হাটহাজারীর অভিভাবক কি হতে পারবেন আলেম প্রার্থীরা?

হাটহাজারী প্রতিনিধি: হাটহাজারী। বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ একটি নাম। হেফাজতের রাজধানী হিসেবে বেশ আলোচিত। আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য একাদশ জাতীয় নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী, বায়জিদ আংশিক ও তার আশপাশ) আসনে কওমি ঘরণার ইসলামি দলগুলোর তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন মনোনিত ও হাটহাজারীর আলেম ও নাগরিক কমিটি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে বটগাছ প্রতীক নিয়ে মাওলানা মীর ইদরিস, ইসলামী ঐক্যজোট থেকে মিনার প্রতীক নিয়ে মাওলানা মুঈনুদ্দিন রুহী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ রফিক।

এছাড়াও জমিয়তের প্রার্থী হাটহাজারী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা নাছির উদ্দীন মুনীর ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুফতী শিহাবুদ্দীন মনোনয়ন পেয়ে প্রথম দিকে মাঠে থাকলেও শেষ দিকে মাওলানা মীর ইদরীসকে (বটগাছ) সমর্থন জানিয়ে তার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বড় দু’দল আ’লীগ ও বিএনপির পাশাপাশি ইসলামী দলগুলোর প্রার্থীরা ব্যাপক গণসংযোগ চালাচ্ছেন। উঠোন বৈঠক, ঘরোয়া মজলিস ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ভোট চাইছেন। ভোটারদের মন জয় করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

এদিকে হাফেজ্জি হুজুর রহ. প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মীর ইদরিস এক ভিডিও বার্তায় সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত হাটহাজারী গড়ার পাশাপাশি হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশের ঘোষিত ঐতিহাসিক ১৩ দফা বাস্তবায়নে জাতীয় সংসদে ভূমিকা রাখবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

আলেমদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হাটহাজারী আসনে ইসলামী দলের তিনজন প্রার্থী মাঠে থাকায় জনমনে ও ইসলামমনা ভোটারদের মাঝে আলোচনা-সমালোচনা জন্ম নিয়েছে। তাদের দাবী, আ.লীগ ও বিএনপি থেকে দলীয় ও পছন্দসই প্রার্থী মনোনয়ন না পাওয়ায় উভয় দলে মাঠ পর্যায়ে হতাশা ও অনাগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।

হাটহাজারীতে একক আলেম প্রার্থী নির্বাচন করলে বড় দুই দলের ভোট কাজে লাগিয়ে বড় ধরনের জয় আশা করা যেতো। কিন্তু ইসলামি ঘরাণার তিনজন প্রার্থী হওয়াতে প্রত্যেকের জন্য জয়ী হওয়াটা হবে দুঃসাধ্য।

এমন পরিবেশে একাধিক আলেম প্রার্থী কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে বটগাছ প্রতীকে নির্বাচনকারী মাওলানা মীর ইদরীস এই প্রতিবেদককে জানান, হাটহাজারীতে এক টুপিতে নির্বাচন হোক- এজন্য অনেক চেষ্টা-তদবীর করেছি। কিন্তু বিভিন্ন কারণে কাঙ্খিত ফলাফল পাইনি।

তিনি বলেন, হাটহাজারী উলামা পরিষদ, হাটহাজারী নাগরিক কমিটি ও আলেম সমাজ আমাকে অনুরোধ করায় আমি নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তারা আমাকে সহযোগিতা করছেন, আমার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। আমার বিশ্বাস, জনগণ আমাকে নির্বাচিত করবে।

এদিকে ঐক্যজোট প্রার্থী মাওলানা মুঈনুদ্দিন রুহী একাধিক প্রার্থিকে ‘উপভোগ্য’ বলে মনে করেন। তিনি জানান, দেশের অনেক আসনে কোন আলেম প্রার্থী নেই। আর হাটহাজারীতে একাধিক প্রার্থী, এটাতো ভাল দিক। সবার গণতান্ত্রিক অধিকারও আছে নির্বাচনে দাঁড়ানোর।

মাওলানা রুহী মনে করেন, একাধিক আলেম প্রার্থীতে ভোটের মাঠে কোন প্রভাব পড়বে না। তার বিশ্বাস, হাটহাজারী’র সর্বস্তরের জনগণ তার সাথে রয়েছেন এবং তিনি বিজয়ী হবেন।

২৯৯ আসনে প্রার্থী দিয়ে আলোচিত হওয়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাটহাজারীতে মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মাদ রফিক।

একাধিক প্রার্থীর বিষয়ে তিনি বলেন, একক প্রার্থীর বিষয়ে আমাদের কাছে প্রস্তাব এসেছিলো। আমরা সেই প্রস্তাব সাদরে গ্রহণ করে আলেম প্রার্থী হিসেবে মাওলানা হাবীবুর রহমান কাসেমীর প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু লিয়াজু কমিটি মাওলানা কাসেমীকে নির্বাচনে দাঁড় করাতে ব্যর্থ হওয়ায় একক প্রার্থীর বিষয়টি থেমে যায়।

ইঞ্জিনিয়ার রফিক জানান, একক আলেম প্রার্থী দাঁড়ালে আমি তাকে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়াবার ঘোষণাও দিয়েছিলাম। কিন্তু সে প্রক্রিয়া সফল না হওয়ায় কেন্দ্রীয় নিয়মে আমি হাতপাখার প্রতীকে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। রাতদিন গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, সর্বস্তরের জনগণ এমনকি সংখ্যালঘুদেরও সমর্থন পাচ্ছি। আমার বিশ্বাস নির্বাচনী ফলাফলে প্রথম অথবা দ্বিতীয় স্থান থাকবো।

দেশের আলোচিত আসন হাটহাজারীতে জয়ের হাসি কে হাসবে, হাটহাজারীর অভিভাবক আলেম সমাজ হতে যাচ্ছে কিনা তা দেখতে নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

উল্লেখ্য এ আসনে মহাজোট সমর্থিত প্রার্থী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ লাঙ্গল এবং বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট মনোনিত প্রার্থী সৈয়স মুহাম্মদ ইব্রাহিম বীরপ্রতীক ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন।

মতামত