অপরূপ সৌন্দর্য্যের নীলাভুমি মৌলভীবাজার জেলার অন্যতম পর্যটন মাধবকুন্ড জলপ্রপাত ও হাকুলুকি হাওর


আব্দুস সামাদ আজাদ, মৌলভীবাজার •


সৌন্দর্য্যের অপরুপ নীলাভুমি মৌলভীবাজার জেলার অন্যতম পর্যটন আকর্ষনীয় স্পট হল মাধবকুন্ড জলপ্রপাত ও হাকুলুকি হাওর যা জেলার বড়লেখা উপজেলাউপজেলায় অবস্থিত ৷

হাকালুকি হাওর বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ হাওর। এর আয়তন ১৮,১১৫ হেক্টর। এটি মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলায়  অবস্থিত । মৌলভীবাজারের বড়লেখা, জুরী, কুলাউড়া এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলায় এর বিস্তৃতি। ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের কারণে উজানে প্রচুর পাহাড় থাকায় হাকালুকি হাওরে প্রায় প্রতি বছরই আকষ্মিক বন্যা হয়। শীতকালে এ হাওড়কে ঘিরে পরিযায়ী পাখিদের বিচরণে মুখর হয়ে উঠে গোটা এলাকা। বর্ষাকালে বিস্তৃত জলরাশি এ হাওরের রূপ ঠিক যেন ভাসমান সাগর।

আদিগন্তু বিস্তৃত জলরাশি। জলের মাঝে মাঝে দুই-একটি বর্ষীয়ান হিজল, তমাল বৃক্ষ। অথচ শীতকালে বিস্তৃত এই হাওর ধু-ধু সবুজপ্রান্তর, কোথাও বা ধান ক্ষেত এবং খানাখন্দ নিচু ভূমিতে প্রায় ২৩৮ টি বিলের সমষ্টি। হাকালুকি হাওর মাছের জন্য প্রসিদ্ধ। হাকালুকি হাওর বাংলাদেশের সংরক্ষিত জলাভূমি। শীত মৌসুমে এশিয়ার উত্তরাংশের সাইবেরিয়া থেকে প্রায় ২৫ প্রজাতির হাঁস এবং জলচর নানা পাখি পরিযায়ী হয়ে আসে। এছাড়া স্থানীয় প্রায় ১০০ প্রজাতির পাখি সারাবছর এখানে দেখা মেলে। হাওরে প্রায় ২৩৮টি বিল রয়েছে। বিলগুলিতে প্রায় সারাবছর পানি থাকে। হাওরের জলরাশির মূল প্রবাহ হলো জুরী ও পানাই নদী।

এই বিলগুলি মৎস্য সম্পদের আধার। বছরে প্রায় ২৫০০টন মাছ উৎপাদন হয়। তবে যথেষ্ট ভাবে মাছ ধরার কারণে দেশী জাতের রানী, তুরাল, রাঁচি, বাতাসি, গলদাচিংড়ি, বাঘমাছ, চিতল ইত্যাদি মাছ আর এখন হাওরে পাওয়া যায় না। হাওরে শীতকালে আগমন ঘটে অতিথি জলচর পাখির। গত শীত মৌসুমে ৪৮ প্রজাতির প্রায় ১ লাখ পাখি আসে। এসব অতিথি পাখির মধ্যে ভূতি হাঁস, গিরিয়া হাঁস, ল্যাঞ্জা হাঁস, বালি হাঁস, গুটি ঈগল, কুড়া ঈগল, রাজ সরালি, পান ভুলানি, কাস্তেচড়া, পানকৌড়ি. বেগুনী কালিম, মেটেমাথা টিটি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। হাওর এলাকায় বিল ইজারাদারদের দোচালা কুটিরগুলোয় দু‘চারজন পর্যটক থাকার জন্য চমৎকার। তবে অবশ্যই বিল মালিকের অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। সবচেয়ে ভালো হয় বিল এলাকায় তাঁবু ফেলে রাত্রি যাপন। জোছনা রাতে তাঁবুতে যাপন, পাখি পর্যবেক্ষণ যে কোনও অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় পর্যটককে বিমোহিত করবে।

যেভাবে যাবেনঃ
 ঢাকা-বড়লেখা বাস ভাড়া (৩০০-৫০০) টাকা, বড়লেখা থেকে লোকাল সি,এন,জি করে কানোনগো বাজার জনপ্রতি ভাড়া ২০ টাকা, কানোনগো বাজার থেকে লোকাল সি,এন,জি করে কুটাউরা বাজার জনপ্রতি ভাড়া ১৫ টাকা, কুটাউরা বাজার থেকে পাখি দর্শন টাওয়ার সি.এন.জি রিজার্ভ ৫০-৮০ টাকা, অথবা পায়ে হেটে যেতে পারেন রাস্তার শেষ সিমান্তে পাখি দর্শন টাওয়ার। বিকেল বেলা আসার পথে হাল্লা গ্রামের মরহুম মনোহর মাষ্টারের বাড়ি (পাখি বাড়ি) ঘুরে দেখতে পারেন অজশ্র পাখীর অভ্যাশ্রম৷ যেখান থেকে উপভোগ করতে পারেন হাকালুকির সৌন্দর্য৷ আপনি চাইলে ঢাকা থেকে রাতের ১১.০০ বাসে এসে সারাদিন মাধবকুন্ড ,খাসিয়া পল্লি ,মুনিপুরি তাঁতশিল্প ,চা_বাগান ,হাকালুকি ঘুরে আবার রাতের বাসে ঢাকা চলে যেতে পারবেন৷ভোর সকালে হোটেল উঠে কিছু সময় বিশ্রাম, বিকেল থেকে রাত্রে বাস ছাড়ার পূর্ব সময় পর্যন্ত থাকতে পারবেন ভাড়া ১০০-২০০ টাকায় হবে মধ্যে ৷
মতামত