সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চলছে শোকরানা মাহফিল


আলোকিত দেশ প্রতিবেদক •


মাহফিলে যোগ দিতে সকাল থেকে দলে দলে কওমি মাদ্রাসার আলেম-ওলামা ও শিক্ষার্থীরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জড়ো হয়— ছবি সংগৃহীত

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শোকরানা মাহফিল শুরু হয়েছে। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে রোববার সকাল ৯টায় মাহফিল শুরু হয়।

কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে স্নাতকোত্তরের সমমান দেওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে কওমি মাদ্রাসাগুলোর সর্বোচ্চ সংস্থা ‘হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’র ব্যানারে এই শোকরানা মাহফিল হচ্ছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে আছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

হেফাজতে ইসলামের আমির ও আল হাইয়াতুল উলা লিল জামিয়াতুল কওমিয়ার চেয়ারম্যান আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সভাপতিত্বে চলমান শোকরানা মাহফিলে যোগ দিতে কওমি মাদ্রাসার আলেম-ওলামা ও শিক্ষার্থীরা ভোর থেকেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জড়ো হতে থাকেন। এতে কওমি মাদ্রাসার আলেম-ওলামা ও শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে উদ্যান এলাকা।

হাইয়াতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়ার কো-চেয়ারম্যান মাওলানা আশরাফ আলী সমকালকে জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দাওরায়ে হাদিসের সনদকে স্বীকৃতি দিয়ে কওমি মাদ্রাসার লাখো শিক্ষার্থীর প্রাণের দাবি পূরণ করেছেন। মাহফিল থেকে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হবে।

আয়োজক সূত্র জানিয়েছে, মাহফিল থেকে তিনটি দাবি জানানো হবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে। এগুলো হলো কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করা, আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার ও ‘ইসলামবিরোধী’ শক্তিকে প্রতিহত করা।

এদিকে, এ অনুষ্ঠানের কারণে চলমান জেএসসি ও জেডিসির রোববারের পরীক্ষা পেছানো হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, মাহফিলের কারণেই এ সিদ্ধান্ত। এছাড়া এদিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের চারপাশের সড়কে যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। শাহবাগ থেকে মৎস্য ভবন সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

দীর্ঘ চার দশক দাওরায়ে হাদিসের সনদের স্বীকৃতি দাবি করছেন কওমির শিক্ষার্থীরা। ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় এ দাবিতে তারা রাজপথে নামেন। তবে বিএনপি দাবি পূরণ করেনি। ক্ষমতা ছাড়ার কয়েক দিন আগে ২০০৬ সালের অক্টোবরে স্বীকৃতির প্রজ্ঞাপন জারি করে। কিন্তু আইন না করায় তা কার্যকর হয়নি।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর কওমি শিক্ষাকে স্বীকৃতি দিতে ২০১২ সালের ৫ এপ্রিল আহমদ শফীকে চেয়ারম্যান করে কমিশন করে। পরের বছর ২০১৩ সালে হেফাজতের ১৩ দফা নিয়ে সরকারের সঙ্গে তাদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। ওই বছরের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনায় সম্পর্কের আরও অবনতি হয়।

আওয়ামী লীগ দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর স্বীকৃতির বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। গত বছরের এপ্রিলে স্বীকৃতির প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। দাওরায়ে হাদিসকে আরবি সাহিত্য ও ইসলাম শিক্ষায় মাস্টার্সের সমমান দিয়ে গত ১৯ সেপ্টেম্বর সংসদে আইন পাস হয়। আহমদ শফীকে চেয়ারম্যান করে গঠিত আল হাইয়াতুল উলা লিল জামিয়াতুল কওমিয়ার অধীনে সনদ দেওয়া হবে।

মতামত