শ্যামনগর-কালিগজ্ঞের পৌরসভা বাস্তবায়ন, সুন্দরবন পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও রেল যোগাযোগসহ রাস্তাঘাটের উন্নয়নে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: গাজী আনিচ


আলোকিত দেশ প্রতিবেদক •


গাজী আনিছুজ্জামান আনিচ। আনিচ নামেই সর্বাধিক পরিচিত। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি। তৎকালীন শ্যামনগর মহসীন কলেজের ছাত্র থাকাকালীন ১৯৯৪ সালের  সম্মেলনের মধ্যমে (ত্রি-বার্ষিক) শ্যামনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হলেও রাজনীতিতে যোগদেন ১৯৯২ সালে। এরপর ১৯৯৬ সালে শ্যামনগর উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে কাউন্সিলের (ত্রি – বার্ষিক) মাধ্যমে উপজেলার কাশিমাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০৩ সালে কাশিমাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০৪ সালে শ্যামনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক কমিটির যুগ্ম আহবায়ক নির্বাচিত হন। ২০০৪ সালে শ্যামনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের  যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে জেলা তরুণ লীগের যুগ্ম আহবায়ক নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের ২৮ শে জুন উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এবং একই বছরে জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য পদ লাভ করেন।এসময় তিনি টানা ৭ বছরের মত দলের দুঃসময়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তৎকালীন তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সামনে থেকে দলকে নেতৃত্বে দেন। ২০০৩ সাল হতে ২০১১ সাল পর্যন্ত তৎকালীন জোট সরকারের আমলে জামায়াত অধ্যুষিত কাশিমাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এবং এটাই ছিল স্বাধীনতা পরবর্তী  প্রথম আওয়ামীলীগের প্রার্থীর চেয়ারম্যান পদে জয়লাভ করা। ইউপি চেয়ারম্যান থাকাকালীন তিনি খুলনা বিভাগের শ্রেষ্ঠ ইউপি চেয়ারম্যান হওয়ার গৌরব অর্জনসহ জাতীয় বিভিন্ন পদকে ভূষিত হন। এরপর ২০১৫ সালে দ্বিতীয় বারের মত পূণরায় বিপুল ভোটে উপ – নির্বাচনে জয়লাভ করেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের এই নেতা আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী।
চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী হয়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে অল্পসংখ্যক ভোটে পরাজয় হয়।

নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তি প্রসঙ্গে “আলোকিতদেশ২৪ ডট কম” কে উপজেলা আওয়ামীলীগের এই নেতা বলেন, আমি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে নিয়ে রাজনীতি করি। এটাই আমার প্রধান পরিচয়। আওয়ামীলীগ ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারে আমার জন্ম। আমি আওয়ামীলীগের ত্যাগী ও প্রবীণ নেতা-কর্মীদের পাশে থেকেছি সব সময়।
২০১৩ সালে জামায়াত-বিএনপির সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত নেতা-কর্মীর পাশে থেকেছি। সকল আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছি। অর্থ ও শ্রম দিয়ে সব সময় খোঁজখবর নিয়েছি, তাদের সাহায্য করেছি। অসহায় মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করেছি। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পাশে ছিলাম ও আছি। শিক্ষার মানোন্নয়নে স্কুল-কলেজে ছুটে গেছি। দলীয় অস্বচ্ছল নেতা-কর্মীদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়েছি। বিপদে-আপদে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছি সব সময়। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে জীবনগড়া বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে সৎ ও পরিচ্ছন্ন নেতা হিসেবে সকলের কাছে সমাদৃত হয়েছি।
আমি মনে করি এসব কারনে জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দেবেন।
দলে বেশ কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাশী আছেন, এটাকে কেন্দ্র করে নেতা-কর্মীদের মধ্যে দূরত্ব বা মতবিরোধ তৈরি হচ্ছে- এমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি দলীয় মনোনয়ন পেলে দলের মধ্যে কোন দ্বন্দ্ব, বিতর্ক বা মতবিরোধ থাকবে না। সকল নেতাকর্মীকে সাথে নিয়ে কাজ করব। ঘুষ, দূর্নীতি ও পুলিশি হয়রানি হতে জনগনকে রক্ষা করব। তাছাড়া আমি তরুণদের প্রতিনিধিত্ব করছি, তাদের ভোট একাদশ নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখবে, তাই আমি আশাবাদী আমি মনোনয়ন পেলে জয় লাভ করবো।

এছাড়া দলীয় মনোনয়ন যেই পাক না কেন আমরা সবাই এক সাথে থেকে কাজ করে তাকে বিজয়ী করবো। নৌকাকে বিজয়ী করে আমরা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আবারও প্রধানমন্ত্রী করবো এবং উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখবো।

দলীয় মনোনয়ন পেলে এবং নির্বাচনে জয়লাভ করলে কোন কাজগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এলাকার মানুষের জন্য আগে করতে চান- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করব, শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ উপজেলা কে পৌরসভায় বাস্তবায়ন করব। আমার নির্বাচনী এলাকা সমুদ্র উপকূলবর্তী। নদী ভাঙন এখানকার একটি বড় সমস্যা। তাই নদী ভাঙন রোধে কাজ করতে চাই। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি মোতাবেক সকল উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করব। যশোর নাভারন থেকে মুন্সিগন্জ পর্যন্ত রেল যোগাযোগ বাস্তবায়ন করা হবে। সুন্দরবনে পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে কাজ করব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়নে অনেক কাজ করেছেন। তাই উন্নয়নে যে বরাদ্দ থাকবে তা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে চাই।

আমার নির্বাচনী এলাকায় অপরুপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি পৃথিবীর বিখ্যাত ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন অবস্থিত। এই সুন্দরবনে দেশি বিদেশী – পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পর্যটন কেন্দ্র তৈরি করব।

এছাড়া গ্রামাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করতে চাই। স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়নের ক্ষেত্র হিসেবে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যসেবা কে আরও আধুনিকায়ন করে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চাই। আমার নির্বাচনী আসন থেকে মাদক নির্মূল করে খেলাধুলার মান উন্নয়নে কাজ করতে চাই।

বর্তমানে কোন সমস্যাটির জন্য আপনার নির্বাচনী এলাকার মানুষ ভোগান্তি পোহাচ্ছে- এমন প্রসঙ্গে গাজী আনিছুজ্জামান আনিচ বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকা যেহেতু সমুদ্র উপকূলবর্তী। এখানে নদীর বেড়িবাধ ভাঙন একটি দীর্ঘ দিনের সমস্যা। কিন্তু আজও সমাধান হয়নি। ফলে প্রতিবছর ভাঙন মৌসুমে আমার নির্বাচনী এলাকা শ্যামনগর – কালিগঞ্জ (আংশিক) সহ পার্শ্ববর্তী আসনেও নদীর ওয়াপদার বেড়িবাধে ভাঙন ধরে। আমি নির্বাচিত হতে পারলে এই সমস্যা সমাধানে কাজ করব।

সাক্ষাৎকালে তিনি প্রতিবেদক কে আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের রাজনীতি করি ছাত্র জীবন থেকেই। নেত্রী যদি আমাকে মনোনয়ন দেন তবে নিজেকে উজাড় করে দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে  জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে আরও শক্তিশালী করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।
সকল বয়সের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য এলাকার আপামর জনসাধারণের আত্মার সাথে মিশে থাকা সদালাপী এই ব্যক্তি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা – ৪ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী।

 

মতামত