সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচনে ১৪ দলকে যে প্রস্তাব দিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট


আলোকিত দেশ প্রতিবেদক •


অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশীদারিত্বমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বুধবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রীসহ ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সংলাপে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা সম্পর্কিত একটি প্রস্তাবনা পেশ করা হয়।

এই প্রস্তাবনা একটি কপি সমকালের হাতে এসেছে, যেখানে নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেওয়া, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, নির্বাচনের সমতল ভূমি বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা এবং নিরপেক্ষ সরকার গঠন করার কথা বলা হয়েছে।

নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেওয়া সম্পর্কে জাতীয় ঐক্যজোটের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ‘সংসদ ভেঙে দেওয়া সংক্রান্ত পরিস্থিতি ও বিধানগুলো সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদে বিবৃত আছে। এছাড়া আমাদের এবং বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠিত সাংবিধানিক প্রথায়ও সংসদের মেয়াদ পূর্তির পূর্বে সংসদ ভেঙে দেওয়ার প্রচুর নজির রয়েছে। বাংলাদেশের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মেয়াদ পূর্তির পূর্বেই সংসদ ভেঙে দেয়া হয়েছিল।’

‘বিদ্যমান সাংবিধানিক বিধান ও প্রথার আলোকে এবং বিশেষত ১২৩(৩) (খ) এর আলোকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নভেম্বরের শেষে অথবা ডিসেম্বর মাসে মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে বর্তমান সংসদ ভেঙে দেয়ার পরামর্শ প্রদান করতে পারেন এবং সেই অনুযায়ী সংসদ ভেঙে দেওয়া সম্পূর্ণ সংবিধানসম্মত হবে। অনুচ্ছেদ ১২৩(৩) (খ) অনুযায়ী উপরে উল্লেখিত পন্থায় সংসদ ভেঙে দেয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন ১১তম সংসদ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করবে। সেক্ষেত্রে সংসদ ভেঙে দেওয়ার তারিখ অনুযায়ী ১১তম সংসদ নির্বাচন ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারির শেষে অথবা মার্চে অনুষ্ঠিত হতে পারে। বিভিন্ন দেশের সাংবিধানিক রীতি অনুসারে সংসদে ভেঙে দেওয়া ও নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্যে প্রায় ৪৫ দিল ব্যবধান থাকা বাঞ্ছনীয়।’

সংসদ ভেঙে দিলে নির্বাচন অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দল ও প্রার্থীর জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে’র একটি বড় শর্ত পূরণ হবে বলেও উল্লেখ করা হয় রূপরেখায়।

নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের বিষয়ে রূপরেখায় বলা হয়েছে, সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশিদারিত্বমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অন্তত আংশিক পুনর্গঠন অত্যাবশ্যক। এছাড়া সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনে নতুন সচিবও নিয়োগ করা প্রয়োজন বলে রূপরেখায় উল্লেখ কর হয়।

নির্বাচনের সমতল ভূমি বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতের জন্য রূপরেখায় খালেদা জিয়ার মুক্তি, নতুন মামলা দায়ের না করা, জামিনের বিরোধিতা না করা, মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা, নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করা, নির্বাচনের সময় বিচারিক ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সংক্রান্ত দায়িত্ব প্রদান করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন সম্পর্কে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের রূপরেখায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলসমূহের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শক্রমে ১০ জন উপদেষ্টা নিয়োগ করবেন। প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে এবং অপর ১০ উপদেষ্টার সমন্বয়ে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠিত হবে। নিরপেক্ষ সরকার সংবিধানের ১২৩(৩)(খ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়ার অনধিক ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করবে। নতুন সংসদ গঠিত হওয়ার পর নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যভার গ্রহণের তারিখে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার বিলুপ্ত হবে।

মতামত