“কানাতার স্বপ্নে- অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী”

“কানাতার স্বপ্নে- অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী” বিজয়ের হাতছানি আমাকে ডেকেছে মেঘের আড়ালে,সেথায় গিয়েছি আমি নভোচারীর বেসে! বজ্র কন্ঠের অমায়িক এক পুরুষ তিনি হলেন আলহাজ্ব অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী। অনেক দিন হল বাড়িতে যাওয়া হয়না,ছুটিও পাচ্ছি না। হঠাৎ করেই কানাতা বলে উঠল। ‘টিকিট কখন কাটবে?’ তারপরের দিনই ছুটি পেলাম বাড়ী যাওয়ার জন্য। কানাতা চুলে চিরুনি চালাতে চালাতে হঠাৎ কন্ঠে অভিমান ঢেলে বলে কানাতা।নাহিয়ান বুক পকেট থেকে টিকিট বের করে কানাতার হাতে দিয়ে বলল:-‘মায়ের জন্য যে শাড়িটা নিয়েছো সেটা অসাধারন,সবুজ পাড়ের শাড়ি মায়ের খুব পছন্দের।”হুম।দেখতে হবেনা শাশুড়িটা কার!’আহ্লাদি গলায় বলে উঠে কানাতা।সন্ধ্যার বাসে চেপে বাড়ি ফেরে দুজন।বিয়ের পর এই প্রথম বেশ উৎসব উৎসব মুখে বাড়ি ফেরে দুজন।বিশেষ করে প্রিয় দলকে ভোট দিতেই তাদের গ্রামে আসা।শপিংমলে গিয়ে ছোট দেবরটার জন্য নেভী ব্লু’র টি-শার্ট আর শ্বাশুড়ির জন্য শাড়ি এসব নিতে নিতে নিজের জন্য কিছুই নিতে পারেনি সেটা নিয়ে তার মোটেও আপসুস নেই,সেই শুরু থেকে শ্বাশুর বাড়ি ভক্ত মেয়েটা। সকাল হতেই রান্না ঘরে ঢু্ঁ মারে কানাতা।কোমরে ওড়না পেঁচিয়ে এটা-ওটা সাজিয়ে রাখে কাঠের তাকে।কাঠের চুলোয় ভাত বসিয়ে ফুঁ দিতে দিতে হাঁফিয়ে উঠে কানাতা।আড়াল থেকে শ্বাশুড়ি কিছুক্ষণ দেখে ঠোঁট চেপে হাসে আর মুগ্ধ হয় বৌয়ের রান্নাঘর ঘোছানো দেখে।আসলেই কানাতা খুব সুন্দর করে রান্নাঘর গুছাতে পারে।রান্নাঘর পেলে সে নাহিয়ানের কথাও ভুলে যায়,এটা নিয়ে নাহিয়ানের যত অভিমান সব ধোঁয়া উঠা চায়ের কাপে উবে যায়।সন্ধ্যায় নামলে জ্যাকেট গায়ে দিয়ে উঠোনে গল্পের আসার জমায় বৌ-শ্বাশুড়ি।পুরো এলাকায় নির্বাচনের আমেজ।প্রতিদিন কেউ না কেউ ভোট চাইতে আসে এটা নিয়ে কানাতা খিল খিল করে হেসে বলে:-আম্মা আপনি আর আমি এক সাথে ভোট কেন্দ্র যাবো।-কি বলো?তুমি কেন যাবা?:-আম্মা আমি তো ভোট দিবো বলেই গ্রামে এসেছি এবার তুমি নিষেধ করিওনা প্লিজ।অকারনে হেসে উঠে শ্বাশুড়ি,কিছু না বুঝে কানাতাও যোগ দিয়ে হাসতে থাকে দুজন।রাস্তা দিয়ে মিছিল যাচ্ছে শুনে কানাতা আসার ছেড়ে দৌড়ে গিয়ে টিনের বেড়ার ফাক থেকে রাস্তার দিকে থাকায়।সামনের সারিতে অধ্যাপক মোঃ আলী স্যারকে নৌকা হাতে জয় ধব্বনি দিতে দেখে মুগ্ধ হয়।মিছিলের ভিতর থেকে কে যেন চিল্লায় উঠে’৩০ তারিখ সারা দিন’বাকিরা এক সাথে বলে উঠে”নৌকায় মার্কায় ভোট দিন”কানাতা মুহুর্তে ফিরে যায় কিশোরি বেলায় নিজের অজান্তে সেও হাত মুষ্টিবদ্ধ করে জয় ধব্বনি দিয়ে বলে উঠে”৩০ তারিখ সারাদিন……..ভোট দিন”২য় বার বলতেই টিনের কোনায় হাত লেগে কেটে যায় কানাতার।

[প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। আলোকিত দেশ টুয়েন্টিফোর.কম লেখকের মতাদর্শ ও লেখার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত মতামতের সঙ্গে আলোকিত দেশ টুয়েন্টিফোর.কম-এর সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে।] প্রিয় পাঠক আপনি চাইলে আপনার মূলবান মতামত লিখে আমাদের পাঠাতে পারেন। আমাদের ইমেইল: newsalokitodesh@gmail.com । আপনাদের পাশেই আছে আলোকিত দেশ টুয়েন্টিফোর.কম। ধন্যবাদ।

লেখকঃ- সোহাগ আমিনুল 

মতামত