলাটি প্রাধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে চান।
উপজেলা নির্বাচন প্রসঙ্গে আলহাজ¦ গোলাম কিবরিয়া হেলাল বলেন, আজীবন জনগনের সেবা করতে চাই। নিজের সততা ও একান্ত নিষ্ঠার দ্বারা মানুষের কল্যাণে কাজ করে মানুষের মন জয় কওে আসছি। চিন্তা ও ধ্যান ধারনার মাঝে এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের দুঃখ কষ্ট লাঘব করার চেষ্ঠা করছি। উপজেলার উন্নয়নে সবার প্রিয়, গরীবের বন্ধু প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদ এম.পি’র নেতৃত্বে কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, দলের জন্য নিজের জীবন বাজী রেখে হলেও পূর্বের ন্যায় আগামী দিনে ও গোয়াইনঘাট বাসির সর্বস্তরের মানুুষের পাশে থেকে জনগনের কল্যাণের জন্য সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাবো। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সুখ, দু:খে পাশে থেকে তাদের সেবা করে যাবো। এই হোক আমার গোয়াইনঘাট উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের জন্য আগামী দিনের জাতিরজনক শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কণ্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল সোনার বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার।

তিনি আরো বলেন, আমি জয়ী হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মান উন্নয়ন, কিশোর-কিশোরীদের কর্মদক্ষতা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, বাল্য বিবাহ রোধ, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা, রাস্তা-ঘাট উন্নয়ন, মাদক নির্মুলে কার্যকারী ব্যবস্থা গ্রহন, ইভটিজিং নিরসনে কাউন্সিলিং করা, রোডে রোডলাইটের ব্যাবস্থা করবো যাতে করে জনসাধারণ নির্বিঘেœ চলাফেরা করতে পারে।

মতামত